প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   প্রকৃত ইসলামের বিয়ে এবং বর্তমানের...

প্রকৃত ইসলামের বিয়ে এবং বর্তমানের বিকৃতিসমূহ

১৪ জুন ২০১৫ ১১:৪১ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

আফরোজা শবনম:

ইসলামে নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়ে হোচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা। বিয়ে পুরুষ ও নারীর মাঝে সামাজিক পরিবেশে ও সমর্থনে শরীয়ত মোতাবেক অনুষ্ঠিত এমন এক সম্পর্ক, যার ফলে দু’জনে একত্রে বসবাস ও পরস্পরে দাম্পত্য সম্পর্ক ও সন্তান উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বৈধ হয়ে যায় এবং পরস্পরের উপর অধিকার ও দায়িত্ব কর্তব্য অবশ্য পালনীয় হয়ে দাঁড়ায়।

রাসুলাল্লাহ বলেন আল্লাহ “দাম্পত্য সম্পর্ককে নৈকট্য ও আত্মীয়তার মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ কোরেছেন এবং এটাকে অবশ্যকীয় বিষয় কোরেছেন যার কারণে আত্মীয়তার বন্ধন মজবুত হয়। সমগ্র মানব মানবীর মধ্যে এই বিষয়ে আকর্ষণ ও অনুরাগকে সহজাত কোরেছেন এবং বংশের দ্বারা সম্মানিত কোরেছেন”। এ প্রসঙ্গে সুমহান আল্লাহ বলেন: “তিনি সেই সত্তা যিনি অপবিত্র পানি হতে মানুষ সৃষ্টি কোরেছেন এবং বৈবাহিক সম্পর্ককে বংশও আত্মীয়তার অন্যতম মানদণ্ড নির্ধারণ কোরেছেন। আর আপনার প্রতিপালক প্রবল পরাক্রমশালী (সুরা ফোরকান ৫৪)।
ইসলামে বিয়ের শর্ত মূলত তিনটি। প্রথমতঃ ছেলে এবং মেয়ে দু’জন দু’জনকে অবশ্যই পছন্দ হতে হবে। সাক্ষী থাকবে দু’জন এবং মেয়েকে দেনমোহর দিতে হবে। ছেলের সামর্থ অনুযায়ী যে দেনমোহর দিতে সক্ষম তা মেয়ে যদি মেনে নেয় তাহোলেই হবে ইসলামের বিয়ে। কিন্তু আমরা যদি সমাজের দিকে তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাই যে, ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের সমাজে একজন পাত্রের অবিভাবক কোরবানির হাটের গরুর মত পাত্রের দাম হাকেন। যে যত দাম বেশি দিবে বিয়েটা শেষ পর্যন্ত সেখানেই হয়। এখানে অবিভাবকরা পাত্র পাত্রীর পছন্দ অপছন্দের মূল্যায়ন করে না। আর মেয়ের অভিভাবকরা একটা মেয়েকে পার করার জন্য পাত্র পক্ষের চাহিদা পূরণ করার জন্য সাধ্যের বাইরে চেষ্টা করেন, অনেক সময় দেখা যায় পাত্র পক্ষের এই চাহিদা পূরণ করার জন্য জায়গা-জমি, সহায়-সম্পত্তিও বিক্রি কোরতে হয়। তারপরও যদি শ্বশুর বাড়ির নির্যাতন থেকে নিস্তার পাওয়া যেত! নববধূর হাতের মেহেদীর রং মুছতে না মুছতেই শুরু হয় নতুন উৎপীড়ন। প্রতিদিন যৌতুকের বলী হোচ্ছেন হাজার হাজার নারী, কাউকে আত্মহত্যা কোরতে বাধ্য করা হোচ্ছে। কতগুলো ঘটনা আমরা জানি আর কতগুলো ঘটনা আমাদের অজানাই থেকে যায়।
আমরা যদি মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর দিকে তাকাই তাহোলে আমাদের উপমহাদেশের বিপরীত চিত্র দেখতে পাবো। সেখানে পাত্রীর অভিভাবকরা মোটা অংকের দেনমোহর হাঁকেন, যা একজন পাত্রের সাধ্যের বাইরে। তাই সেখানে একজন ছেলে বিয়ে করার আগেই প্রৌঢ়ত্বে পদার্পণ করেন, অনেকে বিবাহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, অনেকে তাদের চাহিদা পূরণ কোরতে হয় আরব উপমহদেশের বাইরে গিয়ে অবৈধ উপায়ে।
পাশ্চাত্য সমাজের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, সেখানে নারী পুরুষরা বিয়েকে একটা বোঝা হিসাবে মনে করে। ওদের দর্শন হল, অর্থ উপার্জন করো এবং যত পারো ভোগ করো। যতদিন যৌবন থাকে এই দর্শনে তারা বিশ্বাসী থাকে, পরে যখন জীবন বার্দ্ধক্যের দিকে ঝুঁকতে থাকে এই দর্শনের প্রতি আস্থাও কমতে থাকে, লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ পড়ে অনিশ্চয়তায়। কোন পরিবার নেই, মনের ভাব আদান-প্রদান করার কেউ নেই। প্রচণ্ড হতাশায় দিন কাটাতে হয়। এই হতাশা কাটাতে নির্ভর কোরতে হয় মাদকের উপরে, জীবনের উপার্জিত সম্পদ ব্যয় হতে থাকে মাদক আর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। একসময় অনেকগুলি জারজ সন্তান দুনিয়াতে রেখে হাসপাতালে বা বৃদ্ধাশ্রমে প্রাণত্যাগ করে। ইদানিং তো এই বিয়ে ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি অন্যদিকে গড়িয়েছে। সেটা হোচ্ছে সমকামীতা যা কিনা পশুও পশুর সঙ্গে করে না। কী জঘন্য, কী ভয়াবহ, কী নিকৃষ্ট! অথচ এই সমকামীতা অনেকগুলি উন্নত (!) দেশে আইনসিদ্ধ।
