প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   নামাজের শিক্ষা কেন সমাজে প্রতিফলিত...

নামাজের শিক্ষা কেন সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে না?

৮ জুন ২০২৫ ০৪:৪২ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মোহাম্মদ আসাদ আলী:
পৃথিবীতে সর্বমোট কতটা মসজিদ আছে তার নির্ভুল হিসাব পাওয়া যায় না। এক হিসাবে পৃথিবীতে মোট মসজিদের সংখ্যা ৩৬ লাখ (TRT WORLD)। এর মধ্যে আমাদের বাংলাদেশে মসজিদ রয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি (ধর্ম-মন্ত্রণালয়)। প্রতিদিন কোটি কোটি মুসলমান এই মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- তাদের কাছে যদি প্রশ্ন করা হয়, “ভাই! আপনারা কেন নামাজ আদায় করছেন বা নামাজের উদ্দেশ্য আসলে কী”- তাহলে বিভিন্ন রকমের উত্তর মিলবে। কেউ বলবে, আল্লাহর হুকুম তাই পড়ি, কেউ বলবে নামাজ জান্নাতের চাবি, কেউ বলবে নামাজ হল ধ্যান, এর মাধ্যমে বান্দার সাথে আল্লাহর সংযোগ স্থাপিত হয়, কেউ বলবে নামাজ পড়লে আল্লাহ আমার উপর খুশি হবেন, তাঁর নৈকট্য পাওয়া যাবে, কেউ বলবে নামাজের উদ্দেশ্য আল্লাহকে স্মরণ করা ইত্যাদি। সবই ঠিক আছে, কিন্তু ইসলামের অন্যান্য সব আমলও তো আল্লাহরই হুকুম, সেগুলো করলেও তো তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যপ্রাপ্তিই হয়, তাই নয় কি? তাহলে আলাদা করে নামাজের কথা আল্লাহ কোর’আনে আশিবারের বেশি কেন বললেন?

নামাজের উদ্দেশ্য কী? 
আপনি উদ্দেশ্য ছাড়া, কারণ ছাড়া কখনও কোনো কাজ করেন? অবশ্যই না। তাহলে ভাবুন তো- একজন সাধারণ মানুষ হয়ে যদি আপনি অনর্থক কাজ না করেন, তাহলে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ কি উদ্দেশ্য ছাড়া অনর্থক তার বান্দাদেরকে নামাজ পড়তে বলবেন? যে নামাজের কথা তিনি পবিত্র কোর’আনে ৮০ বারের বেশি উল্লেখ করেছেন, তা অনর্থক হতেই পারে না। প্রশ্ন হলো- কী সেই উদ্দেশ্য?

জবাব পাওয়া যায় মহানবীর একটি হাদিসে। রসুল (সা.) একটি চমৎকার উপমা দিয়ে বলেন, “ইসলাম একটি ঘর, নামাজ তার খুঁটি, আর জিহাদ হলো ছাদ।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ) একটি ঘরে খুঁটির কাজ কী ও ছাদের কাজ কী? ঘরের প্রধান যে উদ্দেশ্য রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া, সেটা সম্ভব হয় ছাদের কারণে। আর ছাদকে উপরে ধরে রাখার জন্য দরকার হয় খুঁটি। যদি কোনো ঘরে ছাদ না থাকে তাহলে খুঁটির কোনো দরকার নেই। আবার যদি খুঁটি না থাকে তাহলে ছাদ দেওয়া অসম্ভব। রসুল (সা.) জেহাদকে ছাদের সঙ্গে তুলনা করে বোঝালেন ইসলামের মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জেহাদ। আর খুঁটির সাথে নামাজের তুলনা করে বোঝালেন- নামাজের উদ্দেশ্য হলো জেহাদকে সমুন্নত রাখা।

