প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   একটি ঘটনা ও ইসলামের উদ্দেশ্য...

একটি ঘটনা ও ইসলামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমার উপলব্ধি

৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ০৬:৩৭ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
অষ্টম হিজরীর মক্কা বিজয়ের দিন। আজ আল্লাহর রসুল মক্কার সর্বেসর্বা, এমন কেউ নেই তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকায়। তিনি যেন অন্য মোহাম্মদ (সা.)। যেই মোহাম্মদকে (সা.) মক্কার মোশরেকরা এতদিন অবজ্ঞা, অপমান আর বিদ্রূপ করে এসেছে, যার পদে পদে প্রতিবন্ধকতার প্রাচীর খাড়া করেছে, যাকে হত্যার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র পাকিয়েছে, যার রক্তে তায়েফের মাটি রক্তিমবর্ণ ধারণ করেছে, সেই মোহাম্মদ (সা.) আজ দশ হাজার সৈন্যের দুর্ধর্ষ এক বাহিনীর সেনাপতি। তিনি আজ আরবের অধিপতি। নব শক্তিতে বলিয়ান। তাঁর সামনে মাথা নিচু করে ভয়ভীত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মক্কার মোশরেকরা। পেছনে পড়ে আছে হাজারো নির্যাতন, নিপীড়ন, কটুক্তি, অপমান, অপবাদ আর অত্যাচারের টুকরো টুকরো স্মৃতি।
এই মক্কার মাটি থেকেই সত্যনিষ্ঠ মানুষদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, সেই মক্কা আজ রসুলাল্লাহর অধিকারে। অত্যাচারী জালেম কোরাইশরা, যাদের উদ্ধত আচরণে মক্কার মাটি থরথর করে কাঁপত, তারা আজ পরাজিত, তাদের মস্তক আজ অবনত। তাদের অধিকার নেই কোনো কথা বলার। যাকে হত্যা করার জন্য তারা বারবার ছুটে গেছে রণাঙ্গণে, সেই আল্লাহর রসুলের অঙ্গুলি নির্দেশের সাথে সাথে শতশত কাফের মোশরেকের মস্তক ধুলোয় গড়াগড়ি খেতে পারে। চতুর্দিকে মুসলিম সেনা কাফেরদের ঘেরাও করে আছে। আল্লাহর রসুলের কৃপার উপরে আজ মক্কাবাসীর জীবন। তিনি যাদেরকে জীবন ভি¶া দেবেন তারা বাঁচবে, যাদেরকে ঘরে থাকতে দেবেন তারা ঘরে থাকবে, যাদেরকে বাহিরে থাকতে দেবেন তারা বাহিরে থাকবে। রসুলাল্লাহ যাদেরকে আজ লোহিত সাগরে নি¶েপ করবেন তারা লোহিত সাগরে নি¶িপ্ত হবে। আজকের দিনে মক্কা নগরীতে কারো সাধ্য নেই রসুলাল্লাহর কথাকে অমান্য করে। মক্কায় আজ আল্লাহর সার্বভৌমত্বের নিরংকুশ বিজয়। আজকের এই দিন অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতিত, নিপীড়িত, নিগৃহীত জনতার বিজয়ের দিন, অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের, অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের বিজয়ের দিন।
এই পরিস্থিতিতে আল্লাহর রসুল কী করলেন? প্রথমে তিনি কাবাকে পবিত্র করলেন। কাবাঘরে অবৈধভাবে যে মূর্তিগুলো মোশরেকরা স্থাপন করেছিল সেগুলো তিনি ধুয়ে মুছে সাফ করলেন। কাবার সেই পবিত্রতা ফিরিয়ে দিলেন যেমনটা ইবরাহীম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) রেখে গিয়েছিলেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখলেন, লোকজনের বায়াত নিলেন, সালাহ কায়েম করলেন ইত্যাদি বহুকিছু করেছেন, কিন্তু এদিনের সবচাইতে বিস্ময়কর যে ঘটনাটা ইসলাম সম্পর্কে আমার আকীদায় নাড়া ফেলে দিল, সেটা হচ্ছে আল্লাহর রসুল হযরত বেলালকে (রা.) কাবার ছাদে উঠিয়ে আজান দেওয়ালেন। হ্যাঁ, ঘটনাটি আমরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু জানি অন্য আর দশটা ঘটনার মতই সাধারণ একটি ঘটনা হিসেবে। সাধারণ একটি বর্ণনা হিসেবে শত শত বছর ধরেই এটি হাদিসের গ্রন্থে, সিরাতের গ্রন্থে ও ইতিহাসের গ্রন্থে পড়ে এসেছেন সকলেই। পড়েছেন সাধারণ জনগণ, পড়েছেন ঐতিহাসিকগণ এবং পড়েছেন মুহাদ্দিসগণও। আমি জানি না ঘটনাটি কয়জনের মনে দাগ কেটেছে। আমি যেদিন পড়লাম, বুঝলাম, সেদিন ইসলাম আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে, রসুলাল্লাহ সম্পর্কে আমার ধারণার জগতে নতুন মাত্রা যোগ হলো। 
