বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে দাঁড়াতেই পারল না বুরকিনা ফাসো। ঘরের মাঠ মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে বিশাল ব্যবধানের এই জয়ের পেছনে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বুরকিনা ফাসোর দলসংকট ও চরম ভ্রমণক্লান্তিও বড় ভূমিকা রেখেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বুরকিনা ফাসোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা। বিপরীতে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে বুরকিনা ফাসো।
আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের খাতা খোলেন লাওতারো মার্তিনেজ। এরপর জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, নিকো পাজ ও হুলিয়ান আলভারেজও নাম লেখান গোলদাতাদের তালিকায়। বদলি হিসেবে নেমে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুলিয়ানো সিমিওনেও গোল করেন। এর বাইরে ম্যাচের অষ্টম মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে আরও একবার পিছিয়ে পড়ে বুরকিনা ফাসো। শেষ পর্যন্ত সাত গোলের বিশাল ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
মেসির বিদায়ে আন্তোনেলার আবেগঘন বার্তা, ‘সব সময় তোমার পাশে আছি’!

তবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬২ নম্বরে থাকা বুরকিনা ফাসোর জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে খেলা। ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জানা যায়, ফ্লাইট জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে জাতীয় দলের অধিকাংশ নিয়মিত খেলোয়াড় আর্জেন্টিনায় খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে একাদশ সাজাতে হয় কোচ আমির আব্দোউকে। মূল জাতীয় দলের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দলে ছিলেন মিডফিল্ডার চেক বেবেল দৌউম্বিয়া।
এর সঙ্গে যোগ হয় দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল। কাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রায় ৯ হাজার ২৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ম্যাচ শুরুর মাত্র সোয়া পাঁচ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান বুরকিনা ফাসোর খেলোয়াড়েরা। ১১ ঘণ্টার বেশি সময়ের বিমানযাত্রার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি কাটানোর সুযোগও পাননি তারা। আর্জেন্টিনার মাটিতে পা রাখার পরপরই তাদের নামতে হয় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠে।
ফলে ম্যাচে আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তার পাশাপাশি বুরকিনা ফাসোর দলসংকট ও শারীরিক ক্লান্তির প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে ৭-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

















