প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   হজ্ব কোনো তীর্থযাত্রা নয় মোসলেম...

হজ্ব কোনো তীর্থযাত্রা নয় মোসলেম উম্মাহর বার্ষিক মহাসম্মেলন

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৬:০৫ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

ইসলামের অন্য সব কাজের মতোই আজ হজ্ব সম্বন্ধেও এই জাতির আকীদা বিকৃত হয়ে গেছে। এই বিকৃত আকীদায় হজ্ব আজ সম্পূর্ণরূপে একটি আধ্যাত্মিক ব্যাপার, আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করার পথ। প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে- আল্লাহ সর্বত্র আছেন, সৃষ্টির প্রতি অণু-পরমাণুতে আছেন, তবে তাঁকে ডাকতে, তাঁর সান্নিধ্যের জন্য এত কষ্ট করে দূরে যেতে হবে কেন? তাঁর নিজের আত্মা তিনি মানুষের দেহের মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন (সূরা আল-হিজর ২৯)। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের মধ্যে তিনি রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন-নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অতি সন্নিকটে (সূরা আল-বাকারা ১৮৬, সূরা সাবা ৫০, সূরা আল-ওয়াকেয়াহ ৮৫), তারপর আরও এগিয়ে গিয়ে বলছেন- আমি (মানুষের) গলার রগের (রক্তবাহী ধমনীর) চেয়েও সন্নিকটে (সূরা কাফ ১৬)। যিনি শুধু অতি সন্নিকটেই নয়, একবারে গলার রগের চেয়েও নিকটে তাকে ডাকতে, তার সান্নিধ্যের আশায় এত দূরে এত কষ্ট করে যেতে হবে কেন? যদি তর্ক করেন যে আল্লাহ চান যে আমরা তার ঘরে যাই, তবে জবাব হচ্ছে প্রথমতঃ ঘরের মালিকই যখন সঙ্গে আছেন তখন বহু দূরে তার পাথরের ঘরে যাবার কী প্রয়োজন আছে, দ্বিতীয়তঃ আসল হজ্ব হয় আরাফাতের ময়দানে, আল্লাহর ঘর কাবায় নয়। তার ঘর দেখানোই যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে কাবাকে হজ্বের আসল কেন্দ্র না করে কাবা থেকে অনেক দূরে এক খোলা মাঠকে কেন্দ্র করলেন কেন? তৃতীয় প্রশ্ন হচ্ছে- ধরে নিলাম আল্লাহ আরাফাতের ময়দানেই বসে আছেন। সেখানে যেয়ে তার সামনে আমাদের উপস্থিত হবার জন্য তিনি বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত করে দিয়েছেন কেন? আমাদের সঙ্গে না থেকে তিনি যদি আরাফাতের মাঠেই থেকে থাকেন তবে যে যখন পারে তখন সেখানে যেয়ে তো তার সামনে লাব্বায়েক বলে হাজিরা দিতে পারে। তা না করে তিনি আদেশ দিয়েছেন বছরের একটা বিশেষ মাসে, একটা বিশেষ তারিখে তার সামনে হাজির হবার। একা একা যেয়ে তাকে ভাল ভাবে ডাকা যায়, নাকি সম্পূর্ণ অপরিচিত জায়গায়, অপরিচিত পরিবেশে, লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ের ধাক্কাধাক্কির মধ্যে দাঁড়িয়ে তাকে ভাল ভাবে, মন নিবিষ্ট করে ডাকা যায়? কিন্তু অবশ্য কর্তব্য ফরদ করে দিয়েছেন একা একান্তে তাকে ডাকা নয়, ঐ বিশেষ তারিখে লক্ষ লোকের ঠেলাঠেলির মধ্যে।

