বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠসংলগ্ন কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিন যুবক কার্যালয়ে তেল বা পেট্রোলজাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। আরেকজন মুঠোফোনে পুরো ঘটনাটি ধারণ করছেন। তবে রাতের অন্ধকারে তাঁদের মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বগুড়া জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সকালে কার্যালয়ে এসে বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি দেখছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গাজীপুরে আসামি ছিনিয়ে নিতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা!

সুলতান মাহমুদ আরও বলেন, এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপির বগুড়া জেলা শাখা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএস এ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও আগুন দেওয়া কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, রাজনীতির মূল শক্তি হলো সহনশীলতা, যুক্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমিয়ে রাখা যায় না।
একই সঙ্গে বগুড়াসহ সারা দেশে সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা। রাজনৈতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এনসিপি নেতারা।

















