প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী: বিশ্বনবী মোহাম্মদ...

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী: বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.)

১৫ মে ২০১৮ ০২:১৯ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মোহাম্মদ আসাদ আলী
প্রাক ইসলামী আরবরা ছিল সারা পৃথিবীর অবহেলা ও অবজ্ঞার পাত্র। ন্যূনতম সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক শক্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নৈতিকতাবোধ, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, মানবিক উৎকর্ষতা, পারস্পারিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্যচেতনা ইত্যাদি কিছুই তাদের ছিল না। শুধু ছিল বংশানুক্রমিক গৃহযুদ্ধ, গোত্রে গোত্রে হানাহানি, রক্তারক্তি, শত্রুতা, সীমাহীন অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ধর্মবাণিজ্য, জেনা-ব্যাভিচার, চুরি, ডাকাতি, লুটতরাজ, হুজুগপ্রবণতা, মাদকাসক্তি, দাসপ্রথা, কন্যাশিশু হত্যা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি। অর্থাৎ ভালোর মধ্যে কিছু না থাকলেও খারাপের মধ্যে কিছুই বাদ ছিল না তাদের। সেই চরম অনৈতিকতা ও বর্বরতায় লিপ্ত লোকগুলোকেই মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে বিশ্বনবী কোথায় নিয়ে দাঁড় করালেন এবং তাঁর দেখানো পথনির্দেশ মোতাবেক তাঁর ওফাতের পর মাত্র কয়েক দশক না পেরোতেই ঐ আরবরাই তরতর করে উন্নতির কোন শিখরে গিয়ে পৌঁছল সে ইতিহাস আমরা সবাই জানি। ভুখা-নাঙ্গা আরবদের এই যে অকল্পনীয় মহাবিস্ফোরণ- এর জ্বালানি যুগিয়েছেন মাত্র একজন মানুষ, তিনি বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.)। আর তা করতে গিয়ে ঐ মহাবিপ্লবী মানুষটিকে একটি চরম পশ্চাদপদ জাতির প্রতিটি দিকে, প্রতিটি অঙ্গনে প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতার সাথে ‘অসম্ভব গতিশীল’ পদচারণা করতে হয়েছে। একটি শিশুর জন্মপ্রক্রিয়া থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্যন্ত- মানবজীবনের হেন দিক নেই যা নিয়ে তাঁকে ভাবতে হয় নি, কথা বলতে হয় নি।
তাঁকে ভাবতে হয়েছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে, পররাষ্ট্রনীতি ও স্বরাষ্ট্রনীতি নিয়ে, অর্থনীতি নিয়ে, সামাজিক স¤পর্ক নিয়ে, পারিবারিক বন্ধন নিয়ে, এমনকি ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যা নিয়েও। তাঁকে ইহকালের পাশাপাশি সমাধান দিতে হয়েছে পরকালের, দেহের পাশাপাশি আত্মার। হাজারো সমস্যা তাঁর সামনে হাজির করা হত। যার যত প্রশ্ন ছিল তাঁর সামনে অবলীলায় বলে ফেলতে পারত। যার যত দাবি-দাওয়া, প্রত্যাশা থাকত অকাতরে উত্থাপন করত। একেক মানুষের চিন্তাধারা, বিশ্বাস, কর্মজীবন ছিল একেকরকম। ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের রীতি-নীতি ছিল ভিন্ন ভিন্ন। ওদিকে শত্রুশিবির গমগম করত ধারাবাহিক যুদ্ধের আয়োজনে। কখনও কখনও জাতির অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে যেত, যেমন খন্দকের যুদ্ধ বা অবরোধ! তথাপি শত প্রতিবন্ধকতার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে তিলে তিলে তিনি একটি জাতি গঠন করলেন। প্রথমত ভিন্নমতের, ভিন্ন বিশ্বাসের, ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের ও ভিন্ন জীবিকার মানুষগুলোকে আহ্বান জানালেন যাবতীয় অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে, তারপর যারা ঐক্যবদ্ধ হবার সিদ্ধান্ত নিল তাদের নিয়ে একটু একটু করে গড়ে তুললেন জাতির রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সামাজিক ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, বাজারব্যবস্থা, পারিবারিক ব্যবস্থা ইত্যাদি। তাঁকে অনৈক্যপ্রবণ মানুষগুলোর মধ্যে ঐক্যের চেতনা জাগাতে হয়েছে। বিশৃঙ্খল মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ শেখাতে হয়েছে। ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যপ্রবণদের আনুগত্যপরায়ণ করতে হয়েছে। জ্ঞানচর্চাবিমুখ একটি জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানমুখী করতে হয়েছে। যে অস্ত্র ব্যবহৃত হত কেবলই প্রতিশোধমূলক শত্রুতার কাজে, সে অস্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়েছে মানুষের কল্যাণের পথে।