শেষ নবীর (সা.) মাধ্যমে ইসলামের যে শেষ সংস্করণটি আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠালেন সেটার উদ্দেশ্য, উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া অর্থাৎ সামগ্রিক রূপ যাদের মস্তিষ্ক থেকে বিদায় নিয়েছে, এক কথায় যাদের আকিদা বিকৃত হয়ে গেছে, তাদের কাছে এ সব প্রশ্নের জবাব নেই। দীন শব্দের অর্থ জীবন-ব্যবস্থা, জীবন-বিধান। যে আইন-কানুন, নিয়ম দণ্ডবিধি মানুষের সমষ্টিগত, পারিবারিক, সামাজিক রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবে সেটারই একত্রিত, সামগ্রিক রূপ হচ্ছে দীন। এ দীন আল্লাহর সৃষ্টও হতে পারে, মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূতও হতে পারে, দু’টোই দীন। মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত যে দীন তা স্বভাবতঃই ভারসাম্যহীন, কারণ তা অতি সীমিত জ্ঞান থেকে তৈরি। আর আল্লাহ যে দীন সৃষ্টি করেছেন তা ভারসাম্যযুক্ত (সুরা বাকারা ১৪৩)। আল্লাহর সৃষ্ট দীন অর্থাৎ ইসলাম মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, আইন দণ্ডবিধি ইত্যাদি মানুষের জীবনের সমষ্টিগত ও তার আত্মার যত রকমের প্রয়োজন তার সব কিছুরই একটা ভারসাম্যপূর্ণ মূল-নীতি নির্দেশনা। সুতরাং এই শেষ দীনের অন্যান্য সব বিষয়ের মতো হজ্বও ভারসাম্যপূর্ণ। এতে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ইত্যাদির যেমন অংশ আছে তেমনি আত্মার উন্নতির, পরিচ্ছন্নতারও অংশ আছে, দু’টোই আছে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায়, এর যে কোন একটির গুরুত্ব কমিয়ে দিলেই আর সেই ভারসাম্য থাকবে না, তা আর দীনে ওয়াসাতা থাকবে না, তা আজকের এই বিকৃত ইসলাম হয়ে যাবে। যে কারণে আল্লাহর প্রতি মন-সংযোগ জামাতের সালাতের চেয়ে নির্জনে অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও ফরদ হচ্ছে ঐ জামাতে যোগ দেওয়া, ঠিক সেই কারণে নির্জনে বোসে আল্লাহকে ডাকায় বেশি মন-সংযোগ, নিবিষ্টতা (Concentration) হওয়া সত্ত্বেও আদেশ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের কোলাহলে, জনতার সাথে একত্র হয়ে তার সামনে হাজির হওয়া। কারণ অন্যান্য বিকৃত ধর্মগুলির মতো শেষ ইসলামের আকিদা শুধু একতরফা অর্থাৎ আত্মার ধোয়ামোছা, পরিষ্কার পবিত্রতা নয়।

আল্লাহর খলিফা মানুষ তৈরির বিপক্ষে মালায়েকরা অর্থাৎ ফেরেশতারা যে যুক্তি দেখিয়েছিলো তা হল এই যে- হে আল্লাহ তোমার এই সৃষ্টি, এই খলিফা পৃথিবীতে ফাসাদ (অন্যায়, অবিচার, অশান্তি) ও সাফাকুদ্দিমা (মারামারি, রক্তপাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ) করবে। মালায়েকেরা যে দুটি শব্দ ব্যবহার করলো সে দু’টোই সমষ্টিগত, ব্যক্তিগত নয়। অর্থাৎ মূল প্রশ্ন, মূল সমস্যাই সমষ্টিগত। এ মূল সমস্যার সমাধান আল্লাহ দিলেন- দীনুল ইসলাম, এটাও সমষ্টিগত। ব্যক্তির স্থান এখানে নগণ্য। ব্যক্তির মূল্য শুধু এটুকুই যে ব্যক্তি দিয়েই সমাজ, জাতি গঠিত; ব্যক্তি জাতির একটি একক (ঁহরঃ), এর বেশি নয়। সমষ্টির এই একক হিসাবে ব্যক্তির যেমন মূল্য আছে, তেমনি সমষ্টির বাইরে এর কোন দাম নেই। উদাহরণ হিসাবে একটি সামরিক বাহিনীকে নেয়া যায়। একটি একটি সৈনিক নিয়েই বাহিনীটি গঠিত। ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সৈন্য যত ভাল যোদ্ধা হবে, বাহিনীর জন্য তত ভাল। সেনাপতি চেষ্টা করবেন যাতে তার বাহিনীর প্রতিটি সৈনিক দক্ষ যোদ্ধা হয়, যদি তিনি দেখেন যে কয়েকটি সৈনিক তেমন ভাল করছে না তবে স্বভাবতই তিনি তাদের প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেবেন, তাদের শিক্ষার ওপর বিশেষ চাপ দেবেন। এমনকি যদি তিনি একটি মাত্র সৈন্যকেও দেখেন যে তার রাইফেলের গুলি লক্ষ্যস্থলে লাগছে না, তাহলে তাকে আরো ভাল করে শেখাবেন কেমন করে গুলি করলে লক্ষ্যস্থলে লাগবে, অভ্যাস করার জন্য আরও গুলি সরবরাহ করবেন। কিন্তু ঐ বাহিনীর বাইরে ঐ একক সৈন্যের কোন মূল্য নেই। ঐ সামরিক বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে, সেনাপতির পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ না করে সৈন্যরা এককভাবে যুদ্ধ শুরু করে তবে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ঐ বাহিনী শত্র“র আক্রমণের সম্মুখে অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রতিটি সৈন্য যদি অতি দক্ষ যোদ্ধাও হয় তবুও তাই হবে।