হিন্দু শাস্ত্রে বিয়েটা এমনই জটিল যে আধুনিক ভারতীয় হিন্দুরাও পুরাতন ধ্যান ধারণা ছুঁড়ে ফেলে পাশ্চাত্যের ‘অবাধ বা ফ্রি-সেক্স’ জীবনদর্শনে প্রভাবিত হয়ে পড়ছে এবং বিয়েকে ‘তথাকথিত’ ‘প্রথাগত’ ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত কোরছে।
পুরুষের বহু বিবাহের প্রয়োজনীয়তা
আধুনিক নারীরা পুরুষের বহু বিবাহের ব্যাপারটি মানতে রাজি না, তারা মনে করে ইসলাম এই অপমানজনক পুরুষতান্ত্রিক প্রথাটিকে নারীর উপরে চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর জনসংখ্যা জরিপে দেখা যায় যে পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যা অনেক দেশেই বেশি। এখন একজন পুরুষ যদি একটি বিয়েই করে তাহোলে বাদবাকী নারীদের কি হবে? হয় তাদের বিয়ে ছাড়া জীবন কাটিয়ে দিতে হবে, না হয় অবৈধ পথ বেছে নিতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, সংসারের আশ্রয় না পাওয়ায় সমাজই তাকে বাধ্য করবে ‘অসতী’ হতে। তার চেয়ে কি ভাল নয় যৌথ পরিবারে ঐক্যবদ্ধভাবে অন্য নারীর সঙ্গে স্ত্রীর অধিকার ও সম্মান নিয়ে সহমর্মী হয়ে বসবাস করা? এতে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেলো, একাকীত্ব দূর হোল, জীবনের অবলম্বনও হোল, অবিচার অনাচারের পথও রুদ্ধ হোল।
তাছাড়া একজন পুরুষের স্ত্রী যদি সন্তান ধারণে অক্ষম হয়, তখনও তার স্বামী কি আরেকজন স্ত্রী গ্রহণ কোরতে পারবে না? অথবা প্রথমা স্ত্রী অসুস্থ হোলে তখন সেই পুরুষ কি দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে পরিবারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবে না? মহান আল্লাহর দেওয়া কোন বিধানই একপেশে বা অন্যায় হতে পারে না, আল্লাহর সকল বিধান হোচ্ছে চূড়ান্ত ন্যায় ও ভারসাম্যে পূর্ণ এবং প্রাকৃতিক। অনেকেই আমরা মনে করি, পুরুষের বহু বিবাহ কেবলমাত্র পুরুষেরই প্রয়োজনে, কিন্তু আসলেই কি তাই? একাধিক নারী একটি সংসারে যদি সহোদরার ন্যায় অবস্থান কোরতে পারেন, সন্তানদেরকে মানুষ করার ক্ষেত্রে, পারস্পরিক সেবাযতেœ এবং সংসারকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে তারা কেমন অবদান রাখতে পারেন, তা কি ভেবে দেখেছেন?
বর্তমানে আমাদের সমাজে একটা বিয়ে মানেই পাত্র এবং পাত্রী উভয় পক্ষের অর্থের অপচয়। অথচ রসুলাল্লাহর আদরের মেয়ে জান্নাতের রানী ফাতেমাকে (রা:) বিয়ে দিলেন তাঁর চাচাতো ভাই আলীর (রা:) সঙ্গে। বিয়ে ঠিক হবার পর রসুলাল্লাহ আলীকে (রা:) জিজ্ঞাস করলেন তার কাছে কি আছে? আলী (রা:) জবাব দিলেন টাকা পয়সা কিছুই নেই। থাকার মধ্যে আছে একটি ঘোড়া, একটি তলোয়ার আর একটি লোহার বর্ম। মহানবী তাকে বোললেন, ‘আর যখন কিছুই নেই তখন বর্মটি বন্ধক দিয়ে টাকা নিয়ে এসো।’ তাই করা হোল এবং ঐ টাকা দিয়ে বিয়ের খরচ চালানো হোল। এবং দেনমোহর হোল চারশত মিসকাল রূপা। আরেকটি উদাহরণ দিই। একজন সাহাবীর বিয়ের প্রশ্ন উঠলে রসুলাল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস কোরলেন, ‘দেন মোহর দেওয়ার মত তোমার কি আছে?’ সাহাবী বোললেন, ‘আমার কোন কিছুই তো নেই।’ রসুলাল্লাহ জিজ্ঞেস কোরলেন, ‘তুমি কি কোর’আনের কোন আয়াত জানো?’ সাহাবী বোললেন, ‘হ্যাঁ। আমি কোর’আনের এতগুলি আয়াত জানি।’ রসুলাল্লাহ বোললেন, ‘তোমার দেনমোহর হচ্ছে তুমি এই আয়াতগুলি তোমার স্ত্রীকে শিক্ষা দিবে।’ তখন এভাবেই বিয়ে হোল।
