রাজনীতিতে কার ক্ষমতা বাড়ল বা কমল, তার চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বহুমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এসব হাসপাতালে শিশু ও গাইনি ওয়ার্ড রাখার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি দেশে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে।
আমজনতার তারেককে নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী!

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, জাতির ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল হবে। আগামী বছর থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক ভাষা শেখার সুযোগ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর উন্নয়নই দেশের মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে কার ক্ষমতা কতটুকু বাড়ল বা কমল, তার চেয়ে এসব খাতের সংস্কারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জাপান সরকার বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির মধ্যে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলোর ক্ষেত্রে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
















