বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার আগে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এক তরুণী ও বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের একসঙ্গে প্রবেশ ও বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁদের এই অবস্থান এবং সঙ্গে থাকা তরুণীর পরিচয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
একাত্তর টিভির হাতে আসা একাধিক সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে এক তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ যান তাহসিফ। এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ।
ফুটেজে দেখা যায়, পানশালার লিফটে ওঠার আগে তাহসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা তরুণী কিছুক্ষণ দীপের জন্য অপেক্ষা করেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান তাঁরা।
৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে আগুন!

তবে ওই তরুণী কে, কী কারণে তিনজন সেখানে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পর তাঁদের গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের এই দেড় ঘণ্টার অবস্থান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে তাহসিফের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরে নৌপুলিশের করা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাঁকে।
শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন থেকেই তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে ছিলেন। রিমান্ডে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ফোন পাওয়ার পর উত্তরার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর থেকে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া, দীপের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়া এবং মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরার রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে মৃত্যুর আগের রাতে তাহসিফের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের চলাচল এবং মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই সাবেক এই বিমান কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
















