শাহ আলম, কুড়িগ্রাম:
‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান মণ্ডল এবং শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনীতে মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের জেলা কমিটির সাধারণ সভা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কুড়িগ্রাম জেলায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ৯৭৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৯৮ জন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োজিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ৩৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৪ জন তত্ত্বাবধায়ক এবং সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ১০৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১১ জন তত্ত্বাবধায়ক মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা অনলাইন তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত করবেন।
এই কর্মসূচির আওতায় পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। সব নারী পরিবারপ্রধান কার্ড পেলেও পিএমটি স্কোর অনুযায়ী প্রথম তিন শ্রেণির যোগ্য পরিবারগুলো সরকারের এই ভাতা পাবে। ৮৬০ বা তার কম স্কোর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের ‘টাকা পে’ পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের বিক্রয়কেন্দ্র এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতার টাকা তোলা যাবে।
উল্লেখ্য গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

















