জাপান থেকে দেশে ফেরার পথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও সফরসঙ্গীদের রেখে অন্য বিমানে দেশে ফিরতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং বিমানের অন্য যাত্রীদের কাছে গিয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও যাত্রীদের খোঁজখবর নেন এবং শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, জাপান থেকে ঢাকায় ফেরার আগে বিমানটির পর্যবেক্ষণের সময় সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। তবে এটি বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত ত্রুটির সমাধান করা হয়।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘জাপান থেকে ফেরার আগে বিমানে সামান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে জাপান থেকে প্রধানমন্ত্রী চাইলেই অন্য কোনো বিমানে দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু সবাইকে সেখানে ফেলে তিনি সেটি করতে চাননি। ওই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বিমানের অন্য যাত্রীদের কাছে গিয়ে কথা বলেছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরেছেন।’
ব্যাটারিচালিত রিকশার গতিসীমা ২৫ কিলোমিটার, নিবন্ধন ফি নির্ধারণ!

তিনি আরও জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও যাত্রীদের পাশে দাঁড়ান। বিশেষ করে শিশুদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেন এবং তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘তিনি তাৎক্ষণিক বিমানের যাত্রীদের অভয় দেন। বিশেষ করে বাচ্চারা যেন কান্নাকাটি না করে, তারা যেন ভালোভাবে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জাপানি বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
