এ গেল একটি দিক, বাহ্যিক দিক। অন্য দিকটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জাতির বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়েও আত্মিক পরিবর্তন বেশি জরুরি এটা আল্লাহর রসুল ভালোভাবেই জানতেন। তিনি জানতেন যাদের নিয়ে তাঁর পথ চলা তারা খুব বেশিদিন হয় নি জাহেলিয়াতের যুগ অতিক্রম করেছে। সেই জাহেলিয়াত যাতে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তারও নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়েছে তাঁকে। ভোগ্য দ্রব্য-সামগ্রির বস্তু হিসেবে বিবেচিত হতো নারীরা। সেই নারীদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে তাঁকে। কেবল ব্যভিচার নিষিদ্ধকরণই তাঁর শেষ কথা ছিল না, কোন প্রক্রিয়ায় সামাজিক-পারিবারিক জীবন দূষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ হবে সে উপায়ও তুলে ধরতে হয়েছে তাকে। যে সমাজে দাসীদেরকে মনে করা হত নিছক যৌন সামগ্রী, মনরঞ্জনের বস্তু, সেই সমাজকেই বিশ্বাস করাতে হয়েছে দাসীরাও তোমাদের মতই রক্ত-মাংসের মানুষ, তাদেরও হৃদয় আছে, তাদেরও দুঃখ-কষ্টবোধ আছে। তারা যন্ত্র নয়। তোমরা যে আল্লাহর সৃষ্টি, তারাও সেই আল্লাহর সৃষ্টি। সব মানুষ এক পিতা-মাতা আদম হাওয়ার সন্তান, আল্লাহর চোখে সবাই সমান। এই বিশ্বাস পোক্ত করার জন্য তিনি নিজেই একজন দাসীকে, মারিয়া কিবতিয়াকে (রা.) বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।
আল্লাহর রসুল জানতেন কেবল দাসমুক্তির ব্যবস্থা করাই একমাত্র সমাধান নয়। ঐ মুক্তদাসেরা যতদিন সমাজের আর দশজন মানুষের মতই সমমর্যাদা ভোগ না করছে ততদিন লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ফলে দাসদের সমমর্যাদা নিশ্চিত করার মনস্তাত্তি¡ক লড়াইতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই মহামানব এমন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যা বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে চিরদিন। মক্কা বিজয়ের দিনে অর্ধনগ্ন হাবশী বেলালকে (রা.) ক্বাবার ছাদে উঠিয়ে বিশ্বনবী কোরাইশ আভিজাত্য ও অহংকারের মূলে প্রচণ্ড চপেটাঘাত করে বুঝিয়ে দিলেন- ‘‘এই হচ্ছে ইসলাম। এই হচ্ছে ইসলামের মূল্যবোধ। তোমরা যাদেরকে মানুষই মনে করতে না তারা আমার আল্লাহর কাছে এই ক্বাবার চাইতেও বেশি প্রিয়।’’ একইভাবে জীবনের শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়ে বাঘা বাঘা কোরাইশ ও আনসারদেরকে রেখে ওসামা বিন যায়েদকে (যার পিতা এক সময় দাস ছিলেন) যুদ্ধের সেনাপতি বানানোর ঘটনাই কি কম তাৎপযপূর্ণ? এর মাধ্যমে রসুল উম্মতের জন্য আরও এক প্রস্থ শিক্ষা রেখে যান যে, ইসলামে নেতৃত্বের যোগ্যতা বংশীয় আভিজাত্য দিয়ে নয়, দক্ষতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এগুলো নিছক একেকটি ঘটনা নয়, একেকটি মাইলফলক।
