আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া গ্রামে শনিবার (২৪ অক্টোবর) গভীর রাতে ফসলি জমিতে লবণ ও আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জমির মালিক মৃত তাজেম আলী হাওলাদারের ছেলে যুবরাজ হাওলাদার ও তার স্বজনরা এই অভিযোগ করেন।
যুবরাজ হাওলাদার বলেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামুন পেয়াদার (৪৫) সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে মামুন পেয়াদা তাদের রোপণ করা ধানখেতে লবণ ও ওষুধ প্রয়োগ করে সব নষ্ট করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আঠারগাছিয়া গ্রামের ২০ নম্বর মৌজায় তাদের ৯ একর ৭৬ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিটি ১৯৬৫ সালে মৃত আব্দুল আলী ও তার শরিকদের কাছ থেকে মোহাম্মদ রমজান আলী খানসহ কয়েকজন ক্রয় করেন। এরপর থেকে তারাই এটি ভোগদখল করে আসছেন।
কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারে মামাকে কুপিয়ে হত্যা: ১৬ ঘণ্টার মধ্যে ভাগনে গ্রেফতার

যুবরাজ হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, মামুন পেয়াদা ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে তাদের হয়রানি করছেন এবং পাঁচটির বেশি মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মামুন পেয়াদার ভয়ে তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। তিনি সামাজিকভাবে তাদের হয়রানি করে আসছেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মামুন পেয়াদা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য লিয়ন তালুকদার চক্রান্ত করে তাকে ফাঁসানোর জন্য এই ষড়যন্ত্র করেছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য লিয়ন তালুকদার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ যুবরাজ হাওলাদার ও মামুন পেয়াদার মধ্যে। এখানে তার ষড়যন্ত্র করার কোনো প্রশ্নই আসে না।
আমতলী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ফসলি জমিতে আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। জমিটি থেকে কৃষকদের প্রায় ২০০ থেকে ২৮০ মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। তবে ফসলটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















