সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল শনাক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে মোটরসাইকেলের পেছনের পাশাপাশি সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসংবলিত প্লেট লাগাতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বাইক মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মাপ, রং ও উপকরণ অনুসরণ করে এই নম্বর প্লেট স্থাপন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিআরটিএর গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এতদিন মোটরসাইকেলের পেছনে অনুমোদিত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব নম্বর প্লেট প্রদর্শনের বিধান ছিল। তবে এবার সামনের অংশেও নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত, ঢাকার বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির আধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলন্ত মোটরসাইকেল সামনে থেকে ক্যামেরার আওতায় এলে যেন সহজেই তার নিবন্ধন নম্বর শনাক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিআরটিএকে।
জুলাই সনদ ছাড়া রাষ্ট্র চালানো ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার মতো: হাসনাত

নির্দেশনায় মোটরসাইকেলের ধরন অনুযায়ী নম্বর প্লেটের মাপও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুটারের ক্ষেত্রে প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্য মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। প্লেটে ব্যবহৃত বাংলা অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে।
নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পটভূমি সাদা এবং অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙের হতে হবে। প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক নকশা বা অতিরিক্ত উপাদান ব্যবহার করা যাবে না। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর এক লাইনে লেখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়ন নিয়ে মোটরসাইকেল মালিক ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান মডেলের অনেক মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ফলে প্লেট স্থাপন করতে গিয়ে বাইকের মূল নকশায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া দ্রুতগতিতে চলার সময় বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি, মোটরসাইকেলের ভারসাম্যে প্রভাব এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এসব কারিগরি বিষয় যাচাই করতে বিআরটিএ, ডিএমপি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে বিআরটিএ। সামনের নম্বর প্লেট ব্যবহারে মোটরসাইকেলের নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও নকশায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। প্রতি বছর এর সঙ্গে আরও প্রায় পাঁচ লাখ মোটরসাইকেল যুক্ত হচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নতুন নিয়ম কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নিয়মটি সব নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, নাকি শুধু নতুন মোটরসাইকেলের জন্য কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল কিংবা নম্বর প্লেট ঢেকে রাখা যানবাহন শনাক্ত করতে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং সড়কে আইন লঙ্ঘন নিয়ন্ত্রণে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
















