নাটোরের গুরুদাসপুরে ১২৩ বছর বয়সে মারা গেছেন আব্বাস প্রামাণিক। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ ব্যক্তি দীর্ঘ জীবন কাটানোর পাশাপাশি শিক্ষকতা ও বিনামূল্যে শিশুদের কুরআন শেখানোর জন্য এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই কুরআন পড়তে পারার বিষয়টি তাঁকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নাতি রিপন হোসেন।
রিপন হোসেন জানান, রোববার হঠাৎ তাঁর দাদার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সেখান থেকে একজন চিকিৎসক এসে তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেন। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অপপ্রচারের শিকার উজিরপুরের ‘গয়েশ্বর’ খ্যাত পলাশ কুণ্ডু, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্রের ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক আবু সাইদ সরকার জানান, আব্বাস প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সেবাকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছিলেন। তাঁর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দ্রুত বাড়িতে চিকিৎসক পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, আব্বাস প্রামাণিকের জন্ম ১৯০৩ সালে। সেই হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৩ বছর। দীর্ঘায়ুর কারণে তিনি এলাকার প্রবীণতম ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কর্মজীবনে আব্বাস প্রামাণিক খুবজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সে সময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে চাকরি করতেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনামূল্যে পবিত্র কুরআন শিক্ষা দিতেন। তাঁর এই উদ্যোগ ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
আব্বাস প্রামাণিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। তিনি বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখত। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বিষয়টিকে অত্যন্ত কষ্টের বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, শিক্ষকতা এবং শিশুদের বিনামূল্যে কুরআন শেখানোর স্মৃতি রেখে চলে গেলেন আব্বাস প্রামাণিক। তাঁর মৃত্যুতে একজন প্রবীণ মানুষকে হারাল গুরুদাসপুরের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মানুষ।

