ঘটনাটি সংক্ষেপে এই যে, আল্লাহর রসুল পবিত্র কাবাঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার পর বেলালকে (রা.) ডাকলেন। তাকে বললেন কাবার ছাদে উঠে আজান দিতে। ইতিহাস বলে- সেদিন বেলালের (রা.) নাভির উপর থেকে কোনো কাপড় ছিল না, মাথায় পাগড়ির তো প্রশ্নই ওঠে না। শুধু লজ্জাস্থান ঢাকার মতো এক টুকরো কাপড় কোমরে প্যাঁচানো ছিলে। সেই অর্ধ-উলঙ্গ বেলালকে (রা.) আল্লাহর রসুল কাবার ছাদে উঠিয়ে দিলেন (আসহাবে রসুলের জীবনকথা-১ম খণ্ড)। তারপর বেলাল (রা.) উচ্চৈঃস্বরে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের আযান দিলেন। আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠল। হাজার হাজার সাহাবীর চোখ তখন অশ্রুতে ছলছল। সেদিন মহাপবিত্র বায়তুল্লাহ কাবা’র উপরে দণ্ডায়মান কৃতদাস বেলাল (রা.)।
এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়। 
প্রথমত, তিনি পারতেন আজান দেওয়ার জন্য বেলালকে (রা.) কাবার উপর না উঠিয়ে কোনো পাহাড়ে বা পাথরের উপর উঠিয়ে আজান দেওয়াতে। কিন্তু তা করলেন না, পবিত্র কাবার ছাদেই উঠালেন।
দ্বিতীয়ত, পবিত্র কাবাকে মোশরেকরা কত ভক্তি-শ্রদ্ধা করত আল্লাহর রসুল কি তা জানতেন না? কথিত আছে, রসুলাল্লাহর পিতামহ আব্দুল মোত্তালেব যিনি ছিলেন পবিত্র কাবার সেবায়েত, তিনি তার দীর্ঘ দাড়ি দিয়ে কাবার ধূলা পরিষ্কার করতেন, ঝাড়ু লাগাতেন না। সেই ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের কোনো পরোয়াই আল্লাহর রসুল করলেন না।
তৃতীয়ত, আল্লাহর রসুলের সঙ্গে তো আরো দশ হাজার সাহাবী ছিলেন, তাদের মধ্যে কোরায়েশ সাহাবীরও অভাব ছিলো না। তাদের কাউকে ওঠালেও তো পারতেন, যেমন খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ছিলেন, রসুলাল্লাহর নিজের জামাতা উসমান (রা.) ছিলেন। কোরাইশদের মধ্যে তাদের অনেক প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। কোরাইশরা তাদেরকে সমীহ করত। কিন্তু আল্লাহর রসুল তাদের কাউকে এর উপযুক্ত মনে করলেন না, তিনি হাজার হাজার সাহাবী থেকে বেছে নিলেন এক সময়ের হাবশী ক্রীতদাস বেলালকে (রা.), যেই বেলালকে ওই মক্কার কোরাইশরা পশুরও অধম মনে করত। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? 
কারণ আর কিছু নয়, আল্লাহর রসুল এই ঘটনার দ্বারা মানবজাতির জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন, এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে চেয়েছেন যে, তাঁর নবুয়তী জীবনের সমস্ত সংগ্রামের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী ছিল। সেটি আর কিছু নয়, মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করা, নির্যাতিত নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ যদি ক্রীতদাসও হয় তথাপি তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে তাঁর কাবারও ঊর্ধ্বে এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। সত্যনিষ্ঠ মানুষদের সম্মান সম্পর্কে আল্লাহর রসুলের মূল্যায়ন আমরা আরও বহু হাদিস ও ইতিহাস থেকে জানতে পারি। