রাত পোহালেই বিয়ে, পরদিন বৌভাত। কনের বাড়িতে বরবরণের প্রস্তুতি, গেটজুড়ে আলোকসজ্জা, দুই বাড়িতেই চলছিল আনন্দ-উৎসব। স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে যখন বিয়ের আয়োজন ঘিরে ব্যস্ত দুই পরিবার, ঠিক তখনই এলো বরের মৃত্যুর খবর। মুহূর্তেই আনন্দের পরিবেশ রূপ নিল শোকে।
বৃহস্পতিবার রাতে কনের বাড়িতে খবর পৌঁছায়, বর মো. আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক আর নেই। এ খবরে দুই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শুরু হয় শোকের মাতম।
নিহত সৌমিকের বয়স ২১ বছর। তিনি গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার মো. সুলতান আহমেদের ছেলে। সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ট্রিপল ই বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে উত্তীর্ণ হন তিনি। কনের বাড়িও একই পাড়ায়।
সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিল বিএসএফ!

সৌমিকের একমাত্র বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন সৌমিক। চার দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে একটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়।
শারমিন সুলতানার অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধপত্র নিয়ে স্বজনেরা সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে নেন। কিন্তু বিকেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে ছিলেন সৌমিক। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিয়ের ঠিক আগমুহূর্তে তরুণ এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে দুই পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
















