চট্টগ্রাম অফিস:
দি কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ ও তছরুপের আশঙ্কায় সোসাইটির এক সদস্যের দায়ের করা মামলায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ সভা পরিচালনা ও অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫ম সিনিয়র সিভিল জজ (সদর) আদালতের বিচারক আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক আজম গত ৮ অক্টোবর এই আদেশ দেন।
আদালত একই সাথে বাদী মোহাম্মদ রায়হান উল্লাহর আবেদন অনুযায়ী দি কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিকে সাধারণ সভা পরিচালনা ও অনুষ্ঠান করার বিষয়ে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না, সেই মর্মে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আবেদনে সদস্য রায়হান উল্লাহ জানান, দি কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড বাংলাদেশের সমবায় আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ অনুযায়ী পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সমিতির সভাপতি ওয়াহেদ মালেক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং ব্যবস্থাপক মো. মঞ্জুরুল আলম পরস্পর যোগসাজশে এসব আইনের তোয়াক্কা না করে বেআইনি ও বিধিবহির্ভূতভাবে কার্যাবলী চালিয়ে আসছেন, যা সমিতির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। মামলায় এই ৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
নাগেশ্বরীতে সারের ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি

আর্জিতে বলা হয়, গত ১৬ মে সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করা হলে তা পরবর্তীতে স্থগিত করা হয়। কিন্তু স্থগিত হওয়া সভা পুনরায় অনুষ্ঠানের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এবং সদস্যদের কোনো মতামত না নিয়ে বিপুল অর্থ অপচয়ের উদ্দেশ্যে গত ১০ অক্টোবর আরেকটি সভা আহ্বান করা হয়। শুধু তাই নয়, সোসাইটির ওই ৩ কর্মকর্তার মাধ্যমে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দৈনিক পূর্বকোণ’ পত্রিকায় প্রকাশিত নোটিশে জানা যায় যে, চিটাগাং ক্লাবে সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু উক্ত নোটিশে পূর্বে স্থগিত হওয়া সভার এজেন্ডা ও আলোচ্যসূচির সাথে ব্যাপক গরমিল দেখা যায়, যার ফলে সমিতির বিপুল অঙ্কের অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।
সোসাইটির সদস্য রায়হান উল্লাহ অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, তার পক্ষ থেকে ওই তিন কর্মকর্তাকে ১০ অক্টোবরের সভা বাতিল করে স্থগিত হওয়া সভা পুনরায় অনুষ্ঠানের জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিত অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই সভা সম্পন্ন করার ব্যাপারে অনড় থাকেন। সমবায় আইন ও উপ-আইনের বিধান লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রচারিত ১০ অক্টোবরের নোটিশটি সম্পূর্ণ বেআইনি, এখতিয়ারবহির্ভূত এবং সোসাইটির সদস্যদের তথা বাদীর স্বার্থবিরোধী।
এর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে সদস্য রায়হান উল্লাহ আরও জানান, আগের বার্ষিক সাধারণ সভার মুলতবি এজেন্ডাসমূহ নিষ্পত্তির জন্য আইনানুগ উপায়ে সভা আহ্বান না করে বেআইনি উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ নতুন এজেন্ডায় নতুন সভা আহ্বান করা হয়েছিল। এ ছাড়া সমবায় সমিতি বিধিমালার সুস্পষ্ট বিধান অনুসারে বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ অন্তত ১৫ দিন আগে ডাকযোগে অথবা রেজিস্টার্ড ডাকযোগে প্রতিটি সদস্যের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ওই কর্মকর্তারা তা না করে স্রেফ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে একটি অসম্পূর্ণ ও অবৈধ নোটিশ জারি করেছেন, যা বিধিবহির্ভূত।
উপ-আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধিমালা অনুসারে আহ্বান করা সভার নোটিশের সাথে বিগত বছরের অডিট রিপোর্ট, বার্ষিক হিসাব বিবরণী, প্রস্তাবিত বাজেটসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাগজপত্র পাঠানো হয়নি। এ ছাড়া ওই কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপনা কমিটির যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই সোসাইটির ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং সভার আগে সদস্যদের কাছে হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার না করে সম্পূর্ণ অসৎ ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ওই সভা আহ্বান করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিলযোগ্য।
মামলার বাদী রায়হান উল্লাহ আদালতে জানান, সোসাইটির সভাপতি ওয়াহেদ মালেক, সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও ব্যবস্থাপক মো. মঞ্জুরুল আলমের এসব বেআইনি ও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
তার এসব বক্তব্য পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে আদালত উক্ত স্থগিতাদেশ জারি করেন এবং কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না তা ১৫ দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেন।

