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, “একদিন আল্লাহর রসুল কাবার দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তুমি অত্যন্ত পবিত্র এবং তোমার ঘ্রাণ অতি মিষ্ট। তুমি অতি সম্মানিত। তবে একজন মো’মেনের পদমর্যাদা ও সম্মান তোমার চেয়েও অধিক। আল্লাহ একজন মো’মেন সম্পর্কে এমনকি কু-ধারণা পোষণ করাকেও হারাম করেছেন।” (তাবারানি) অপর বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, “আমি রসুলাল্লাহকে একদিন কাবা তাওয়াফ করার সময় বলতে শুনেছি, ‘হে কাবা! কী বিরাট তোমার মহিমা আর কী মিষ্টি তোমার সুবাস। তুমি কত মহান আর তোমার পবিত্রতাও কত মহান! কিন্তু তাঁর শপথ যাঁর হাতে মোহাম্মদের প্রাণ, আল্লাহর দৃষ্টিতে একজন মো’মেনের পবিত্রতা তোমার পবিত্রতার চাইতেও অধিক (ইবনে মাজাহ)। আরও বর্ণিত আছে, আল্লাহর রসুল একদিন পবিত্র পাথর হাজরে আসওয়াদের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেছিলেন, “হে কালো পাথর। কসম সেই আল্লাহর যাঁর নিয়ন্ত্রণের অধীন আমার সকল অনুভূতি! একজন মো’মেনের সম্মান ও পদমর্যাদা আল্লাহর কাছে তোমার সম্মান ও মর্যাদার চাইতেও অধিক মহিমান্বিত।” (ইবনে মাজাহ, আস-সুয়ূতি, আদ-দার আল মানসুর)। 
মো’মেনের সম্মান কাবারও ঊর্ধ্বে, যদিও সেই মো’মেন সমাজের সবচাইতে দুর্বল মানুষটি হয়, সবচাইতে অবহেলিত নির্যাতিত অবজ্ঞাত উপেক্ষিত মানুষটি হয়, এমনকি কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাস হয়। প্রকৃতপ¶ে জাত্যাভিমানে অন্ধ কোরায়েশদের গালে এই ঘটনা ছিলো এক চপেটাঘাত। এ ঘটনার দ্বারা আল্লাহর রসুল কোরায়েশদের অহংকার, আরব জাতীয়তাবাদীদের অহংকার মরুভূমির বালুতে মিশিয়ে দিলেন। তিনি প্রমাণ করে দিলেন, মানুষে মানুষে যেই কৌলীন্যের দেয়াল খাড়া করে রাখা হয়েছে, ইসলাম তা অস্বীকার করে। ইসলামে মানুষের মর্যাদা তার বংশগৌরব ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মাপকাঠিতে নির্ধারিত হবে না, নির্ধারিত হবে তার চরিত্র দিয়ে, তার কর্ম দিয়ে। 
সত্যনিষ্ঠ মানুষের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত এই বিরাট সম্মান ও মর্যাদাকে যুগে যুগে যখনই হরণ করা হয়েছে, আল্লাহর অতি প্রিয় সৃষ্টি মানুষকে অন্যায়ভাবে দমন-পীড়ন করা হয়েছে, তখন অত্যাচারীর খড়গ থেকে নিপীড়িত মানুষকে মুক্ত করতে আল্লাহ নবী-রসুল পাঠিয়েছেন, ইসলাম পাঠিয়েছেন। আখেরী নবী যখন আবির্ভূত হলেন, মক্কায় তখন মানবতার চরম অবক্ষয় চলছিল। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার। গরু ছাগলের মত মানুষের গলায় ও কোমরে শিকল বেঁধে হাটে-বাজারে কেনাবেচা করা হত। তাদেরকে মানুষই মনে করা হত না। তাদের ইজ্জতের কোনো মূল্য ছিল না, কথা বলার কোনো অধিকার ছিল না। আল্লাহর রসুল সেই নির্যাতিত মানুষদের মুক্তির লক্ষ্যে সংগ্রাম আরম্ভ করলেন। 
তিনি যখন তওহীদের বালাগ দিতে লাগলেন, ধর্মব্যবসায়ী কোরাইশ নেতারা প্রচার করে দিল তিনি আরবদের ধর্মকে নষ্ট করতে এসেছেন, তিনি পাগল, তিনি গণক, তিনি যাদুকর, তিনি ধর্মত্যাগী ইত্যাদি (নাউজুবিল্লাহ)। আল্লাহর রসুলের উদ্দেশ্যটি তারা নিজেরাও বুঝল না, সাধারণ জনগণকেও বুঝতে দিল না। সবাই মিলে সত্যনিষ্ঠ গুটিকয় মানুষের উপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কাউকে মারতে মারতে জখম করল, কাউকে হত্যা করল, কাউকে বন্দী করে রাখলো, কাউকে বিতাড়িত করল। আল্লাহর রসুলকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করল। ওই ষড়যন্ত্রকারীরা মক্কা বিজয়ের দিন ধরেই নিয়েছিল যে, আজ তাদের অন্তিম দিন। তারা ভাবল, ‘যেই আচরণ আমরা মুহাম্মদের (সা.) সাথে করেছি, তারপর বেঁচে থাকার আশা করাটাই আহাম্মকী!’
