প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   নামাজের শিক্ষা কেন সমাজে প্রতিফলিত...

নামাজের শিক্ষা কেন সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে না?

৮ জুন ২০২৫ ০৪:৪২ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মোহাম্মদ আসাদ আলী:
পৃথিবীতে সর্বমোট কতটা মসজিদ আছে তার নির্ভুল হিসাব পাওয়া যায় না। এক হিসাবে পৃথিবীতে মোট মসজিদের সংখ্যা ৩৬ লাখ (TRT WORLD)। এর মধ্যে আমাদের বাংলাদেশে মসজিদ রয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি (ধর্ম-মন্ত্রণালয়)। প্রতিদিন কোটি কোটি মুসলমান এই মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- তাদের কাছে যদি প্রশ্ন করা হয়, “ভাই! আপনারা কেন নামাজ আদায় করছেন বা নামাজের উদ্দেশ্য আসলে কী”- তাহলে বিভিন্ন রকমের উত্তর মিলবে। কেউ বলবে, আল্লাহর হুকুম তাই পড়ি, কেউ বলবে নামাজ জান্নাতের চাবি, কেউ বলবে নামাজ হল ধ্যান, এর মাধ্যমে বান্দার সাথে আল্লাহর সংযোগ স্থাপিত হয়, কেউ বলবে নামাজ পড়লে আল্লাহ আমার উপর খুশি হবেন, তাঁর নৈকট্য পাওয়া যাবে, কেউ বলবে নামাজের উদ্দেশ্য আল্লাহকে স্মরণ করা ইত্যাদি। সবই ঠিক আছে, কিন্তু ইসলামের অন্যান্য সব আমলও তো আল্লাহরই হুকুম, সেগুলো করলেও তো তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যপ্রাপ্তিই হয়, তাই নয় কি? তাহলে আলাদা করে নামাজের কথা আল্লাহ কোর’আনে আশিবারের বেশি কেন বললেন?

নামাজের উদ্দেশ্য কী? 
আপনি উদ্দেশ্য ছাড়া, কারণ ছাড়া কখনও কোনো কাজ করেন? অবশ্যই না। তাহলে ভাবুন তো- একজন সাধারণ মানুষ হয়ে যদি আপনি অনর্থক কাজ না করেন, তাহলে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ কি উদ্দেশ্য ছাড়া অনর্থক তার বান্দাদেরকে নামাজ পড়তে বলবেন? যে নামাজের কথা তিনি পবিত্র কোর’আনে ৮০ বারের বেশি উল্লেখ করেছেন, তা অনর্থক হতেই পারে না। প্রশ্ন হলো- কী সেই উদ্দেশ্য?

জবাব পাওয়া যায় মহানবীর একটি হাদিসে। রসুল (সা.) একটি চমৎকার উপমা দিয়ে বলেন, “ইসলাম একটি ঘর, নামাজ তার খুঁটি, আর জিহাদ হলো ছাদ।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ) একটি ঘরে খুঁটির কাজ কী ও ছাদের কাজ কী? ঘরের প্রধান যে উদ্দেশ্য রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া, সেটা সম্ভব হয় ছাদের কারণে। আর ছাদকে উপরে ধরে রাখার জন্য দরকার হয় খুঁটি। যদি কোনো ঘরে ছাদ না থাকে তাহলে খুঁটির কোনো দরকার নেই। আবার যদি খুঁটি না থাকে তাহলে ছাদ দেওয়া অসম্ভব। রসুল (সা.) জেহাদকে ছাদের সঙ্গে তুলনা করে বোঝালেন ইসলামের মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জেহাদ। আর খুঁটির সাথে নামাজের তুলনা করে বোঝালেন- নামাজের উদ্দেশ্য হলো জেহাদকে সমুন্নত রাখা।