এটা ইতিহাস যে, অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী কার্ল মার্ক্স সারাটা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানবজীবনের কেবল অর্থনৈতিক মুক্তির একটি তত্ত¡ আবিষ্কার করেছিলেন। সে তত্ত¡ও ভারসাম্যপূর্ণ নয়, স¤পূর্ণ আত্মাবিবর্জিত সুতরাং অপ্রাকৃতিক। অথচ বিশ্বনবী কেবল অর্থনীতি নয়, কেবল জাতীয় নীতি নয়, কেবল আইন-কানুন-দণ্ডবিধি নয়, কেবল প্রশাসন পরিচালনা নয়, কেবল নারী অধিকার নিশ্চিতকরণ নয়, কেবল শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতকরণ নয়, কেবল মানুষের জৈব চাহিদা পূরণ নয়, কেবল আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ নয়, কেবল ইহকালীন মুক্তি নয়, বরং মানবজাতির ‘সামষ্টিক’ জীবনের ‘পূর্ণাঙ্গ’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ দিক-নির্দেশনা দান করেছেন এবং মাত্র ২৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে নিজ হাতে সেটার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে গেছেন। জাহেলিয়াতের সমুদ্র থেকে আস্ত একটি জাতিকে একাই তীরে টেনে তুলেছেন। এ যেন কল্পনার পরিধিকেও ছাড়িয়ে যায়!
ইদানীং একটি শ্রেণি গজিয়েছে তারা অভিমানে গাল ফোলান আল্লাহর রসুল দাসপ্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন না কেন, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করলেন না কেন, যুদ্ধ-রক্তপাত নিষিদ্ধ করলেন না কেন ইত্যাদি নিয়ে। আল্লাহর রসুল কী কী করেন নি- এ নিয়ে গবেষণা করে মাথা খারাপ করার দরকার পড়ত না যদি তারা বুঝতে সক্ষম হতেন তিনি কী কী করেছিলেন, কোন অসাধ্যগুলো তাঁকে সাধন করতে হয়েছিল মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে। নারী অধিকারের প্রসঙ্গে বলতে হয়- ইউরোপে ফরাসি বিপ্লব হয়ে যাবার পরও নিছক ভোটদানের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে নারীদেরকে গিলোটিনে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তখন পর্যন্ত ইউরোপের অবস্থাই যদি এমন শোচনীয় হয় তবে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে কী ঘটছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়। আর অষ্টাদশ বা উনবিংশ শতাব্দীর নারীরাই যদি এমন ব্রাত্যদশা ভোগ করে তবে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগের একটি বর্বরতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীরা কত বঞ্চিত ও অবহেলিত দিনাতিপাত করত তাও অনুমেয়। সেই অবস্থা থেকে বিশ্বনবী নারীদেরকে কোন অবস্থানে উন্নীত করেছিলেন তা ইতিহাস। জাতীয় ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ তো নিশ্চিত হয়েছিলই, এমনকি বিশ্বনবী নারীদেরকে নিয়ে যুদ্ধ পর্যন্ত করেছেন। নারী-পুরুষ একসাথে মসজিদে নববীতে সালাহ কায়েম করত। একসাথে হজ্ব করত। একসাথে বসে রসুলের আলোচনা, বক্তৃতা শুনত, কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করে জেনে নিত। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়েও রসুলের সাথে নারীদের পরামর্শ করার ঘটনা জানা যায়। মসজিদে নববীর পাশে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল যার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একজন নারী, রুফায়দাহ (রা.)। হযরত উমর (রা.) এর খেলাফতের সময় বাজার দেখাশোনা করার দায়িত্ব পালন করেছেন একজন নারী, শেফা (রা.)। ওহুদ যুদ্ধে উম্মে আম্মারা (রা.) মুসলিম বাহিনীর পক্ষে যে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন তার বিবরণ দিয়েছেন আল্লাহর রসুল স্বয়ং।
এ ইতিহাসগুলো কীভাবে নারীবাদীদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় আমার বুঝে আসে না। এতবড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করলেন যে মানুষটি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাসূচক একটি শব্দ উচ্চারণ না করলেও কেন তিনি তেরোটি বিয়ে করলেন- এ নিয়ে হাজার হাজার লাইন লেখা হচ্ছে অবিরত। অথচ রসুল (সা.) না এলে তেরোটি বিয়ে কেন, নিছক একজন গোত্রপতি তেরশত যৌনদাসী রাখলেও কারও কিছু বলার ছিল না। ভুলে যাচ্ছেন কেন, ঐ যুগে দাস-দাসীর পরিমাণ দিয়ে সামাজিক মর্যাদা নির্ণিত হত।
