যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক রুওয়া রোমান। রিপাবলিকান প্রার্থী আয়াজ শেখকে পরাজিত করে তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটির রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক তৈরি হলো।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, জর্জিয়ার ৭ম ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনে রুওয়া রোমান পেয়েছেন প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী আয়াজ শেখ পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ ভোট। এর আগে জর্জিয়া প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রোমান এবার স্টেট সিনেটে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করলেন।
রুওয়া রোমানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ২০২২ সালে। সে বছর জর্জিয়া প্রতিনিধি পরিষদের ৯৭তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজ্য আইনসভায় প্রবেশ করেন। তখন প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে জর্জিয়া আইনসভায় নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও নিজের আসনে পুনর্নির্বাচিত হন এই ডেমোক্র্যাট নেতা।
নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ে ইসরায়েলে দুই দিনের পরামর্শ শুরু!

জর্ডানের রাজধানী আম্মানে জন্ম নেওয়া রুওয়া রোমান ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারের সন্তান। মাত্র আট বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। ফিলিস্তিনি ঐতিহ্য ও পরিচয় তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এবং নীতিগত অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত।
২০২৪ সালের আগস্টে শিকাগোতে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসেন রোমান। সে সময় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে সোচ্চার ছিল ‘ন্যাশনাল আনকমিটেড মুভমেন্ট’। সংগঠনটি তাঁকে কনভেনশনের অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে মনোনীত করেছিল। তবে দলীয় কনভেনশনের মূল মঞ্চে তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় আন্দোলনকারী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার রুওয়া রোমান। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ফিলিস্তিনি পরিচয়কে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার সামাজিক ধারণার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন এই রাজনীতিক।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বড় দায়িত্ব নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জর্জিয়ার গভর্নর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন রোমান। তবে পরবর্তীতে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এসে স্টেট সিনেট নির্বাচনে মনোনিবেশ করেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারি রান-অফ নির্বাচনে ৬০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি।
সবশেষে সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রুওয়া রোমান। তাঁর এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অভিবাসী ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