আরও পড়ুন

পুলিশকে রাতে একা চলাচলে নিষেধ, কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা? – কথক দা

পুলিশকে রাতে একা চলাচলে নিষেধ, কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা? – কথক দা

সুতরাং এ দীনেও ব্যক্তির মূল্য ঐ সেনাবাহিনীর একটি সৈনিকের চেয়ে বেশি নয়। যে পাঁচটি স্তম্ভের (ফরদে আইন) ওপর এই দীন স্থাপিত তার চারটিই সমষ্টিগত, জাতিগত। তওহীদ, (ফরদ) সালাহ, যাকাত, হজ্ব এই চারটিই সমষ্টিগত, জাতিগত; শুধুমাত্র রোযা ব্যক্তিগত। বর্তমানে বিকৃত, বিপরীতমুখী যে দীন আমরা মেনে চোলেছি তাতে তওহীদকে সমষ্টিগতভাবে বুঝা অনেকের পক্ষে অসুবিধাকর হতে পারে। তাদের বুঝার জন্য সংক্ষেপে বলছি- আল্লাহ যে তওহীদকে স্বীকৃতি দেবেন, গ্রহণ করবেন, সে তওহীদ সর্বব্যাপী, মানুষের জীবনের সর্বস্তরের সমস্ত অঙ্গনের তওহীদ; তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আইন, দণ্ডবিধি, শিক্ষা, অর্থনীতি ইত্যাদি সমস্ত কিছুর উপর তওহীদ; অর্থাৎ সমষ্টিগত তওহীদ। জীবনের ক্ষুদ্রতম কোন বিষয়ও তা থেকে বাদ থাকবে না। এর নিচে কোন তওহীদ সেই সর্বশক্তিমান স্রষ্টা গ্রহণ করবেন না। বর্তমানে আমাদের তওহীদ জীবনের শুধু ব্যক্তিগত ভাগে ছাড়া আর কোথাও নেই। এই আংশিক ও ক্ষুদ্র তওহীদ আল্লাহর পক্ষে গ্রহণ করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। প্রকৃত তওহীদ সমষ্টিগত, জাতিগত। আল্লাহ কোর’আনে বার বার বোলেছেন- আসমান ও জমিনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহর। তিনি মানব জাতির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক জীবন পরিচালনার জন্য যে সংবিধান (কোর’আন) ও ঐ সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে যে আইন-কানুন, দণ্ডবিধি দিলেন সেটার সার্বভৌমত্ব হল আল্লাহর। বৃহত্তর ও সমষ্টিগত জীবনে গায়রুল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার ও গ্রহণ করে নিয়ে শুধুমাত্র ব্যক্তিজীবনের সার্বভৌমত্বটুকু আমরা আল্লাহর জন্য রেখেছি। সেই জাল্লে-জালাল, আযিজুল জব্বার, স্রষ্টা ভিক্ষুক নন যে তিনি এই ক্ষুদ্র তওহীদ গ্রহণ করবেন। তাছাড়া ওটা তওহীদই নয়, ওটা র্শেক ও কুফর।

