ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে গাজীপুরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটারের মধ্যে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ গড়ে উঠেছে, তা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। এটি কালিয়াকৈরে অবস্থিত ওয়ালটন হাইটেক পার্ক, যা আজ দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পোদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
২০০৮ সালে ‘প্রতিটি ঘরে ওয়ালটন’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান আজ সরাসরি দেশের ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। একজন চাকুরিজীবীর ওপর গড়ে ৫ জন করে নির্ভরশীল ধরলে, পরোক্ষভাবে প্রায় দেড় লাখ মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা করেছে এই একটি গ্রুপ।
এখানে শুধু পণ্য জোড়া লাগানো হয় না, বরং সরাসরি পণ্যের উৎপাদন হয়। রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসর থেকে শুরু করে টেলিভিশনের মাদারবোর্ড, মোবাইলের পিসিবি (PCB) এবং লিফটের মেটাল কাস্টিংসহ যাবতীয় যন্ত্রাংশ এই চন্দ্রা কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে। যা আগে বিদেশ থেকে কোটি কোটি ডলার খরচ করে আমদানি করতে হতো, তা এখন কালিয়াকৈরের মাটিতেই তৈরি হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।
রাজশাহীতে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা: সংকট মোকাবিলায় ঐক্যের ডাক

সম্প্রতি ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “ওয়ালটন পণ্য উন্নত মানের, টেকসই এবং সাশ্রয়ী মূল্যের। এমন প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্পই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বা প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।”
শুধু উৎপাদনই নয়, পরিবেশের সুরক্ষাতেও ওয়ালটন সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের সদর দপ্তরে দেশের অন্যতম বড় ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
সাড়ে তিন কিলোমিটারের এই জায়গাটিতে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রকল্পটি আজ প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ মানসম্মত উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। কালিয়াকৈরবাসীর কাছে এটি শুধু একটি শিল্পকারখানা নয়, এটি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও দেশের সম্ভাবনাময় এক ভবিষ্যতের প্রতীক।

