আরও পড়ুন

কোরআনের প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান মুসলিম বিশ্ব

ইসলামের দর্শন ও সংস্কৃতিচর্চার যোগসূত্র

নামাজের আলোচনায় জেহাদের কথা কেন?
পাঠক, ১৪০০ বছর আগে আরবে আল্লাহ শেষ নবীকে পাঠালেন। আল্লাহ কোনো এলাকায় নবী পাঠালে মিশন নির্ধারণ করে দেন। রসুল (সা.) এর মিশন কী ছিল কোর’আনে বলা হয়েছে এভাবে- ‘আমি তাঁকে হেদায়াহ ও সত্যদীন দিয়ে এই জন্য প্রেরণ করেছি যাতে তিনি সেটাকে অন্য সমস্ত দীনের উপর জয়যুক্ত করতে পারেন (ফাতাহ ২৮, তওবা ৩৩, সফ ০৯)। মিশন একদম পরিষ্কার। যে দীন বা জীবনবিধান নিয়ে তাঁর আগমন হয়েছে, সেটাকে বসে বসে শুধু পাঠ করা নয়, তাফসীর করা নয়, মুখস্থ করা হয়, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা নয়, মিশন হলো সেটাকে সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করা।

যখনই প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ আসলো, তখনই আসলো জেহাদেরও প্রসঙ্গ। কারণ জেহাদ ছাড়া কোনো আদর্শ সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠা করা অকল্পনীয়। যেহেতু জেহাদ ছাড়া সম্ভব নয়, কাজেই ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে রাখা হলো জেহাদকে। সবচেয়ে বড় পুরস্কারও রাখা হলো তাদের জন্য যারা জেহাদে প্রাণ বিসর্জন দিবে, অর্থাৎ শহীদ হবে। কোর’আনে তওহীদের পরে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে তাহলো জেহাদ। এমনকি মো’মেনের সংজ্ঞার মধ্যেই আল্লাহ জেহাদকে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন- “মো’মেন তারাই যারা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান আনার পর আর সন্দেহ পোষণ করে না এবং সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ (সংগ্রাম) করে, তারাই খাঁটি।” (হুজরাত: ১৫)

সমস্যা হলো, এতবড় মিশন বাস্তবায়ন কারো পক্ষে একজীবনে সম্ভব নয়। রসুল (সা.) তাই দু’টো কাজ করলেন। একদিকে নিজে ৭৮টা যুদ্ধ করলেন, আরেকদিকে একটা দুর্ধর্ষ সামরিক জাতি তৈরি করলেন; যাদেরকে আমরা এখন বলি সাহাবায়ে আজমাইন। সাহাবায়ে আজমাইনরা কিন্তু মুফতী মোহাদ্দিস মুফাসসির ছিলেন না। প্রত্যেকে ছিলেন একেকজন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, এমনকি তাদের নারী ও শিশুরাও ছিলেন দুঃসাহসী যোদ্ধা। তাদের সামনে তুলোর মতো উড়ে গিয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের সুপার পাওয়ার খ্যাত রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য। প্রশ্ন হলো- কীভাবে তা সম্ভব হয়েছিল? কোন প্রশিক্ষণ পেয়ে সাধারণ আরবরা, যারা কিছুদিন আগেও রোমান পারস্য বাহিনীকে ভয় পেত, অল্প কিছুদিনের ভেতরে বিশ্বের সেরা যোদ্ধায় পরিণত হয়েছিল?

যাদের সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন- একটা সেনাবাহিনীতে সৈন্যদের প্রশিক্ষণের জন্য কত ধরনের আয়োজন ও ব্যবস্থা রাখতে হয়। সৈন্যদের শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে নৈতিকতা, আত্মপ্রত্যয়, সাহস, ক্ষিপ্রতা, একতা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ইত্যাদি সব বিষয়ে ফিট রাখার জন্য নানাবিধ প্রশিক্ষণ দিতে হয়। তাহলে সাহাবীদের জীবনে সেই প্রশিক্ষণ কোথায়?

