অভাবের তাড়নায় গর্ভের সন্তান বিক্রি করার কথা ভাবতে বাধ্য হওয়া অসহায় অন্তঃসত্ত্বা নারী আঁখি ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসার পর পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরে আঁখি ও তাঁর পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সন্তান প্রসবের সব খরচ বহন এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে আঁখির অসহায়ত্বের চিত্র। তিনি তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝা সামলাতে গিয়ে অনাগত সন্তানকে বিক্রি করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের কথা ভাবছিলেন তিনি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে পরিবারটির খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন তিনি।
সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও এলএনজি টার্মিনাল, বৃহস্পতিবার খুলনা সফরে প্রধানমন্ত্রী!

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত আঁখি ও তাঁর পরিবারের সন্ধান করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়।
এ সময় জানা যায়, আঁখির স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। সংসারের খরচ মেটানো ও ঋণ পরিশোধের চাপ তাঁদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। এমন অসহায় অবস্থার মধ্যেই অনাগত সন্তানকে বিক্রি করার কথা ভাবতে বাধ্য হন আঁখি।
পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানার পর তাদের সহায়তায় উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আঁখি ও তাঁর পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আঁখির সন্তান প্রসবের যাবতীয় খরচ বহন করার পাশাপাশি পরিবারটির জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। চরম আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন আঁখি ও তাঁর স্বজনেরা।
















