বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে শেষবার দেখা হওয়া তার কথিত ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে তুরাগ নদে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীপের ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে পিবিআই সদস্যরা হেফাজতে নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের ‘বি’ ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যান পিবিআই সদস্যরা। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে বলে জানা গেছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার গতিসীমা ২৫ কিলোমিটার, নিবন্ধন ফি নির্ধারণ!

নিখোঁজ হওয়ার আগে সিসিটিভিতে দীপের সঙ্গে দেখা
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে রাজধানীর উত্তরার একটি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে এক ব্যক্তির দেখা হওয়ার দৃশ্য পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।
ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে দেখা করেন দীপ। এ সময় দুজনকে পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তারা দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
তাহসিফের পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এদিকে দীপের দাবি ছিল, তাহসিফের মোটরসাইকেলে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা দুজন একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। সেখানে মেরামতের কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান। পরে দীপ নিজের গন্তব্যে চলে যান। তবে এরপর তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং পরদিন তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীপের সঙ্গে কাটানো শেষ সময়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
এর আগে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
প্রথমে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে হাতে থাকা বিশেষ ঘড়ি এবং প্যান্টের পকেটে পাওয়া আইফোনের সূত্র ধরে স্বজনেরা নিশ্চিত হন, এটি নিখোঁজ সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ।
মরদেহ উদ্ধারের পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের সন্দেহ
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট অস্বাভাবিকভাবে ফোলা ছিল বলে জানা গেছে।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের অভিযোগ, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ অবস্থায় তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার আগে তার সঙ্গে সময় কাটানো দীপকে পিবিআইয়ের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা তদন্তে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং তাহসিফের মৃত্যুর পেছনের রহস্য কতটা উন্মোচিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
