সেই প্রশিক্ষণ হলো নামাজ। নামাজ হলো উম্মতে মোহাম্মদীর এমন এক প্রশিক্ষণ, যা মো’মেনদের শারীরিক, মানসিক, আত্মিক সকল দিক দিয়ে প্রস্তুত করে তুলত। যে মোজাহেদরা যত ভালোভাবে নামাজ আদায় করতেন, তার চরিত্রে জেহাদের গুণ তত দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হত, তিনি জেহাদের ময়দানে তত বেশি ভূমিকা রাখতে পারতেন। আর সেজন্যই পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ ৮০বারের বেশি নামাজের কথা বলেছেন। আর রসুল (সা.) বলেছেন, জেহাদ হলো ইসলাম নামক ঘরের ছাদ, নামাজ হলো খুঁটি।

নামাজ কীভাবে জেহাদের চরিত্র শিক্ষা দেয়?
নামাজ কীভাবে জেহাদের চরিত্র শিক্ষা দেয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলে আলাদা বই হয়ে যাবে। এই প্রবন্ধে আমরা অতি সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় জানবো। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার মানুষগুলো যখন এক ছাদের নিচে, এক কাতারে, এক আল্লাহর সামনে হাজিরা দিতে দাঁড়াচ্ছেন, তখন তাদের মধ্যে একতার মূল্যবোধ জাগ্রত হচ্ছে। যে কোনো দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর বদলে সমস্ত মো’মেনরা যখন একদিকে (কাবার দিকে) মুখ করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন, তখন তাদের মধ্যে লক্ষ্যের ঐক্য ও উদ্দেশ্যের ঐক্য স্থাপিত হচ্ছে। কমান্ডার ছাড়া যেমন সৈন্য যুদ্ধ করতে পারে না, তেমনি ইমাম ছাড়া মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারে না। সালাতে একজন ইমামের কমান্ড মোতাবেক যখন সকল মুসল্লি রুকু-সেজদা, ওঠা-বসা করছেন, তখন ইমাম-আমির বা কমান্ডারের আদেশ মেনে চলার শিক্ষা তাদের চরিত্রে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। নামাজের ফরজ, সুন্নত ইত্যাদি যত নিয়ম-কানুন ও ডিসিপ্লিন আছে, যেমন এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানো যাবে না, চোখ বন্ধ করা যাবে না, হাত-পা নড়াচড়া করা যাবে না, ইমামের তাকবীরের সঙ্গে সঙ্গে রুকু সেজদা করতে হবে, দেরি করা যাবে না আবার তাড়াহুড়াও করা যাবে না, এসব একত্রিত করলে প্রায় ১১৪ টির বেশি নিয়ম কানুন দাঁড়ায়। এতগুলো ডিসিপ্লিন মেনে যখন মো’মেনরা সালাত আদায় করবে, তখন তাদের চরিত্রে স্বভাবতই ডিসিপ্লিন মানার গুণগুলো প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে- যা একটা সামরিক বাহিনীর সৈন্যদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা বলাই বাহুল্য।

অথচ, পরিহাসের বিষয় হলো- নামাজ যে আমাদেরকে এতকিছু শেখায়, সেটা আমরা জানিও না, বুঝিও না। যেহেতু নামাজের উদ্দেশ্যই এখন নেই, তাই নামাজের চেহারাও বদলে গেছে। প্রচলিত আকিদায় নামাজকে মনে করা হয় অন্যান্য ধর্মের পূজা-প্রার্থনা-আরাধনা ইত্যাদির মতোই কিছু একটা। এক প্রকার ধ্যানের বিষয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। অথচ যদি ধ্যান করানোই উদ্দেশ্য হতো তাহলে নামাজের মধ্যে ১০০’র বেশি নিয়ম কানুন থাকত না। চোখ বন্ধ রেখে ধ্যান করা সহজ নাকি চোখ খোলা রেখে? অবশ্যই চোখ বন্ধ রেখে। কিন্তু নামাজের নিয়ম হলো- চোখ বন্ধ করা যাবে না। তাছাড়া ধ্যানের জন্য নির্জন স্থান উত্তম, কিন্তু নামাজের জন্য নির্দেশ হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ একটা নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করা। এরপরও নামাজকে ধ্যান মনে করা কীভাবে সম্ভব?

