‘সমাজের নিকৃষ্ট যে লোকটা, সেটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’—নিজের এমন বিতর্কিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সমাজের সৎ ও ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব ছিল না। বৃহস্পতিবার ভোলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার আশা প্রকাশ এবং নির্বাচনব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্পিকার।
নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন সময়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে সমাজের ভালো ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
প্রথমবার সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্পিকারের মতে, নির্বাচনব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্পিকার বলেন, সমাজে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা যেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে তাঁর ধারণা, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তাঁর মতে, নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অবাধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। তাই এ নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা প্রয়োজন। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু হয়েছে।
এ সময় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়েও মন্তব্য করেন স্পিকার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, ভোলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে এবং সেখানে আরও বড় গ্যাসভান্ডার থাকার সম্ভাবনা আছে। এ সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
স্পিকার জানান, ভোলার গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে বিদেশে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে ভোলার গ্যাসের সুফল স্থানীয় বাসিন্দাদের পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ভোলার গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।















