ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে দুদিনে তৃতীয়বারের মতো আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে রাহুলের সঙ্গে তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী দলের আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে রাহুলের বক্তব্য, নির্ধারিত স্থানে গিয়ে তারা দেশের মানুষের সামনে ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
বুধবার দুপুরে মধ্য দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার পর রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা জনপথ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় বৈঠক করেন।
বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে খাড়গে অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের অভিযোগ জনগণের সামনে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের জয় দাবি আইআরজিসি কর্মকর্তার!

বৈঠক শেষে সংসদ সদস্যরা বাসে করে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। তবে তাদের যাওয়ার বিভিন্ন সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। একপর্যায়ে পথেই তাদের বাস থামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রথমে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে একটি বাসে তুলে নেয় পুলিশ। পরে অন্য নেতাদেরও আটক করার চেষ্টা করা হলে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে সড়কে বসে পড়েন। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অন্য নেতারা সড়ক ছাড়েননি। একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়েন। পরে পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে আবার বাসে তুলে নেয়।
দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করতে হলে আগে অনুমতি নিতে হয়। কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এ কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি বলে দাবি পুলিশের।
অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, বিরোধী সংসদ সদস্যরা যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ করবেন। তার দাবি, প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের জানানো হয়েছে, সেখানে বিক্ষোভ করা যাবে না।
রাহুল বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো নির্ধারিত স্থানে যাওয়া। আমরা যন্তর মন্তরে গিয়ে সবাই একসঙ্গে বসব। দেশের মানুষকে জানাব যে জ্ঞানেশ কুমার আমাদের কাছে বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন।’
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগও করেন।
এর আগে মঙ্গলবারও নির্বাচন কমিশনের সদরদপ্তরের দিকে যাওয়ার পথে বিরোধী সংসদ সদস্যদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। সেখান থেকেই রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ।
ফলে বুধবারের ঘটনাটি নিয়ে টানা দুই দিনে তৃতীয়বারের মতো রাহুল গান্ধী আটক হলেন। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের এই আন্দোলন এখন নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ভারতের রাজনীতিতে।
















