কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার এসএমএসের মাধ্যমে এ তথ্য পাঠানো হবে। এর ফলে বৃষ্টি, ঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা তাপমাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে আগেই সতর্ক হতে পারবেন কৃষকেরা। কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়ার তথ্যসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশেই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তন কিংবা ঝড়ের কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে কৃষকেরা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
উদাহরণ হিসেবে, ধান কাটার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম বার্তা পেয়ে কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। আবার বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সেচের প্রয়োজন নির্ধারণ করতে পারলে পানি ও উৎপাদন খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। ঝড় বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা পেলে ফসল ও কৃষি উপকরণ সুরক্ষায়ও আগাম ব্যবস্থা নিতে পারবেন তাঁরা।
এনসিপির নতুন ক্রীড়া সংগঠনের আত্মপ্রকাশ আজ!

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) মাধ্যমে এ সেবা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় এসএমএস পাঠানো হলে কৃষকদের প্রতিবার আলাদাভাবে আবহাওয়ার তথ্য খুঁজতে হবে না; সরাসরি তাঁদের মোবাইল ফোনেই পৌঁছে যাবে প্রয়োজনীয় পূর্বাভাস।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়ার তথ্যের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কাজ এগিয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষি উপকরণ সহায়তা পাওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এর আগে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগটি সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। সময়মতো আবহাওয়ার তথ্য পেলে কৃষকেরা চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজানো, ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়াও সহজ হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে পার্টনার প্রকল্প।
