পাঠকগণ একটু চিন্তা করে দেখুন ইসলামের বিয়ে কত সাধারণ ও সহজ! আল্লাহর রসুল কি পারতেন না তাঁর আদরের কন্যার বিয়ে অতি জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিতে। কিন্তু প্রকৃত ইসলাম বর্তমান সমাজের এই অপচয় মোটেও সমর্থন করে না। আরেকটি প্রতারণামূলক ও দুঃখজনক ব্যাপার হোচ্ছে আমাদের সমাজে মোটা অংকের টাকা দেনমোহর হিসাবে ধার্য করা হয় কিন্তু সেই দেনমোহরের টাকা স্ত্রীকে জীবনেও আর পরিশোধ করে না অথচ দেনমোহরের টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত— স্ত্রী কোন পুরুষের জন্য বৈধ হয় না। তাই আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে বোলেছেন “স্ত্রীদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান কর। অবশ্য তারা নিজেরা যদি খুশিমনে মোহরের কিছু অংশ মাফ করে দেয়, তবে তা তোমরা সানন্দে গ্রহণ কোরতে পার (সুরা নিসা-৪)। পাঠকগণ, আয়াতটি লক্ষ্য করুন। মোহরানার টাকা অবশ্যই আদায় কোরতে হবে। তারপর স্ত্রী যদি সন্তুষ্টচিত্তে কিছু অংশ ক্ষমা করে দেয় তাহলে গ্রহণ কোরতে পারবে। অথচ আমাদের পুরুষ সমাজ বিশাল অংকের টাকা মোহরানা প্রদানের শর্তে বিয়ে করে কিন্তু পরিশোধ করেন না, বিবাহিত জীবনের শুরুতেই “মোহরানার টাকা মাফ করে দাও” বলে আজীবন স্ত্রীর কাছে ছোট হয়ে থাকে। কারণ যদি কোন কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যায় ঐ মোহরানার টাকা তাকে তখন বাধ্য হয়ে পরিশোধ কোরতে হবে, যার সামর্থ্য অনেক সময়ই স্বামীর থাকে না।
বর্তমানে সারা পৃথিবীতেই রেওয়াজ প্রচলিত আছে যে, পাত্রীকে অবশ্যই পাত্রের চেয়ে বয়সে ছোট হতে হবে। এই ধারণা ইসলাম সমর্থন করে না। রসুলাল্লাহর প্রথমা স্ত্রী আম্মা খাদিজা রসুলাল্লাহর চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের বড় ছিলেন। আমাদের সমাজে কোন ছেলে যদি বয়সে বড় কাউকে বিয়ে করে তাকে কেউ সহজে মেনে নিতে পারে না। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বোলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ‘আইয়্যিম’ তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দাও (সুরা নূর ৩২)।’ আইয়্যিম বোলতে যে প্রাপ্তবয়ষ্কা নারীর স্বামী নেই বা যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের স্ত্রী নেই, সে কুমারী, অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত, বিধবা বা বিপত্নিক যাই হোক না কেন। এখানে আল্লাহ কোন বয়সের সীমারেখা দেন নি।
আমাদের সমাজে বিধবা অথবা তালাক প্রাপ্ত মহিলাকেও কেউ বিয়ে কোরতে চায় না, এবং বিধবা তালাকপ্রাপ্ত মহিলা আজীবন কষ্টে দিন পার করেন কিন্তু বিয়ে করেন না, কিন্তু ইসলামে এই ধারণা সমর্থন করে না। আমাদের সমাজে কোন বিধবা তালাকপ্রাপ্ত মহিলাকে কেউ বিয়ে কোরলে তার পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই মেনে নেয় না। অথচ ইসলামে বিধবাদেরকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেওয়া হোয়েছে, বিয়ের জন্য অনেক সময় আপন সন্তানদের মাধ্যমেও প্রস্তাব পাঠানো হোয়েছে। ইসলাম কোন পুরুষ বা নারীর নিঃসঙ্গ থাকা সমর্থন করে না। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ অবিবাহিতভাবে থাকলে সমাজে অপরাধ বিস্তারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, পাশাপাশি তারা সমাজের একটি বোঝাতেও পরিণত হয়। বর্তমান সমাজেই এর ভুরি ভুরি প্রমাণ পাওয়া যায়। এখন সময় এসেছে আমাদের সমাজের প্রচলিত এই ভুল ধারণাগুলো থেকে বেরিয়ে আসার।