নামাজের সঙ্গে কুচকাওয়াজের সাদৃশ্য
পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ জেহাদকে ফরজ করে দিয়েছেন, সঙ্গে নামাজকেও ফরজ করে দিয়েছেন। কারণ যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ছাড়া যুদ্ধ করা যায় না। কিন্তু এই জাতি যখন জেহাদ ছেড়ে দিল এবং নিজেদেকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদ আবিষ্কার করল, তখন আর জেহাদের প্রশিক্ষণেরও দরকার রইল না। অল্পকিছুদিনের ভেতরেই নামাজের চেহারা পাল্টে ধ্যানের মতো করে ফেলল। এরপরও দৃষ্টিবান মানুষ বুঝতে পারেন যে কোনো মসজিদের নামাজের দৃশ্যের সঙ্গে পৃথিবীর আর একটিমাত্র দৃশ্যের মিল পাওয়া যায় তাহলো সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ। যেমন ডিগ্রী ইসলামিক স্টাডিজের (উবমৎবব ওংষধসরপ ঝঃঁফরবং) তৃতীয় পত্রের অনুশীলনের ৬ষ্ঠ প্রশ্নের ১৮ নং উত্তরে লেখা হচ্ছেÑ “মসজিদ নেতৃত্ব ও নেতার আনুগত্যের শিক্ষা দেয়; মসজিদ নেতৃত্ব ও আনুগত্যের এক অনুপম শিক্ষা কেন্দ্র। মসজিদে সব মুসল্লির একই এমামের পেছনে সারিবদ্ধভাবে উঠাবসার দৃশ্য দেখে মনে হয় তারা একজন সেনাপতির নির্দেশে কুচকাওয়াজে লিপ্ত। এখানেই নেতার প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য ও নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের উত্তম সবক বিদ্যমান।”

নামাজের আত্মিক ভাগ
প্রশ্ন আসতে পারে নামাজ কি তাহলে শুধুই বাহ্যিক প্রশিক্ষণের বিষয়? না, নামাজের আরেকটি ভাগ আছে তাহলো আত্মার ভাগ। ইসলামের শরিয়াহ মারেফতের ভারসাম্যের মতোই নামাজও বাহ্যিক ও আত্মিক দুই দিকের ভারসাম্যে পরিপূর্ণ। নামাজের আত্মিক ভাগ হলো যিকর (স্মরণ)। অর্থাৎ মো’মেন নামাজে দাঁড়ানোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর স্মরণে রত থাকবে। মো’মেন যখন নামাজে দাঁড়াবে তখন সে মনে করবে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছে। সে আল্লাহর সৈনিক। তার মনোভাব হবে এমন- ‘হে আল্লাহ, তুমি তোমার নবীর মাধ্যমে আমাদেরকে যে মহান কাজের দায়িত্ব দিয়েছ, সেই দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে তোমার সামনে দাঁড়িয়েছি। তুমি দয়া করে আমাদেরকে সেই চরিত্র ও শক্তি দান করো যাতে আমরা তোমার রাস্তায় নিজেদের স্ত্রী-পুত্র পরিজন ও সহায়-সম্পদ উৎসর্গ করে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারি।’ সে যখন রুকুতে যাবে তখন সে মনে মনে আল্লাহর অসীম বিশালতার কথা চিন্তা করবে এবং সেই বিশালতার সামনে অকাতরে নিজের ক্ষুদ্র সত্তাকে সমর্পিত করবে। যখন সেজদায় যাবে তখন সে আল্লাহর অসীম উচ্চতা ও নিজের ক্ষুদ্রতার কথা ভাববে এবং আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজের সত্তাকে বিলীন করে দিবে। এভাবে নামাজের প্রতিটা রোকনে আল্লাহর সঙ্গে তার আত্মিক যোগাযোগ ঘটবে, যা তার ঈমানকে আরও শানিত করবে।

