ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র উৎপাদনের সরবরাহব্যবস্থা এখনো সম্পূর্ণ সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি। তার দাবি, প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা ইরানের রয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে দেশটি এখন আর বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন আলী বালালি। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কোনো খাত নিয়েই ইরানের উদ্বেগ নেই। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় সব উপাদান দেশেই উৎপাদন করা হয় এবং সক্ষমতা থাকলে এসব উপাদান রপ্তানিও করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
বালালির ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার ক্ষেত্রে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেয়। দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নকশা তৈরি থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত করতে সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা!

তিনি আরও বলেন, সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে নতুনত্ব আনার কাজ করছে। ফলে এই খাতে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন এখন আর নেই বলে দাবি করেন আইআরজিসির এই কর্মকর্তা।
আলী বালালির এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ দপ্তর ইরানের অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির উপাদান সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন দেশে থাকা ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
তবে এসব নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপাদান ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বালালি। দেশটির পক্ষ থেকে এর আগেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোর বর্তমান সক্ষমতা বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে আইআরজিসি কর্মকর্তার দাবিকে ইরানের নিজস্ব বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

















