জামালপুরের মেলান্দহে চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের স্বীকৃতি চেয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন দুই সন্তানের জননী এক নারী। তাঁর অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে গার্মেন্টসে কাজ করে উপার্জিত টাকা প্রেমিককে দিয়েছেন। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর প্রেমিকের পাঠানো টাকায় গর্ভপাতও করিয়েছেন। পরে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন ওই নারী। এ ঘটনায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। ওই অর্থ থেকে এক নেতার বিরুদ্ধে ৭ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে মেলান্দহ উপজেলার ৪ নম্বর নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামে আলী হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী নারী উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের নুর হোসেনের মেয়ে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি নারায়ণগঞ্জের ফারিয়া গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
কুড়িগ্রামে ছেলের হাতে প্রাণ গেল মায়ের!

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহের টুপকারচরে নানির বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আলী হোসেন উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামের সুরুজ্জামান ওরফে হুটকুর ছেলে। তাঁর বয়স ২২ বছর।
ওই নারীর দাবি, পরিচয়ের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এ সম্পর্কের সময় গার্মেন্টসে কাজ করে উপার্জিত অর্থ থেকে প্রতি মাসে আলী হোসেনকে টাকা দিতেন তিনি। এ ছাড়া প্রেমিকের মন রাখতে মাঝেমধ্যে কেনাকাটাও করে দিতেন। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে আলী হোসেনের পাঠানো টাকায় গর্ভপাত করান বলেও দাবি করেন তিনি।
ওই নারীর ভাষ্য, মেলান্দহের ডেফলা এলাকায় তাঁর ফুফাতো বোনের স্বামীর বাড়িতে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। পরে রোববার দুপুরে মেলান্দহের জিন্নাহ মার্কেট এলাকায় আলী হোসেন তাঁর মায়ের অসুস্থতা ও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে ব্যাগ রেখে তাঁর কাছ থেকে আলাদা হন।
এরপর আলী হোসেনের আর খোঁজ পাননি বলে দাবি করেন ওই নারী। বিয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিতে সোমবার দুপুরে তিনি আলী হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। ওই সময় বাড়িতে পরিবারের কাউকে না পেয়ে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরে ওই নারীর ঘনিষ্ঠ দুই ফুফার মধ্যস্থতা এবং এক ছাত্রদল নেতার সহযোগিতায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই নারীর অভিযোগ, মীমাংসার মাধ্যমে পাওয়া অর্থের মধ্য থেকে জুয়েল নামে এক নেতা রাতে তাঁর বাড়িতে এসে ৭ হাজার টাকা নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ জুয়েল বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। তবে ৭ হাজার টাকা নেইনি, নিয়েছি ১ হাজার টাকা।’
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শিপুল ফকির বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি জুয়েলের সঙ্গে কথা বলে তারপর জানাব।’
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
















