নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক বীর বিক্রমের পরিবারের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে মো. আবদুর রহিম।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের পরিবারের মালিকানাধীন একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী জহিরুল হক এবং তার দুই ছেলে দিদারুল আলম ও রাকিবুল আলমের সঙ্গে বিরোধ চলছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জহিরুল ও তার ছেলেরা জোর করে জমি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে আবদুর রহিম উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে অভিযুক্তরা ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন। ওই সময় বাধা দেওয়া হলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আদিতমারীতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন

একই দিন দুপুরে অভিযুক্তরা আবারও কাজ শুরু করলে আবদুর রহিমের ছোট ভাই আবদুল আজিজ বাধা দেন। তখন তাকে মারধর করা হয় এবং অভিযুক্ত দিদারুল আলম প্রভাব খাটিয়ে তার একটি অটোরিকশা নিয়ে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আবদুর রহিম বলেন, “আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর বিক্রম উপাধি পেয়েছিলেন। তিনি মারা গেছেন। আমাদের প্রতিবেশী দিদারুল আলম, তার ভাই রাকিবুল আলম ও তাদের বাবা জহিরুল জোর করে আমাদের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। আমরা আদালতে মামলা করেছি, তারপরও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা বাড়িতে থাকি না, আমার ছোট ভাই থাকে। তাকে কিশোর গ্যাং দিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমরা এখন অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছি।”
তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও জমি দখলের চেষ্টা করায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগ অস্বীকার করে জহিরুল হক বলেন, “আমি ২৬ বছর আগে এই জমি কিনেছি। সেখানে পুরোনো ঘর ভেঙে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছি। আদালতে কোনো মামলা আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















