নেত্রকোণার কলমাকান্দার নাজিরপুরে সরকারি জমি দখল করে প্রভাব বিস্তার কিংবা নামমাত্র ইজারা নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কাউকে ‘মাফিয়া ডন’ হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সরকারি সম্পত্তির ব্যক্তিগত ব্যবহার বন্ধ, উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত ব্যবসায়ীদের জমি বরাদ্দ এবং নাজিরপুরকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নাজিরপুরে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কায়সার কামাল।
নাজিরপুর বাজারে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান ও সরকারি জমি উদ্ধারের প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এ অভিযানে স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা তিনি স্বীকার করেন। তবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও জমির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, পরিচয় মিলেছে ৯ জনের!

কায়সার কামাল বলেন, আগে ব্যবসায়ীরা ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন। এখন তাঁদের জমির মালিকে পরিণত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্রুত জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তাঁরা স্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পান।
সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অতীতে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে সরকারি জায়গায় তিন-চারতলা ভবন নির্মাণ করে প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যম হতে পারে না। নাজিরপুরকে কোনো বিশেষ ব্যক্তির আয়ের উৎসে পরিণত না করে ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে দলমত-নির্বিশেষে সবাই যেন সমান সুযোগ ও সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নাজিরপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নাজিরপুরকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার জানান, দেশের ছয়টি বিভাগে একটি করে আধুনিক ও উন্নতমানের ‘হেলথ হাব’ বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্র নাজিরপুরে স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাস্তবায়িত হলে এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুকুর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
















