রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হন এবং সড়কে অব্যবস্থাপনা দেখে এই নির্দেশ দেন।
বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। তারা দুজনেই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরণের প্রটোকল ছাড়াই বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগে থেকে জমে থাকা ময়লা পড়ে থাকতে দেখেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই ধরন দেখে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
দেশে হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালামসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
এদিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিলেও ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর অনেক এলাকায় পশুর উচ্ছিষ্ট ও ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রাজধানীর পীরেরবাগ, সেনপাড়া, মিরপুর-১০ এবং পুরান ঢাকার জিগাতলা, হাজারীবাগ ও চকবাজারের বাসিন্দারা বর্জ্যের দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন। প্রধান সড়কগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকলেও অলিগলিগুলো এখনো পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পূর্ব রামপুরার এক বাসিন্দা জানান, সিটি করপোরেশন রাতের মধ্যে সব পরিষ্কারের কথা বললেও পরদিন সকাল পর্যন্ত ময়লা ও রক্তমাখা মাটি পড়ে ছিল। দুর্গন্ধে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, ঈদের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ ওয়ার্ড ইতোমধ্যে বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে।
তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, বর্জ্য অপসারণে কর্তব্যে গাফিলতি ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জনসেবায় এমন অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে কাজের এই ধরন আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
















