শেরপুরের গারোপাহাড়ে আটকে পড়া বন্যহাতির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সীমান্তের বেড়া খুলে দেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আগের প্রটোকল অনুসারে ভারতের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, মেঘালয় থেকে আসা শতাধিক বন্যহাতি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না। ফলে শেরপুরের গারোপাহাড়ে হাতিগুলোর চলাচল ও খাদ্যসংকট নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। পাশাপাশি শেরপুরের বনভূমিকে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!

তিনি আরও বলেন, শেরপুরের গারোপাহাড়, বন্যহাতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনের কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, শেরপুরের বনাঞ্চলে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০টি বন্যহাতি বিচরণ করছে। হাতির চলাচল ও খাদ্যসংকটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলে আসছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতি দলে ১০ জন করে ৫৩টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে স্থাপন করা হয়েছে ৪৫টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা।
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, বন্যহাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে হাতির চলাচলের করিডর রক্ষা করা জরুরি। এ জন্য আন্তর্দেশীয় সংলাপের পাশাপাশি হাতিকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, শেরপুরের বনাঞ্চলের তুলনায় হাতির খাবার ও বিচরণক্ষেত্র কম। হাতিগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এলেও বর্তমানে সেখানে ফিরতে না পারায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভায় বন্যহাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যদের মধ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর আগে পরিবেশমন্ত্রী নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে তিনি মধুটিলা ইকোপার্ক, গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র এবং পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।
