আরও পড়ুন

ফিলিস্তিনের বেদনাহত ইতিহাস

Screenshot 1

নামাজের আলোচনায় জেহাদের কথা কেন?
পাঠক, ১৪০০ বছর আগে আরবে আল্লাহ শেষ নবীকে পাঠালেন। আল্লাহ কোনো এলাকায় নবী পাঠালে মিশন নির্ধারণ করে দেন। রসুল (সা.) এর মিশন কী ছিল কোর’আনে বলা হয়েছে এভাবে- ‘আমি তাঁকে হেদায়াহ ও সত্যদীন দিয়ে এই জন্য প্রেরণ করেছি যাতে তিনি সেটাকে অন্য সমস্ত দীনের উপর জয়যুক্ত করতে পারেন (ফাতাহ ২৮, তওবা ৩৩, সফ ০৯)। মিশন একদম পরিষ্কার। যে দীন বা জীবনবিধান নিয়ে তাঁর আগমন হয়েছে, সেটাকে বসে বসে শুধু পাঠ করা নয়, তাফসীর করা নয়, মুখস্থ করা হয়, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা নয়, মিশন হলো সেটাকে সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করা।

যখনই প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ আসলো, তখনই আসলো জেহাদেরও প্রসঙ্গ। কারণ জেহাদ ছাড়া কোনো আদর্শ সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠা করা অকল্পনীয়। যেহেতু জেহাদ ছাড়া সম্ভব নয়, কাজেই ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে রাখা হলো জেহাদকে। সবচেয়ে বড় পুরস্কারও রাখা হলো তাদের জন্য যারা জেহাদে প্রাণ বিসর্জন দিবে, অর্থাৎ শহীদ হবে। কোর’আনে তওহীদের পরে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে তাহলো জেহাদ। এমনকি মো’মেনের সংজ্ঞার মধ্যেই আল্লাহ জেহাদকে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন- “মো’মেন তারাই যারা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান আনার পর আর সন্দেহ পোষণ করে না এবং সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ (সংগ্রাম) করে, তারাই খাঁটি।” (হুজরাত: ১৫)

সমস্যা হলো, এতবড় মিশন বাস্তবায়ন কারো পক্ষে একজীবনে সম্ভব নয়। রসুল (সা.) তাই দু’টো কাজ করলেন। একদিকে নিজে ৭৮টা যুদ্ধ করলেন, আরেকদিকে একটা দুর্ধর্ষ সামরিক জাতি তৈরি করলেন; যাদেরকে আমরা এখন বলি সাহাবায়ে আজমাইন। সাহাবায়ে আজমাইনরা কিন্তু মুফতী মোহাদ্দিস মুফাসসির ছিলেন না। প্রত্যেকে ছিলেন একেকজন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, এমনকি তাদের নারী ও শিশুরাও ছিলেন দুঃসাহসী যোদ্ধা। তাদের সামনে তুলোর মতো উড়ে গিয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের সুপার পাওয়ার খ্যাত রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য। প্রশ্ন হলো- কীভাবে তা সম্ভব হয়েছিল? কোন প্রশিক্ষণ পেয়ে সাধারণ আরবরা, যারা কিছুদিন আগেও রোমান পারস্য বাহিনীকে ভয় পেত, অল্প কিছুদিনের ভেতরে বিশ্বের সেরা যোদ্ধায় পরিণত হয়েছিল?

যাদের সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন- একটা সেনাবাহিনীতে সৈন্যদের প্রশিক্ষণের জন্য কত ধরনের আয়োজন ও ব্যবস্থা রাখতে হয়। সৈন্যদের শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে নৈতিকতা, আত্মপ্রত্যয়, সাহস, ক্ষিপ্রতা, একতা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ইত্যাদি সব বিষয়ে ফিট রাখার জন্য নানাবিধ প্রশিক্ষণ দিতে হয়। তাহলে সাহাবীদের জীবনে সেই প্রশিক্ষণ কোথায়?