একইভাবে রসুল (সা.) দাসপ্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন নি বলে যারা চেঁচিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন তারাও অতি প্রায়ান্ধ দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করতে পারলে তিনি দাসপ্রথার মূলে যে শক্ত কুঠারাঘাত করেছেন এবং মালিক-শ্রমিক স¤পর্ককে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক মূল্যবোধের ছাঁচে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন তা স্পষ্ট দেখতে পেতেন। যে মূল্যবোধ তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন তা আজকের যুগেও কেউ কল্পনা করতে পারে? মাত্র তিনটি শর্ত-
কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করা যাবে না,
শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি তার ঘাম শুকোনোর আগেই পরিশোধ করতে হবে,
নিজে যা খাবে, পরবে, শ্রমিককেও তা খেতে ও পরতে দিতে হবে।
এই মূল্যবোধের কানাকড়িও কি আজকের কথিত আধুনিক সভ্যতায় বাস্তবায়িত হয়? হয় না। আল্লাহর রসুল দাসপ্রথাকে প্রতিস্থাপিত করেছিলেন মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্বমূলক স¤পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে, সেই সাথে ‘আল্লাহর চোখে সবাই সমান’- এই মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে। অন্যদিকে যারা ইসলামের ভেতর দাসপ্রথার গন্ধ শুঁকে বেড়াচ্ছেন তাদের পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মালিক-শ্রমিক স¤পর্কে ভালোবাসার, ভ্রাতৃত্বের, ত্যাগের কোনো স্থান নেই। এখানে মালিক-শ্রমিকের স¤পর্ক শত্রুতার, বিদ্বেষের ও তিক্ততার। আদী দাসপ্রথার গায়ে রঙচঙ মেখে স্বাধীনতার মোড়ক পরিয়ে রাখা হলেও এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে যারা একটি বর্ণও লেখার প্রয়োজনবোধ করেন না তারাই যখন ইসলামে দাসপ্রথা আবিষ্কারের অভিলাসে ইতিহাস ছাঁকতে বসেন তখন বিষয়টি হাস্যকর দেখায়। দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেই কি সমস্যার সমাধান হয়ে যেত? আমেরিকায় দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ও সাদা-কালোর ব্যবধান আইন করে অস্বীকার করা হয়েছে কয়েক শতাব্দী আগে। তাতে শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই হয়ে যায় নি, সাদা-কালোর ব্যবধানও দূর করা সম্ভব হয় নি আজও। আজও সাদারা কালোদের হত্যা করলে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয়। মনে রাখতে হবে- আইন করে মানসিক পরিবর্তন ঘটানো যায় না। অথচ বিশ্বনবীর দায়িত্ব ছিল মানুষের বাহ্যিক ও আত্মিক পরিবর্তন ঘটানো।
আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনকে যারা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন তারা জানেন দাসপ্রথার মূলে ইসলাম কতটা শক্ত আঘাত হেনেছিল। সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি যে বিস্ময়কর জাতিটি গঠন করেছিলেন, তাঁর ওফাতের পর অর্ধদুনিয়ায় যে জাতি ন্যায়, সুবিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জাতিটি যদি হঠাৎ লক্ষ্য ভুলে না যেত, তাহলে ঐ সময়ই পৃথিবী থেকে দাসপ্রথাসহ যাবতীয় কুপ্রথার কবর রচিত হয়ে যেত তাতে সন্দেহ নেই। আজকে যারা নারীমুক্তির আন্দোলন করছেন তাদেরও স্বপ্নপূরণ হয়ে যেত তখনই। দুর্ভাগ্যক্রমে তা হয় নি। হয় নি যে, তার জন্য কি বিশ্বনবী দায়ী? কতটা অন্ধ হলে, কতটা বিবেকবোধ লুপ্ত হলে, কতটা সংকীর্ণমনা হলে মানবতার কল্যাণে একজন মানুষের সারা জীবনের অকৃত্রিম সাধনা ও অতুলনীয় আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে, তাঁর নেতৃত্বাধীন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবকে পাশ কাটিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিয়ে-সাদী ইত্যাদি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হওয়া যায়? সত্যিই এ অন্ধত্বের কোনো তুলনা হয় না! কোনো উপমা হয় না!
মোহাম্মদ আসাদ আলী: কলাম লেখক (facebook/asadali.ht)

