এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। দুই মাসের আমদানি বিল বাবদ ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের ফলে রিজার্ভে এই হ্রাস পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের আকুর আমদানি বিল বাবদ ১ হাজার ৬৪২ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের সমান।
ফের বাড়ল বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দাম!

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, একই সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে, গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আকুর বিল পরিশোধের পর গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি বিপিএম-৬ হিসাবেও রিজার্ভ কমেছে।
উল্লেখ্য, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে নিট রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। ফলে গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য থাকে।
আকু কী?
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন নিষ্পত্তির একটি আন্তঃআঞ্চলিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির বিপরীতে লেনদেনের হিসাব প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে আকুর আমদানি বিল পরিশোধ করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাময়িক প্রভাব পড়ে।
জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসক্যাপ) উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর আকু প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির সদর দপ্তর ইরানের তেহরানে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ এর সদস্যদেশ।
