সুতরাং শেষ ইসলামের প্রথম ও মুখ্য দিকটা হচ্ছে জাতীয়, রাষ্ট্রীয়; ব্যক্তিগত দিকটা গৌণ যদিও ভারসাম্যযুক্ত। তাই ফরদ অর্থাৎ অবশ্যই করণীয়, যেটা না করলে চলবে না, সেই ফরদ সালাহ কায়েমের আদেশ জামাতে, সবার সঙ্গে, হজ্ব করার আদেশ হচ্ছে বিশাল জন সমাবেশে। আর নফল সালাহ অর্থাৎ ব্যক্তিগত সালাহ যা অবশ্য করার নয়, ব্যক্তির ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ থেকেই তো পরিষ্কার হয়ে যায় যে ইসলামে জাতীয় বিষয়ই প্রধান ও মুখ্য। ফরদ অর্থাৎ জাতীয় বিষয়গুলিকে বাদ দিয়ে নফল অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে থাকলে তা জায়েজ হবে না, যেমন জায়েজ হবে না ফরদ সালাহ বাদ দিয়ে রাত ভর নফল সালাহ পড়লে। সালাহ যেমন জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যযুক্ত হজ্বও তেমনি। বলা যায় জামাতে সালাহ্’রই বৃহত্তম সংস্করণ হজ্ব। এই দীনের সমস্ত জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হচ্ছে এবাদতের স্থানগুলি অর্থাৎ মসজিদ, কারণ মোসলেমের জীবনের, জাতীয় ও ব্যক্তিগত উভয় জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য এবলিসের চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে জয়ী করানো ও পৃথিবীতে ন্যায় বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। সুতরাং মোসলেমের জীবনে ইহজীবন ও পরজীবনের, দেহের ও আত্মার কোন বিভক্তি থাকতে পারে না কারণ দেহ থেকে আত্মার পৃথকীকরণ বা আত্মা থেকে দেহ পৃথকীকরণের একটাই মাত্র পরিণতি-মৃত্যু। তাই এই জাতির সমস্ত কর্মকাণ্ড এক অবিচ্ছিন্ন এবাদত। জামাতে সালাতের উদ্দেশ্য হল মোসলেম পাঁচবার তাদের স্থানীয় কর্ম-কাণ্ডের কেন্দ্র মসজিদে একত্র হবে, তাদের স্থানীয় সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা পরামর্শ করবে, সিদ্ধান্ত নেবে, তারপর স্থানীয় ইমামের নেতৃত্বে তার সমাধান করবে। তারপর সপ্তাহে একদিন বৃহত্তর এলাকায় জামে মসজিদে জুমা’র সালাতে একত্র হয়ে ঐ একই কাজ করবে। তারপর বছরে একবার আরাফাতের মাঠে পৃথিবীর সমস্ত মোসলেমদের নেতৃস্থানীয়রা একত্র হয়ে জাতির সর্বরকম সমস্যা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ইত্যাদি সর্বরকম সমস্যা, বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে, পরামর্শ করবে, সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায়ে থেকে ক্রমশঃ বৃহত্তর পর্য্যায়ে বিকাশ করতে করতে জাতি পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু মক্কায় একত্রিত হবে। একটি মহাজাতিকে ঐক্যের সুদৃঢ় বন্ধনে বেঁধে রাখার কী সুন্দর প্রক্রিয়া।

আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.) এ অপূর্ব সুন্দর প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট করে দিলেও তা এই জাতির ঐক্যকে ধরে রাখতে পারলো না আকিদার বিকৃতির কারণে। এই দীনের অতি বিশ্লেষণ করে, সূক্ষতিসূক্ষ্ম মসলা-মাসায়েল উদ্ভাবন করে জাতিটাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে একে এক মৃতপ্রায় জাতিতে পরিণত করে দেওয়ার পরও এর সব রকম, অর্থাৎ জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র মসজিদ ও কাবাই ছিলো, কারণ তখনও এই দীনকে জাতীয় ও ব্যক্তিতে বিভক্ত করা হয় নি। তারপর যখন ঐ ঐক্যহীন, ছিন্ন-বিছিন্ন জাতিটাকে আক্রমণ করে ইউরোপীয় জাতিগুলি দাসে পরিণত করে খণ্ড খণ্ড করে এক এক জাতি এক এক খণ্ড শাসন ও শোষণ করতে শুরু করলো তখন ঐ শাসনের সময় জাতির জীবনকে জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে ভাগ করা হল অর্থাৎ দেহ থেকে আত্মাকে বিচ্ছিন্ন করা হল এবং অবশ্যম্ভাবীরূপে জাতি একটি মৃত জন-সংখ্যায় পরিণত হল। সালাহ ও হজ্ব হয়ে গেলো ‘এবাদত’ ব্যক্তিগত উপাসনা, যেখানে রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক কোন কিছুর স্থান নেই। আল্লাহর আইন ও দণ্ডবিধির তো কোন প্রশ্নই উঠে না, কারণ সেগুলোকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সেখানে ইউরোপীয় খ্রিস্টান ইহুদিদের তৈরি আইন, অর্থনীতি, দণ্ডবিধি, শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হল। ঐ সময় থেকেই দুই এলাহ গ্রহণ করার ফলে এই জাতি কার্যতঃ মোশরেক ও কাফের হয়ে আছে। যদিও আকিদার বিকৃতির কারণে তা উপলব্ধি করার মতো বোধশক্তিও অবশিষ্ট নেই।
যামানার এমামের লেখা থেকে সম্পাদিত।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