জেহাদহীন নামাজ আল্লাহ কবুল করবেন?
পাঠক, কেউ যদি বলে আমি সামরিক বাহিনীতে ভর্তি হবো, দিনে পাঁচবার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিব, শুধু তাই নয় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ছাড়াও প্রতিদিন বহুবার নিজ উদ্যোগে একাকী প্রশিক্ষণ নিব, নিয়মিত কুচকাওয়াজ করব, প্রশিক্ষণ-বিষয়ক যত বই-পুস্তক আছে তা নিয়ে রাতদিন গবেষণা করব, শুধু একটাই শর্ত- যুদ্ধ করব না, তাহলে তাকে কি সৈন্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে? হবে না। তাকে ব্যারাক থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু একই কাজ আমরা বর্তমানে করছি। আমরা দিনে পাঁচবার বড় বড় মসজিদে ফরজ নামাজ আদায় করছি, ফরজ নামাজ ছাড়াও সুন্নত, বেতের, নফল, তারাবিহ, তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করছি, বাজার থেকে নামাজ শিক্ষার বই কিনে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করছি যাতে নামাজের কোনো নিয়ম কানুনে ভুল না হয়ে যায়, এমনকি হুজুরদের কাছে প্রশ্ন করছি হাতে নেলপলিশ থাকলে নামাজ হবে কিনা, অথচ যেই জেহাদের চরিত্র তৈরির জন্য আল্লাহ নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন সেই জেহাদ করি না। জেহাদ বাদ দিয়েছি হাজার বছর আগে। তাহলে আমাদের এই নামাজের কী মূল্য আছে আল্লাহর কাছে? তিনি কি আমাদের এই জেহাদবিহীন নামাজ কবুল করবেন?  

নামাজ নিয়ে এই লেখাটি ইতোমধ্যেই অনেক বড় হয়ে গেছে। আলোচনা আর দীর্ঘ না করে বরং এ পর্যন্ত আমরা যা জানলাম তার একটা সারসংক্ষেপ দিয়ে এখানেই শেষ করছি। 
১. বিশ্বনবীর মিশন ছিল সারা বিশ্বে আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা করে শান্তি আনয়ন করা।
২. এই বিশাল দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া হিসেবে আল্লাহ নির্ধারণ করেন জেহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।
৩. জেহাদ করার জন্য প্রশিক্ষণ লাগে। আল্লাহ সোবহান, তিনি জেহাদ করতে বলবেন কিন্তু জেহাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দিবেন না তা হতে পারে না। প্রশিক্ষণ হিসেবে আল্লাহ দিলেন সালাত, সওম ইত্যাদি আমল। 
৪. নামাজ সাহাবীদেরকে বিশ্বের সর্বশেষ্ঠ, অপরাজেয়, দুর্ধর্ষ যোদ্ধায় পরিণত করেছিল। 
৫. সাহাবীরা অর্ধেক পৃথিবীতে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদ বড় জেহাদ এই মতবাদের জন্ম দিয়ে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাদ দেয়। 
৬. কোনো বিষয় বা বস্তুর উদ্দেশ্য হারিয়ে গেলে সেটার আর কিছু থাকে না। জেহাদের জন্য নামাজ। যখন জেহাদই বন্ধ হয়ে গেল তখন নামাজ প্রাণহীন আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হলো। পরবর্তীতে নামাজ হয়ে গেল ধ্যান।
৭. বর্তমানে নামাজ পড়া হচ্ছে কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেন না নামাজের উদ্দেশ্য কী। তারা নামাজকে অন্যান্য ধর্মের পূজা-উপাসনা-প্রার্থনার মতোই কিছু একটা মনে করেন।
৮. যেহেতু নামাজের উদ্দেশ্য ভুলে যাওযা হয়েছে, কাজেই বর্তমানের নামাজ আর খালিদ, দেরার, মুসান্নার মতো বীর তৈরি করতে পারছে না। মুসলিম উম্মাহ সহজেই শত্রুর কাছে পরাজিত হচ্ছে, গোলামী করছে।
৯. এখন পুনরায় মুসলিম উম্মাহকে নামাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হবে এবং নামাজের শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে একজন ইমামের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ও সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে।
 

