ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সম্ভাব্য ইরানি হামলা মোকাবিলায় বিমানবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক গোয়েন্দা বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সমন্বয় জোরদার হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় দেশটির সামরিক বাহিনী একাধিক ফ্রন্টে প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বিমান হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রম নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানে বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ওয়াশিংটন আগেই তেল আবিবকে বিষয়টি জানাবে—এমন একটি সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত করার সময় পাবে ইসরায়েল।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিলেই রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করবেন জেলেনস্কি!

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
এ বিষয়ে ১ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ইসরায়েলের নেভাতিম ও উভদা বিমানঘাঁটিতে ১০টির বেশি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান পৌঁছেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চলে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সরঞ্জাম মোতায়েনের খবরও পাওয়া গেছে। এসব তৎপরতাকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জেরুজালেম পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য সামনে রেখে যৌথ সামরিক অভিযানের বিষয়েও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে তুলে ধরেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি এবং সংবাদমাধ্যমের এসব প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিশ্চিত হামলার ঘোষণা নয়।
সূত্র: রয়্যা নিউজ, জেরুজালেম পোস্ট।
