বাবা নেই, মায়ের স্বপ্ন পূরণে ১৩ মাসে হাফেজ হলেন নাঈম!

বাবা নেই, মায়ের স্বপ্ন পূরণে ১৩ মাসে হাফেজ হলেন নাঈম!
মাত্র ১৩ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১০ বছর বয়সী শিশু মুহাম্মদ নাঈম আহমদ। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায়…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে এমপির বউ সবার আগে নেবে!

সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে এমপির বউ সবার আগে নেবে!
সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যের স্ত্রীই সবার আগে সেই কার্ড নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

নভেম্বরেই চালু হতে পারে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর!

নভেম্বরেই চালু হতে পারে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর!
আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণের পর…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষক দুখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন!

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষক দুখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন!
জন্ম থেকেই দুই হাত নেই, তবু থেমে নেই শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম। পা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিশুদের পাঠদান করে চলেছেন তিনি। এবার তাঁর…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হা’মলার অভিযোগ!

জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হা’মলার অভিযোগ!
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বার্তা সম্পাদক শৌর্য দীপ্ত সূর্য। সোমবার (১২ অক্টোবর) তিনি এ তথ্য…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

স্ত্রীর মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর প্রাণ গেল স্বামীর!

স্ত্রীর মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর প্রাণ গেল স্বামীর!
ঘরে পড়ে ছিল স্ত্রীর নিথর দেহ। শোক বুকে নিয়েই ফজরের আজান দিতে ও নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান স্বামী রোমান মোল্যা (৬০)। তবে নামাজ শেষে…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    খুলনা

তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ কক্ষে মিলল বৃদ্ধার মরদেহ!

তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ কক্ষে মিলল বৃদ্ধার মরদেহ!
রাজশাহী নগরের কেদুর মোড় এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বেলী রাণী (৭০) নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    রাজশাহী

ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের স্বর্ণ-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা গণনা শুরু!

ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের স্বর্ণ-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা গণনা শুরু!
দীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল ইসলামী আন্দোলন নেতার পদ স্থগিত!

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল ইসলামী আন্দোলন নেতার পদ স্থগিত!
ভোলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দলটির ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    বরিশাল

পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়!

পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়!
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

স্বর্ণের খনিতে বিমান হামলা, সুদানে প্রাণ গেল ৭২ জনের!

স্বর্ণের খনিতে বিমান হামলা, সুদানে প্রাণ গেল ৭২ জনের!
সুদানের নীল নদ রাজ্যে স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীদের একটি শিবিরে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত শনিবার ভোরে চালানো এ হামলায় আহত হয়েছেন…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

চট্টগ্রামে বসতঘর থেকে মদসহ স্বামী-স্ত্রী আটক!

চট্টগ্রামে বসতঘর থেকে মদসহ স্বামী-স্ত্রী আটক!
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৫০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ জলদী এলাকার শ্রীরাম মহাজন পাড়ার ৮…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    চট্টগ্রাম

নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য দিল্লিতে চালু হচ্ছে গোলাপি ই-অটো

নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য দিল্লিতে চালু হচ্ছে গোলাপি ই-অটো
নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ করতে ১ হাজার ৩০০টি গোলাপি রঙের বৈদ্যুতিক অটোরিকশা (ই-অটো) বরাদ্দের…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

সি’জারে পেটে গজ থাকায় মৃ’ত্যু ৫৫ হাজারে আপসের নথি প্রকাশ!

সি’জারে পেটে গজ থাকায় মৃ’ত্যু ৫৫ হাজারে আপসের নথি প্রকাশ!
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগের পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

সৌদির বিমানবন্দর ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ!

সৌদির বিমানবন্দর ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ!
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার মধ্যে এবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনা ঘটেছে।…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক