রাজবাড়ীতে স্বামীর দেওয়া ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করা হয়। এর আগে আপসের শর্তে জামিন পেলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।
তানিয়া খাতুন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।
সোমবার রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মো. মেহেদী হাসান।
দিরাইয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ১৩ বসতঘর!

মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে পারিবারিক সম্মতিতে তানিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাখাওয়াত হোসেন ব্যাংকে জমা রাখার জন্য স্ত্রী তানিয়াকে ৬ লাখ টাকা দেন। তবে ওই টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে তানিয়া নিয়ে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তী সময়ে তানিয়া আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন পান। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সোমবার নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, এর আগে সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে তানিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। ১৬ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তানিয়া। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করেও সফল হননি। বাধ্য হয়ে যৌতুক ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন বলেও জানান তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মো. মেহেদী হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এমনকি লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং সমঝোতা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

