কিন্তু আল্লাহর রসুল চাইলেন, আজ সেই হত্যার ষড়যন্ত্রকারীরা ও নির্যাতনকারীরা দেখুক তাঁর সংগ্রামের উদ্দেশ্য কী ছিল। আল্লাহর রসুল পারতেন কোরাইশদেরকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে, কিন্তু তিনি একদিকে তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন, অন্যদিকে তারা যেই ক্রীতদাস বেলালকে (রা.) মানুষ মনে করত না, সেই বেলালকে উঠালেন কাবার ছাদে। প্রমাণ করে দিলেন, কোনো সম্পদের জন্য নয়, কোনো ক্ষমতার জন্য নয়, কোনো ভোগের জন্য নয়, এমনকি কোনো প্রতিশোধস্পৃহার জন্যও নয়, তাঁর সংগ্রাম ছিল নিপীড়িত শোষিত বেলালদেরকে প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, ওই কথাটিকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে, মো’মেনদের সম্মান কাবারও ঊর্ধ্বে। ক্রীতদাস বেলাল (রা.) সেদিন কাবার উপরে উঠে ঘোষণা দিলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কারো হুকুম মানি না।
এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহর রসুল কেবল তৎকালীন মক্কাবাসীদের জন্যই নয়, চিরদিনের জন্য সমস্ত উম্মাহকে দেখিয়ে দিলেন, তাঁর অবর্তমানেও এটাই যেন হয় উম্মতে মোহাম্মদীর সংগ্রামের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য। এভাবেই যেন উম্মতে মোহাম্মদী সংগ্রাম করে সমস্ত পৃথিবীর নির্যাতিত নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করে। যাদেরকে অত্যাচারী অপশক্তিগুলো অন্যায়ভাবে পদানত করে রাখতে চায়, তাদেরকে যেন উম্মতে মোহাম্মদী দাসত্বের নিগড় থেকে মুক্ত করে কাবার চাইতেও বেশি সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করে।
আল্লাহর রসুল কর্তৃক হযরত বেলালকে (রা.) কাবার ছাদে ওঠানোর এই ঘটনাটি যখন উপলব্ধি করলাম, ওই উপলব্ধি আমাকে স্বস্তির বদলে দিতে লাগলো প্রচণ্ড পীড়া। আমার আফসোস হতে লাগলো, এত মহান ও উদার একটি আদর্শ আমরা পেলাম, কিন্তু সামান্যও কাজে লাগাতে পারলাম না। ওই আদর্শের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এক ইঞ্চি জমিনেও নির্যাতিত মানুষকে মুক্তি দিতে পারলাম না। উল্টো পৃথিবীময় আমরা ১৬০ কোটি মুসলমান আজ নিজেরাই অধিকার হারা, শোষিত, বঞ্চিত, গোলাম জাতির গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছি। যার ইচ্ছা হচ্ছে আমাদেরকে গণহত্যা করছে, দেশ থেকে উচ্ছেদ করছে, দখল করছে, হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের মা-বোনদেরকে ধর্ষণ করছে, আমরা নিজেদেরকেই রক্ষা করতে পারছি না, অন্যদেরকে কীভাবে দাসত্বমুক্ত করব? 
আমাদের সমাজে আজ ধর্মান্ধতা, কূপমণ্ডূকতা ও ধর্মব্যবসা এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে, সংকীর্ণতার গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে গেছে আমাদের ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মীয় চিন্তাধারা। এর বাইরে বড় কিছু নিয়ে কিংবা মহৎ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতেও পারি না আমরা। পরিণতি কী হয়েছে? সেই ১৪০০ বছর আগের আইয়ামে জাহেলিয়াতের মতই আমাদের সমাজ ছেয়ে গেছে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার, হানাহানি, রক্তপাত, খুন, ধর্ষণে। আল্লাহর রসুলের ইসলাম ছিল দাসত্বের শিকল ভাঙার বিপ্লবী এক মন্ত্র, অন্যদিকে বর্তমানে ইসলামের নামে এমন বিকৃত শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে যার দরুন মানুষ মুক্তি তো পাচ্ছেই না, বরং নিক্ষিপ্ত হচ্ছে অন্ধত্বের কারাগারে। এই কারাগার ভেঙে মুক্তিকামী মানুষকে বের করে আনার শপথ নিয়েছি আমরা হেযবুত তওহীদ। আল্লাহ-রসুলের মহান ও উদার ইসলামটি নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি মানুষের দ্বারে দ্বারে। জানি না কবে মানুষের এই অন্ধত্ব ঘুঁচবে, দৃষ্টি খুলবে, কালঘুম ভাঙবে। আল্লাহ যেন অচীরেই জাতির কালঘুম ভাঙান। এই ঘুমই যেন তাদের শেষ ঘুম না হয়। (আমিন)
 