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র: বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ

নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে বরিশালের মানচিত্র: বছরে বাস্তুহারা লক্ষাধিক মানুষ
নদীবেষ্টিত জেলা বরিশালের চারদিক দিয়ে বয়ে চলেছে কীর্তনখোলা, পদ্মা ও মেঘনাসহ অসংখ্য নদী। এসব নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছর বদলে যাচ্ছে জেলার মানচিত্র। মাইলের পর…
 ১০ জুন ২০২৬    নির্বাচিত

ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামার আগেই শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন উত্তেজনা

ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামার আগেই শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন উত্তেজনা
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু…
 ১০ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

ইসলামী ব্যাংক দখলের পর এখন বেদখল হওয়ার যাতনা স্বাভাবিক: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক দখলের পর এখন বেদখল হওয়ার যাতনা স্বাভাবিক: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় সংসদে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায়…
 ৯ জুন ২০২৬    জাতীয়

সরিষাবাড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণ

সরিষাবাড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণ
সরিষাবাড়ি (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সামগ্রী ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রশাসনিক…
 ৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

জৈনা বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন

জৈনা বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন
শ্রীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে জৈনা বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং পরিচিতি সভা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার জৈনা বাজারে সমিতির নিজস্ব…
 ৯ জুন ২০২৬    ঢাকা

ইরানের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৮

ইরানের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৮
লেবাননে হামলা চললে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। তবে সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের তায়ের বন্দর নগরীতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি…
 ৯ জুন ২০২৬    আন্তর্জাতিক

শ্রীপুরের সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যু, শোকে মারা গেলে ছোট বোন

শ্রীপুরের সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যু, শোকে মারা গেলে ছোট বোন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ…
 ৭ জুন ২০২৬    ঢাকা

সড়কে বর্জ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

সড়কে বর্জ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

দেশে হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫

দেশে হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫
দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

কোরবানির দুই দিনে আহত হয়ে ঢামেকে ২৭২ জনের চিকিৎসা

কোরবানির দুই দিনে আহত হয়ে ঢামেকে ২৭২ জনের চিকিৎসা
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় আহত হয়ে ঈদের দিন ও পরের দিন মিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২৭২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের…
 ৩০ মে ২০২৬    জাতীয়

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক খবরটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি…
 ২৭ মে ২০২৬    জাতীয়

মৃদু ভূমিকম্পে কাঁপল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল

মৃদু ভূমিকম্পে কাঁপল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪১ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন হয়। হঠাৎ হওয়া এই কম্পনের ফলে সাধারণ…
 ২৬ মে ২০২৬    জাতীয়

সাভারে শিল্পাঞ্চলে ছুটি শুরু: বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল ঘরমুখো মানুষ

সাভারে শিল্পাঞ্চলে ছুটি শুরু: বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল ঘরমুখো মানুষ
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়তে…
 ২৫ মে ২০২৬    জাতীয়

পশ্চিমবঙ্গে পশুর হাটে মন্দা ও কোরবানি নিয়ে আতঙ্ক

পশ্চিমবঙ্গে পশুর হাটে মন্দা ও কোরবানি নিয়ে আতঙ্ক
পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত বিশাল ধুলাগড় গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে,…
 ২৫ মে ২০২৬    আন্তর্জাতিক
ভুয়া নওমুসলিম তৈরির গডফাদার

ধর্ম ও আবেগকে পুঁজি করে ভাইরাল সিদ্দিকের কোটি টাকার প্রতারণা!

ধর্ম ও আবেগকে পুঁজি করে ভাইরাল সিদ্দিকের কোটি টাকার প্রতারণা!
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল সিদ্দিক’ নামে পরিচিত আবু বকর সিদ্দিকের অন্ধকার জগতের নানা তথ্য সামনে এসেছে। ধর্মের লেবাস এবং মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তিনি গত কয়েক…
 ২৩ মে ২০২৬    অন্যান্য