রংপুরের পীরগাছায় ১২ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি কলেজের একমাত্র শিক্ষার্থী। কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার মানবিক বিভাগে অংশ নেওয়া একমাত্র পরীক্ষার্থী সঞ্জীব বর্মন একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এর আগের বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। পরপর দুই বছর এমন ফলাফলে কলেজটির পাঠদানের মান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজটি দীর্ঘ ১৫ বছর পার করলেও এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে কলেজ শাখায় ১২ জন শিক্ষকসহ অফিস সহায়ক ও অন্যান্য কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৬ জন দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ শিক্ষার্থীসংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন সঞ্জীব বর্মন। তিনিই ছিলেন কলেজটির একমাত্র পরীক্ষার্থী। কিন্তু একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় তার পাস করা হয়নি। ফলে ১২ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এবারের পরীক্ষায় কলেজটির পাসের খাতা শূন্যই রয়ে গেছে।
বাবাকে হারিয়ে থেমেছিল পড়াশোনা, ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস শেফালীর!

এর আগে গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ওই ফলাফল নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলে তৎকালীন অধ্যক্ষ আগামীতে ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর মধ্যে শিক্ষার্থীসংকটের পাশাপাশি মামলা-মোকদ্দমা ও পদ নিয়ে নানা জটিলতার ঘটনাও ঘটেছে।
কলেজটির সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী জানান, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে অফিস সহায়কসহ মোট ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
তার দাবি, এমপিওভুক্ত না হওয়া, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার্থীসংকট ও ফলাফল বিপর্যয়ে ধুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি। ১২ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও একমাত্র পরীক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
















