কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় চলছে উৎসবের আমেজ। পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরি এবং রংতুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা। একই সঙ্গে স্থানীয় হাটবাজার, বিপণি বিতান ও মার্কেটগুলোতে চলছে কেনাকাটার ধুম।
এ বছর কাউনিয়া উপজেলায় মোট ৭৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে চলছে রং ও সাজসজ্জার চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর যথাক্রমে শনিবার ও রবিবার পূজার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিয়মকানুন পালিত হবে। এ বছর দেবীর আগমন হবে ঘোড়ায় এবং ২১ অক্টোবর বুধবার নৌকায় দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে।
তাহিরপুরে বাগলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কাউনিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল কুমার সরকার বলেন, “কাউনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চমৎকার সম্প্রীতির পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় এবারও আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।” পূজার সফল আয়োজনে তিনি সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
নাজিরদহ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ দুর্গা মন্দিরের সভাপতি বিপুল রায় বলেন, “আমাদের মন্দিরে পূজার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটি দেখতে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আমরা আশা করছি। ভক্তদের নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে প্রতিমা দর্শনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মণ্ডল বলেন, উপজেলার ৭৫টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ২৮টি সাধারণ, ২১টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ২১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ৫টি পূজামণ্ডপ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার আওতাধীন। পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।
উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে আয়োজক, প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
















