বঙ্গোপসাগরকে কোনো ধরনের বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মুনীরুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। ভারত ও চীন—দুই দেশের কাছেই বাংলাদেশের দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে।
মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও জরুরি: ববি হাজ্জাজ

সামুদ্রিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এটি শুধু এ অঞ্চলের জন্য নয়, ভারত মহাসাগরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিকের কৌশলগত পরিকল্পনায় বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল।
তার মতে, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, যা ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বঙ্গোপসাগরকে বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলাদেশ।
আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়ে মুনীরুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত একটি স্থলপথ বা করিডোর তৈরি করা গেলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়বে এবং এতে ভারত ও চীন উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও বাংলাদেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। মুনীরুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই সংকট ও এর ফলে তৈরি নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকা ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই উপকারী হতে পারে।

















