শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা তদারকিতে চালু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রস্তুত রয়েছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং মন্দিরের সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিজিবি। সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন বাহিনীর সদস্যরা।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!

তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা সরেজমিনে পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয়েছে। সীমান্তের যেসব পূজামণ্ডপ বিজিবির বর্ডার আউটপোস্ট বা বিওপি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত, সেসব স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিজিবির সদর দপ্তর, রিজিয়ন, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা তদারকি ও দ্রুত সমন্বয়ের জন্য বিজিবি সদর দপ্তরে একটি সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে বলেও জানান মহাপরিচালক। পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিজিবির সদস্যরা পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে সারা দেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হতে পারে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রেনিং), ঢাকা সেক্টর কমান্ডারসহ বাহিনীর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
















