দেশের ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হামজা চৌধুরীর জন্মদিনে জয় দিয়ে দিনটি স্মরণীয় করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু মাঠে তার উল্টো চিত্র দেখা গেল। স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই ছন্দহীন ফুটবল খেলে শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারে ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে জয়হীনভাবেই অভিযান শেষ করল লাল-সবুজের দল। অন্যদিকে বড় জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়া।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে একের পর এক চাপে ফেলে ৬-১ গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া।
ইন্দোনেশিয়ার হয়ে মিচেল বেকার একাই করেন চার গোল। তার সঙ্গে রিজকি রিদো ও জাস্টিন হাবনারও গোলের তালিকায় নাম লেখান। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি করেন শাহরিয়ার ইমন। ফলে বিরতিতে ৬-১ গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
মেসির বিদায়ে আন্তোনেলার আবেগঘন বার্তা, ‘সব সময় তোমার পাশে আছি’!

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণ কিছুটা গুছিয়ে খেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইন্দোনেশিয়ার হাতেই। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়েও বাংলাদেশের জালে আরও তিনবার বল পাঠায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি আসে যোগ করা সময়ে। ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফরহান আলী ওয়াহিদের গোলে ব্যবধান কিছুটা কমে আসে। শেষ পর্যন্ত দুই গোল করেও বড় হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
এই হার বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে বড় ব্যবধানের পরাজয়গুলোর একটি। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ১৯৭৯ সালে এবং ইরানের কাছে ১৯৮২ সালে ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালে হংকংয়ের বিপক্ষে ৯-১ গোলেও পরাজিত হয়েছিল লাল-সবুজের দল।
ফিফা আসিয়ান কাপে এটি বাংলাদেশের টানা তৃতীয় পরাজয়। এর আগে প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার এই জয় তাদের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে হামজা চৌধুরীর জন্মদিনে জয় উপহার দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশের। বরং বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

