[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; যোগাযোগ: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৬২১৪৩৪২১৩, ০১৭৮৩৫৯৮২২২]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর

মাদারীপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি জাহান্দার আলীর
মাদারীপুর সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে…
 ১৪ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আজ কারখানার…
 ৭ জুলাই ২০২৬    ঢাকা

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে ছাগলছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ও প্রতিবেশীদের চারজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২০…
 ২০ জুন ২০২৬    ঢাকা

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত

কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতলেন পটুয়াখালীর নুর-ই-জান্নাত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ঢাকার শহীদ নূর হোসেন জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শিহান হুমায়ুন কবির জুয়েল মেমোরিয়াল ৫ম কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এ স্বর্ণপদক জিতেছেন পটুয়াখালীর মেয়ে নুর-ই-জান্নাত। শুক্রবার (১৯…
 ২০ জুন ২০২৬    বরিশাল

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে শওকত সরদারকে সভাপতি, সোলায়মান পলাশকে সাধারণ সম্পাদক…
 ১৯ জুন ২০২৬    জাতীয়

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

মহাখালীতে সাবেক ছাত্রনেতাদের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের সাফল্য কামনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলমের সুস্থতা কামনায় আলোচনা ও দোয়া…
 ১৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক: যা থাকছে ১৪ দফার চুক্তিতে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং কার্যকর হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ এলাকায় অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট…
 ১৮ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার

কুমিল্লায় কোদালের কোপে বড় ভাইকে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেফতার
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার জগতপুর…
 ১৮ জুন ২০২৬    চট্টগ্রাম

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ

বিশ্ববাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, নেপথ্যে যে কারণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের বাজার। আজ…
 ১৮ জুন ২০২৬    অর্থনীতি

নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত…
 ১৮ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

নোয়াখালীতে বীর বিক্রম আবদুল মালেকের পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

নোয়াখালীতে বীর বিক্রম আবদুল মালেকের পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক বীর বিক্রমের পরিবারের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এই…
 ১৭ জুন ২০২৬    চট্টগ্রাম

এআইয়ের প্রভাব: চাকরির বাজারে মূল্যহীন ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন

এআইয়ের প্রভাব: চাকরির বাজারে মূল্যহীন ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে চীন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১২ হাজার কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক ডিগ্রি বাতিল করেছে। দেশটি এখন প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক…
 ১৭ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

প্রথমবার ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

প্রথমবার ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর সভাপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা…
 ১৭ জুন ২০২৬    জাতীয়

আদিতমারীতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন

আদিতমারীতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নন্দিনী (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী…
 ১৬ জুন ২০২৬    রংপুর

কোরআনের প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান মুসলিম বিশ্ব

কোরআনের প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান মুসলিম বিশ্ব
বর্তমান মুসলিম বিশ্বের এই করুণ পরিণতি কোনো নিয়তির নির্মম পরিহাস নয়, বরং তা আল্লাহর বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়ারই অবশ্যম্ভাবী ফসল। আমরা নামের শেষে মুসলিম…
 ১৬ জুন ২০২৬    বিশেষ নিবন্ধ