সেই প্রশিক্ষণ হলো নামাজ। নামাজ হলো উম্মতে মোহাম্মদীর এমন এক প্রশিক্ষণ, যা মো’মেনদের শারীরিক, মানসিক, আত্মিক সকল দিক দিয়ে প্রস্তুত করে তুলত। যে মোজাহেদরা যত ভালোভাবে নামাজ আদায় করতেন, তার চরিত্রে জেহাদের গুণ তত দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হত, তিনি জেহাদের ময়দানে তত বেশি ভূমিকা রাখতে পারতেন। আর সেজন্যই পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ ৮০বারের বেশি নামাজের কথা বলেছেন। আর রসুল (সা.) বলেছেন, জেহাদ হলো ইসলাম নামক ঘরের ছাদ, নামাজ হলো খুঁটি।

নামাজ কীভাবে জেহাদের চরিত্র শিক্ষা দেয়?
নামাজ কীভাবে জেহাদের চরিত্র শিক্ষা দেয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলে আলাদা বই হয়ে যাবে। এই প্রবন্ধে আমরা অতি সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় জানবো। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার মানুষগুলো যখন এক ছাদের নিচে, এক কাতারে, এক আল্লাহর সামনে হাজিরা দিতে দাঁড়াচ্ছেন, তখন তাদের মধ্যে একতার মূল্যবোধ জাগ্রত হচ্ছে। যে কোনো দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর বদলে সমস্ত মো’মেনরা যখন একদিকে (কাবার দিকে) মুখ করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন, তখন তাদের মধ্যে লক্ষ্যের ঐক্য ও উদ্দেশ্যের ঐক্য স্থাপিত হচ্ছে। কমান্ডার ছাড়া যেমন সৈন্য যুদ্ধ করতে পারে না, তেমনি ইমাম ছাড়া মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারে না। সালাতে একজন ইমামের কমান্ড মোতাবেক যখন সকল মুসল্লি রুকু-সেজদা, ওঠা-বসা করছেন, তখন ইমাম-আমির বা কমান্ডারের আদেশ মেনে চলার শিক্ষা তাদের চরিত্রে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। নামাজের ফরজ, সুন্নত ইত্যাদি যত নিয়ম-কানুন ও ডিসিপ্লিন আছে, যেমন এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানো যাবে না, চোখ বন্ধ করা যাবে না, হাত-পা নড়াচড়া করা যাবে না, ইমামের তাকবীরের সঙ্গে সঙ্গে রুকু সেজদা করতে হবে, দেরি করা যাবে না আবার তাড়াহুড়াও করা যাবে না, এসব একত্রিত করলে প্রায় ১১৪ টির বেশি নিয়ম কানুন দাঁড়ায়। এতগুলো ডিসিপ্লিন মেনে যখন মো’মেনরা সালাত আদায় করবে, তখন তাদের চরিত্রে স্বভাবতই ডিসিপ্লিন মানার গুণগুলো প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে- যা একটা সামরিক বাহিনীর সৈন্যদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা বলাই বাহুল্য।

অথচ, পরিহাসের বিষয় হলো- নামাজ যে আমাদেরকে এতকিছু শেখায়, সেটা আমরা জানিও না, বুঝিও না। যেহেতু নামাজের উদ্দেশ্যই এখন নেই, তাই নামাজের চেহারাও বদলে গেছে। প্রচলিত আকিদায় নামাজকে মনে করা হয় অন্যান্য ধর্মের পূজা-প্রার্থনা-আরাধনা ইত্যাদির মতোই কিছু একটা। এক প্রকার ধ্যানের বিষয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। অথচ যদি ধ্যান করানোই উদ্দেশ্য হতো তাহলে নামাজের মধ্যে ১০০’র বেশি নিয়ম কানুন থাকত না। চোখ বন্ধ রেখে ধ্যান করা সহজ নাকি চোখ খোলা রেখে? অবশ্যই চোখ বন্ধ রেখে। কিন্তু নামাজের নিয়ম হলো- চোখ বন্ধ করা যাবে না। তাছাড়া ধ্যানের জন্য নির্জন স্থান উত্তম, কিন্তু নামাজের জন্য নির্দেশ হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ একটা নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করা। এরপরও নামাজকে ধ্যান মনে করা কীভাবে সম্ভব?

