ফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এশিয়ান গেমসে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালেই থেমে গেল বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে লিটন দাসের দল। ম্যাচ শেষে হারের পেছনে অনুশীলনের ঘাটতি, উইকেট সম্পর্কে ধারণার অভাব এবং মাঝের ওভারে বোলিংয়ে ব্যর্থতাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের নিশিনে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। ২৫ বলে তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও দুটি চার। তবে শুরুতেই তিন উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন দাস নিজেও ৩ বলে ২ রান করে আউট হন।
জবাবে ১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়েছিল পাকিস্তানও। একপর্যায়ে ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারায় তারা। তবে এরপর হাসান নওয়াজ ও আবদুল সামাদ মিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। আবদুল সামাদ ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
মেসির বিদায়ে আন্তোনেলার আবেগঘন বার্তা, ‘সব সময় তোমার পাশে আছি’!

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিটন দাস বলেন, মাঝের ওভারগুলোতে বোলিং আরও ভালো করতে পারলে এবং বড় শট বা ওভার বাউন্ডারি কম খেলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাকিস্তানের ব্যাটারদের বড় শট ঠেকাতে পারেনি বাংলাদেশ।
লিটন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম, তাহলে জেতার সুযোগ বেশি ছিল।’
বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, জাপানে যাওয়ার পর বৃষ্টির কারণে দল নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। এমনকি কোয়ার্টার ফাইনালেও মাঠে নামতে পারেনি বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো বল না খেলেই সেমিফাইনালে ওঠে তারা। ফলে দীর্ঘ সময় ম্যাচ ও অনুশীলনের বাইরে থেকে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে হয়েছে দলকে।
লিটন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসে ছিলাম, সঙ্গে আমরা টস হেরে গেছি। আমাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। যদি ভালো খেলতে পারতাম, ভালো হতো। কিন্তু এটা খুব সহজ নয় যে আপনি এত দিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব অসাধারণ ইনিংস খেলে ফেলবেন।’
শুধু অনুশীলনের ঘাটতিই নয়, ম্যাচের আগে উইকেট সম্পর্কেও যথেষ্ট ধারণা ছিল না বলে জানান লিটন। বৃষ্টির কারণে মাঠে অনুশীলন করতে না পারায় উইকেটের আচরণ বুঝতে প্রথম কয়েক ওভার সময় লেগেছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের।
লিটনের ভাষায়, ‘আমাদের তো কোনো ধারণা ছিল না। কারণ, এখানে আমরা কয় দিন ধরে কোনো খেলা দেখিনি এবং উইকেটে অনুশীলন করার সুযোগও নেই। ধারণা ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি প্রথম কয়েকটা ওভার। তারপর আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা ধারণা পেয়েছে।’
এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই হারে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সোনার পদকের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিতে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে লিটন দাসদের।

















