যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের বিচক্ষণ পদক্ষেপ ও সচেতনতামূলক উদ্যোগে বিয়ের আয়োজন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ওই কিশোরীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন তার বাবা।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ধান্যখোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওই গ্রামে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তারা আইনগত প্রক্রিয়া যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। পরে সংশ্লিষ্ট কাজিকে উপস্থিত করার অনুরোধ জানানো হয়। কাজিকে উপস্থিত করা সম্ভব না হওয়ায় এবং বিয়ের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলতে থাকায় আনসার সদস্যরা ওই পরিবারকে বাল্যবিয়ের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি এবং এর আইনগত পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো : ভিডিও বার্তায় শাহজালাল রুমি

পরিস্থিতি উত্তরণে সদস্যরা অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনে সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে পরিবারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেন তারা। একপর্যায়ে কিশোরীর বাবা একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে জানান, আইনানুযায়ী বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়ের বিয়ে দেবেন না। এভাবেই আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ হয়।
এই অভিযানে অংশ নেন উপজেলা সহকারী আনসার কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলাম, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার মো. লুৎফর রহমান, বেনাপোল ইউনিয়ন দলনেতা মো. তাজিম উদ্দিন, বেনাপোল ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার মো. জনাব আলী এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়ন দলনেতা মো. হোসেন আলী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, বিচক্ষণতা ও আলোচনার মাধ্যমে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টা বাল্যবিয়েমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।

















