যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আগের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর এবার নতুন করে এমন ঘটনা ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারক করতে সচিবালয়ে রাত কাটিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থাও।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় পরীক্ষা দিতে আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। পরে নতুন করে ১৬ অক্টোবর পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে অবস্থান করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত পুরো কার্যক্রম তদারক করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলছিল। এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
দেশ উগ্র-ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে: মাহফুজ আলমের উদ্বেগ!

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে পুলিশি পাহারায় প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ তদারক করতে সচিবালয়ে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। ফলে সীমিতসংখ্যক পদের বিপরীতে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর এ পরীক্ষা ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
আগেরবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে যে ভোগান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা বিবেচনায় নিয়ে এবার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, সব ধরনের অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা এড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।
