আল্লাহর দেওয়া ন্যায়-নীতিতে পূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ, শান্তিময় জীবনবব্যস্থাকে নির্বাসন দিয়ে দাজ্জাল আজ এমন এক সভ্যতা কায়েম কোরেছে যা পুরো মানবজাতিকেই ভারসাম্যহীন করে ফেলেছে। মানুষ শুধুমাত্র জাতীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবেই চরম অশান্তিতে নেই বরং ব্যক্তি-জীবনেও ভয়াবহ দুর্বিসহ জীবন অতিবাহিত কোরছে।
আল্লাহর দেওয়া বিয়ের ব্যবস্থা ও পারিবারিক জীবনযাপন পদ্ধতি পরিহার করে কোথাও যৌতুকের বিয়ে, কোথাও Live together, কোথাও সমকামীতা, কোথাও বহুবিবাহের নামে যথেচ্ছাচার করা হোচ্ছে। পরিণতিতে সারা দুনিয়াতেই মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন সাংঘাতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হোয়েছে। কিছুদিন আগেও দাদা-দাদী, নানা-নানীরা বার্ধ্যক্যে এসে নাতি, পুতি, সন্তান, প্রতিবেশীদের মধ্যে আনন্দে, গল্পে জীবন অতিবাহিত কোরত, বয়স্ক হিসাবে সকলে তাদের শ্রদ্ধা কোরত, যে কোন খানাপিনা, পোশাক আশাক আগে বয়স্কদের দেওয়া হোত, যে কোন কাজ শুরুর আগে তাদের থেকে দোয়া আশীর্বাদ নেওয়া হোত, ফলে ঐ তারা নিজেদেরকে সম্মানিত বোধ কোরতেন। তারা মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল উঠতো, শোকের পরিবেশ বিরাজিত থাকতো অনেকদিন। তার আত্মার মাগফেরাতের জন্য মিলাদ, দরিদ্র মানুষকে আহার করানো ইত্যাদি অনুষ্ঠান হোত।
কিন্তু আজ সর্বত্র বিপরীত চিত্র। সন্তানরা অল্প বয়স থেকে বাবা-মাকে উপেক্ষা কোরতে আরম্ভ করে। পাঠবইয়ের সিলেবাসে কোথাও আদব কায়দা না শেখানোয় নতুন প্রজন্ম হয়ে উঠছে বে-পরোয়া। বৃদ্ধরা এ সমাজে Old fool. যারা আরও আধুনিক তারা বাবা-মাকে নির্বাসন দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম নামের কারাগারে। বৃদ্ধাশ্রম তো পরিবার নয়, সেখানকার কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব থাকতে পারে ভালোবাসা নেই। সরকার এই বৃদ্ধদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বার্দ্ধক্য ভাতা হিসাবে ২০০/৩০০ টাকা কখনও সখনও দিতে পারে, কিন্তু সেই টাকায় কোন মমতা বা শ্রদ্ধার স্পর্শ থাকে না, তাকে শুধুই অবহেলা।
দরিদ্র বাবা-মাকে ফেলে বহু শিক্ষিত, উপার্যনক্ষম সন্তান যার যার পথ বেছে নিচ্ছে। এমন দৃশ্য আমরা প্রায়ই দেখি যে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে ঘর্মাক্তে কলেবরে রিক্সা চালাচ্ছেন একজন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ আর তার রিক্সায় বসে শীস দিয়ে গান গাইছে নতুন প্রজন্মের ‘শিক্ষিত’ যুবক। জিজ্ঞেস কোরলে জানতে পারবেন ঐ বৃদ্ধেরও আছে জোয়ান ছেলে মেয়ে। এই বৃদ্ধ একদিন সেই ছেলেমেয়েদের অজ্ঞাতেই হয়তো দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন। তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বোলবে, বুড়ো মরে বাঁচলো।
আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রত্যাখ্যানের জন্য কী কঠিন মূল্যই না দিয়ে যাচ্ছে মানবজাতি, কিন্তু বুঝতে পারছে না কোথায় তাদের গলদ। এখন সেই গলদ শোধরানোর একটি সুযোগ এসেছে। যামানার এমাম, হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে আল্লাহ দয়া করে সেই হারিয়ে যাওয়া ইসলামের আকিদা বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং আল্লাহ মো’জেজা ঘটিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে অচিরেই সেই তওহীদ ভিত্তিক সত্যদীন প্রতষ্ঠিত হোয়ে দুনিয়াকে একটি জান্নাতের বাগানে পরিণত কোরবে।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর
মাদারীপুর সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে…
 ১৪ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আজ কারখানার…
 ৭ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ও প্রতিবেশীদের চারজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২০…
 ২০ জুন ২০২৬    ঢাকা