নামাজের সঙ্গে কুচকাওয়াজের সাদৃশ্য
পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ জেহাদকে ফরজ করে দিয়েছেন, সঙ্গে নামাজকেও ফরজ করে দিয়েছেন। কারণ যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ছাড়া যুদ্ধ করা যায় না। কিন্তু এই জাতি যখন জেহাদ ছেড়ে দিল এবং নিজেদেকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদ আবিষ্কার করল, তখন আর জেহাদের প্রশিক্ষণেরও দরকার রইল না। অল্পকিছুদিনের ভেতরেই নামাজের চেহারা পাল্টে ধ্যানের মতো করে ফেলল। এরপরও দৃষ্টিবান মানুষ বুঝতে পারেন যে কোনো মসজিদের নামাজের দৃশ্যের সঙ্গে পৃথিবীর আর একটিমাত্র দৃশ্যের মিল পাওয়া যায় তাহলো সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ। যেমন ডিগ্রী ইসলামিক স্টাডিজের (উবমৎবব ওংষধসরপ ঝঃঁফরবং) তৃতীয় পত্রের অনুশীলনের ৬ষ্ঠ প্রশ্নের ১৮ নং উত্তরে লেখা হচ্ছেÑ “মসজিদ নেতৃত্ব ও নেতার আনুগত্যের শিক্ষা দেয়; মসজিদ নেতৃত্ব ও আনুগত্যের এক অনুপম শিক্ষা কেন্দ্র। মসজিদে সব মুসল্লির একই এমামের পেছনে সারিবদ্ধভাবে উঠাবসার দৃশ্য দেখে মনে হয় তারা একজন সেনাপতির নির্দেশে কুচকাওয়াজে লিপ্ত। এখানেই নেতার প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য ও নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের উত্তম সবক বিদ্যমান।”

নামাজের আত্মিক ভাগ
প্রশ্ন আসতে পারে নামাজ কি তাহলে শুধুই বাহ্যিক প্রশিক্ষণের বিষয়? না, নামাজের আরেকটি ভাগ আছে তাহলো আত্মার ভাগ। ইসলামের শরিয়াহ মারেফতের ভারসাম্যের মতোই নামাজও বাহ্যিক ও আত্মিক দুই দিকের ভারসাম্যে পরিপূর্ণ। নামাজের আত্মিক ভাগ হলো যিকর (স্মরণ)। অর্থাৎ মো’মেন নামাজে দাঁড়ানোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর স্মরণে রত থাকবে। মো’মেন যখন নামাজে দাঁড়াবে তখন সে মনে করবে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছে। সে আল্লাহর সৈনিক। তার মনোভাব হবে এমন- ‘হে আল্লাহ, তুমি তোমার নবীর মাধ্যমে আমাদেরকে যে মহান কাজের দায়িত্ব দিয়েছ, সেই দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে তোমার সামনে দাঁড়িয়েছি। তুমি দয়া করে আমাদেরকে সেই চরিত্র ও শক্তি দান করো যাতে আমরা তোমার রাস্তায় নিজেদের স্ত্রী-পুত্র পরিজন ও সহায়-সম্পদ উৎসর্গ করে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারি।’ সে যখন রুকুতে যাবে তখন সে মনে মনে আল্লাহর অসীম বিশালতার কথা চিন্তা করবে এবং সেই বিশালতার সামনে অকাতরে নিজের ক্ষুদ্র সত্তাকে সমর্পিত করবে। যখন সেজদায় যাবে তখন সে আল্লাহর অসীম উচ্চতা ও নিজের ক্ষুদ্রতার কথা ভাববে এবং আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজের সত্তাকে বিলীন করে দিবে। এভাবে নামাজের প্রতিটা রোকনে আল্লাহর সঙ্গে তার আত্মিক যোগাযোগ ঘটবে, যা তার ঈমানকে আরও শানিত করবে।

