জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ এবং আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ট্রেন থামিয়ে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা ।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২৬) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অবরোধ চলাকালে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি স্টেশনে আটকে রাখা হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ব্যস্ততম এই স্টেশনটি দিয়ে জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। স্থানীয় কৃষিপণ্য ও বাণিজ্যিক মালামাল দূরপাল্লায় পরিবহনেও স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পুরো স্টেশনটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে যে ট্রেনটি এখানে থামে, সেটিও মূল প্ল্যাটফর্মের বদলে ২ নম্বর লাইনে দাঁড় করানো হয়। কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় নিচু স্থান থেকে উঁচুতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের ঘোষিত দাবিগুলো হলো
আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে অন্তত দুজন স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত পদায়ন করা। আধুনিক প্ল্যাটফর্ম, যাত্রীছাউনি ও বিশ্রামাগারসহ স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি প্রদান করা।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, ‘ স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে শুধু জীবননগর নয়, পার্শ্ববর্তী দামুড়হুদা, দর্শনা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে যাতায়াত সহজ হবে।’
কর্মসূচি শেষে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরবর্তীতে রেলপথ পুরোপুরি অচল করাসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

