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ঢাকার শহীদ নূর হোসেন জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শিহান হুমায়ুন কবির জুয়েল মেমোরিয়াল ৫ম কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এ স্বর্ণপদক জিতেছেন পটুয়াখালীর মেয়ে নুর-ই-জান্নাত। শুক্রবার (১৯…
 ২০ জুন ২০২৬    বরিশাল

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে শওকত সরদারকে সভাপতি, সোলায়মান পলাশকে সাধারণ সম্পাদক…
 ১৯ জুন ২০২৬    জাতীয়

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের সাফল্য কামনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলমের সুস্থতা কামনায় আলোচনা ও দোয়া…
 ১৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং কার্যকর হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ এলাকায় অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট…
 ১৮ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার জগতপুর…
 ১৮ জুন ২০২৬    চট্টগ্রাম

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের বাজার। আজ…
 ১৮ জুন ২০২৬    অর্থনীতি

নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত…
 ১৮ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

নোয়াখালীতে বীর বিক্রম আবদুল মালেকের পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

নোয়াখালীতে বীর বিক্রম আবদুল মালেকের পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক বীর বিক্রমের পরিবারের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এই…
 ১৭ জুন ২০২৬    চট্টগ্রাম

এআইয়ের প্রভাব: চাকরির বাজারে মূল্যহীন ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন

এআইয়ের প্রভাব: চাকরির বাজারে মূল্যহীন ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে চীন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১২ হাজার কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক ডিগ্রি বাতিল করেছে। দেশটি এখন প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক…
 ১৭ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

প্রথমবার ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

প্রথমবার ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর সভাপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা…
 ১৭ জুন ২০২৬    জাতীয়

আদিতমারীতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন

আদিতমারীতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নন্দিনী (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী…
 ১৬ জুন ২০২৬    রংপুর

কোরআনের প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান মুসলিম বিশ্ব

কোরআনের প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান মুসলিম বিশ্ব
বর্তমান মুসলিম বিশ্বের এই করুণ পরিণতি কোনো নিয়তির নির্মম পরিহাস নয়, বরং তা আল্লাহর বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়ারই অবশ্যম্ভাবী ফসল। আমরা নামের শেষে মুসলিম…
 ১৬ জুন ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