জেহাদহীন নামাজ আল্লাহ কবুল করবেন?
পাঠক, কেউ যদি বলে আমি সামরিক বাহিনীতে ভর্তি হবো, দিনে পাঁচবার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিব, শুধু তাই নয় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ছাড়াও প্রতিদিন বহুবার নিজ উদ্যোগে একাকী প্রশিক্ষণ নিব, নিয়মিত কুচকাওয়াজ করব, প্রশিক্ষণ-বিষয়ক যত বই-পুস্তক আছে তা নিয়ে রাতদিন গবেষণা করব, শুধু একটাই শর্ত- যুদ্ধ করব না, তাহলে তাকে কি সৈন্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে? হবে না। তাকে ব্যারাক থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু একই কাজ আমরা বর্তমানে করছি। আমরা দিনে পাঁচবার বড় বড় মসজিদে ফরজ নামাজ আদায় করছি, ফরজ নামাজ ছাড়াও সুন্নত, বেতের, নফল, তারাবিহ, তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করছি, বাজার থেকে নামাজ শিক্ষার বই কিনে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করছি যাতে নামাজের কোনো নিয়ম কানুনে ভুল না হয়ে যায়, এমনকি হুজুরদের কাছে প্রশ্ন করছি হাতে নেলপলিশ থাকলে নামাজ হবে কিনা, অথচ যেই জেহাদের চরিত্র তৈরির জন্য আল্লাহ নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন সেই জেহাদ করি না। জেহাদ বাদ দিয়েছি হাজার বছর আগে। তাহলে আমাদের এই নামাজের কী মূল্য আছে আল্লাহর কাছে? তিনি কি আমাদের এই জেহাদবিহীন নামাজ কবুল করবেন?  

নামাজ নিয়ে এই লেখাটি ইতোমধ্যেই অনেক বড় হয়ে গেছে। আলোচনা আর দীর্ঘ না করে বরং এ পর্যন্ত আমরা যা জানলাম তার একটা সারসংক্ষেপ দিয়ে এখানেই শেষ করছি। 
১. বিশ্বনবীর মিশন ছিল সারা বিশ্বে আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা করে শান্তি আনয়ন করা।
২. এই বিশাল দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া হিসেবে আল্লাহ নির্ধারণ করেন জেহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।
৩. জেহাদ করার জন্য প্রশিক্ষণ লাগে। আল্লাহ সোবহান, তিনি জেহাদ করতে বলবেন কিন্তু জেহাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দিবেন না তা হতে পারে না। প্রশিক্ষণ হিসেবে আল্লাহ দিলেন সালাত, সওম ইত্যাদি আমল। 
৪. নামাজ সাহাবীদেরকে বিশ্বের সর্বশেষ্ঠ, অপরাজেয়, দুর্ধর্ষ যোদ্ধায় পরিণত করেছিল। 
৫. সাহাবীরা অর্ধেক পৃথিবীতে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদ বড় জেহাদ এই মতবাদের জন্ম দিয়ে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাদ দেয়। 
৬. কোনো বিষয় বা বস্তুর উদ্দেশ্য হারিয়ে গেলে সেটার আর কিছু থাকে না। জেহাদের জন্য নামাজ। যখন জেহাদই বন্ধ হয়ে গেল তখন নামাজ প্রাণহীন আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হলো। পরবর্তীতে নামাজ হয়ে গেল ধ্যান।
৭. বর্তমানে নামাজ পড়া হচ্ছে কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেন না নামাজের উদ্দেশ্য কী। তারা নামাজকে অন্যান্য ধর্মের পূজা-উপাসনা-প্রার্থনার মতোই কিছু একটা মনে করেন।
৮. যেহেতু নামাজের উদ্দেশ্য ভুলে যাওযা হয়েছে, কাজেই বর্তমানের নামাজ আর খালিদ, দেরার, মুসান্নার মতো বীর তৈরি করতে পারছে না। মুসলিম উম্মাহ সহজেই শত্রুর কাছে পরাজিত হচ্ছে, গোলামী করছে।
৯. এখন পুনরায় মুসলিম উম্মাহকে নামাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হবে এবং নামাজের শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে একজন ইমামের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ও সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে।
 