[লেখক: এমাম, হেযবুত তওহীদ। যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৯৩৩-৭৬৭৭২৫, ০১৭৮২-১৮৮২৩৭]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

একসময়ের প্রাণচাঞ্চল্য আজ নীরব: আক্কেলপুরের জাফরপুর রেলস্টেশনে দুর্ভোগে এলাকাবাসী

একসময়ের প্রাণচাঞ্চল্য আজ নীরব: আক্কেলপুরের জাফরপুর রেলস্টেশনে দুর্ভোগে এলাকাবাসী
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জাফরপুর রেলস্টেশন একসময় ছিল আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার অন্যতম কেন্দ্র। ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রীদের ভিড়, স্টেশন ঘিরে হোটেল ও দোকানপাটের ব্যস্ততা…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    রাজশাহী

সংবাদ প্রকাশের জেরে আমার দেশ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সংবাদ প্রকাশের জেরে আমার দেশ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
গাজীপুর সংবাদদাতা:সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর শ্রীপুর প্রতিনিধি এস এম…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

কালিয়াকৈরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

কালিয়াকৈরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বুলডোজার দিয়ে প্রতিপক্ষের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

গাইবান্ধায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

গাইবান্ধায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার
গাইবান্ধা পৌর এলাকার সবুজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    রংপুর

দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ধামরাইয়ে মন্দির পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার

দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ধামরাইয়ে মন্দির পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কমিটির নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক দলগুলো মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয়…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

ধস্তাধস্তির ঘটনায় শিক্ষক দম্পতিকে বদলি দুই প্রান্তের দুই বিদ্যালয়ে!

ধস্তাধস্তির ঘটনায় শিক্ষক দম্পতিকে বদলি দুই প্রান্তের দুই বিদ্যালয়ে!
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ধস্তাধস্তির ঘটনায় শিক্ষক দম্পতিকে একই উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    ময়মনসিংহ

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি!

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি!
গাজীপুর প্রতিনিধি:  গাজীপুরের শ্রীপুরে সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন দৈনিক আমার…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

জুলাই সনদ ছাড়া রাষ্ট্র চালানো ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার মতো: হাসনাত

জুলাই সনদ ছাড়া রাষ্ট্র চালানো ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার মতো: হাসনাত
জুলাই সনদ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনাকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার সঙ্গে তুলনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন,…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

শর্ত মানলেই সাত দিনের মধ্যে খুলবে হরমুজ প্রণালি: আরাগচি

শর্ত মানলেই সাত দিনের মধ্যে খুলবে হরমুজ প্রণালি: আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সাত…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

তিন বছরের অপেক্ষার অবসান, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী!

তিন বছরের অপেক্ষার অবসান, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী!
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার খবর সামনে এসেছে। দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে তার। তবে গ্রিন…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    বিনোদন

মা ইলিশ সংরক্ষণে ৩৮ জেলার ১১১ এমপিকে মন্ত্রীর নির্দেশনা!

মা ইলিশ সংরক্ষণে ৩৮ জেলার ১১১ এমপিকে মন্ত্রীর নির্দেশনা!
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে ৩৮ জেলার ১১১ জন সংসদ সদস্যকে ডিও লেটার দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের!

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের!
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। এ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে দ্রুত…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফের বৈঠক, মিলল আর্থিক সহায়তার আশ্বাস!

বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফের বৈঠক, মিলল আর্থিক সহায়তার আশ্বাস!
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ চার সহ-সভাপতি। ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় বাংলাদেশের ফুটবলের…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    খেলাধুলা

মাঝ আকাশে দরজা খুলে ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ, রোগীর মৃত্যু!

মাঝ আকাশে দরজা খুলে ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ, রোগীর মৃত্যু!
ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। পরে উড়োজাহাজে থাকা…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর!

মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর!
সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল শনাক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে মোটরসাইকেলের পেছনের পাশাপাশি সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসংবলিত প্লেট লাগাতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক…
 ১৮ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়