ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনার পর ইয়েমেনে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য জানান ইয়েমেন সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইয়েমেন সরকারের মন্ত্রিসভা এ হামলাকে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলায় আল-মাশিক প্রাসাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, সামরিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এক বোতল পানির দাম বেশি নেওয়ায় দেড় লাখ রুপি জরিমানা!

এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ১ হাজার ২৫০টি হামলা চালানো হয়েছে। ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়। ইরান সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করাই এ অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব হামলায় হুতিদের ১৫০টি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মাজেদ আল-নুজাইলির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে হুতিদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে তাইজ ফ্রন্টে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। নিজের পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাতের মধ্যে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে হামলার দায় কারা সরাসরি স্বীকার করেছে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। একইভাবে, সরকারি বাহিনীর ব্যাপক হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
















