উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুরে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দুঃশাসনের সময় রাজপথে বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ‘গয়েশ্বর চন্দ্র রায়’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন পলাশ কুণ্ডু। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার নানা কর্মকাণ্ড এবং সম্প্রতি তাকে নিয়ে শুরু হওয়া অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তার নিজ এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পলাশ কুণ্ডু বলেন, ২০০৩ সাল থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় তিনি জোরালোভাবে অংশ নেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জয়লাভের জন্য লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন ইউনিয়নে উঠান বৈঠকসহ নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
অ্যাম্বুলেন্সে মিলল ৬৭২ বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাপ, আটক ২!

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দুঃশাসনে রাজপথের দুর্দিনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এ কারণে উজিরপুরের নেতাকর্মীরা তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামে ডাকতেন। একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও তিনি কখনো শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে যাননি। ফ্যাসিবাদের দমন-পীড়নের মুখেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে সরে যাননি।
পলাশ কুণ্ডু বলেন, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ সবসময় বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা থেকে বিএনপিকে ভোট দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের আমলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য বিএনপির দিকেই তাকিয়ে থেকেছে। তিনিও তার সম্প্রদায় ও দলের মধ্যে সেই আস্থার সেতু হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি মানে কোনো ক্ষমতা বা পদ-পদবি নয়, রাজনীতি মানে মানুষের সেবা করা। তিনি তার সাধ্যমতো ও নিজস্ব অর্থায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছেন। তিনি যদি ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর হতেন, তাহলে জনগণ তাকে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলে ডাকত না। কিন্তু সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে তিনি অত্যন্ত হতাশ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৫ নম্বর শোলক ইউনিয়নের প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও আংশিক ও খণ্ডিত আকারে প্রচার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ মহল তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
পলাশ কুণ্ডু বলেন, তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টসুলভ রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের বিন্দুমাত্র প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য তিনি বিএনপি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
সবশেষে তিনি ৫ নম্বর শোলক ইউনিয়নের আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন ও মূল্যায়নের জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
