[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; যোগাযোগ: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৬২১৪৩৪২১৩, ০১৭৮৩৫৯৮২২২]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

দুষ্টের দমনে সাংবাদিকদের কলমকে তরবারির মতো ব্যবহারের আহ্বান

দুষ্টের দমনে সাংবাদিকদের কলমকে তরবারির মতো ব্যবহারের আহ্বান
মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক সাংবাদিকদের সমাজ পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সমাজ…
 ১২ জুন ২০২৬    ঢাকা

গাইবান্ধায় পানের হাট দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, এলাকায় উত্তেজনা

গাইবান্ধায় পানের হাট দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, এলাকায় উত্তেজনা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পানের হাট দখল ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণও হয় বলে জানিয়েছেন…
 ১১ জুন ২০২৬    নির্বাচিত

শ্রীপুরে পল্লী বিদ্যুতের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করল পুলিশ

শ্রীপুরে পল্লী বিদ্যুতের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করল পুলিশ
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে এমসি বাজার এলাকায় এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও লাইনম্যানদের ওপর হামলা, মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ…
 ১১ জুন ২০২৬    ঢাকা

কিশোরগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত, আহত ৩

কিশোরগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত, আহত ৩
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পণ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে উপজেলার শ্রীরামদী…
 ১১ জুন ২০২৬    ঢাকা

নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র: বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র: বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ
নদীবেষ্টিত জেলা বরিশালের চারদিক দিয়ে বয়ে চলেছে কীর্তনখোলা, পদ্মা ও মেঘনাসহ অসংখ্য নদী। এসব নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছর বদলে যাচ্ছে জেলার মানচিত্র। মাইলের পর…
 ১০ জুন ২০২৬    নির্বাচিত

ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামার আগেই শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন উত্তেজনা

ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামার আগেই শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন উত্তেজনা
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু…
 ১০ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

ইসলামী ব্যাংক দখলের পর এখন বেদখল হওয়ার যাতনা স্বাভাবিক: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক দখলের পর এখন বেদখল হওয়ার যাতনা স্বাভাবিক: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় সংসদে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায়…
 ৯ জুন ২০২৬    জাতীয়

সরিষাবাড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণ

সরিষাবাড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণ
সরিষাবাড়ি (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সামগ্রী ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রশাসনিক…
 ৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

জৈনা বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন

জৈনা বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন
শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা: গাজীপুরের শ্রীপুরে জৈনা বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং পরিচিতি সভা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার জৈনা বাজারে সমিতির…
 ৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

ইরানের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৮

ইরানের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৮
লেবাননে হামলা চললে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। তবে সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের তায়ের বন্দর নগরীতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি…
 ৯ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

শ্রীপুরের সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যু, শোকে মারা গেলে ছোট বোন

শ্রীপুরের সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যু, শোকে মারা গেলে ছোট বোন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ…
 ৭ জুন ২০২৬    ঢাকা

সড়কে বর্জ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

সড়কে বর্জ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

দেশে হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫

দেশে হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫
দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

কোরবানির দুই দিনে আহত হয়ে ঢামেকে ২৭২ জনের চিকিৎসা

কোরবানির দুই দিনে আহত হয়ে ঢামেকে ২৭২ জনের চিকিৎসা
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় আহত হয়ে ঈদের দিন ও পরের দিন মিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২৭২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক খবরটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি…
 ২৭ মে ২০২৬    জাতীয়