দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফিরে পেলেন হারিয়ে যাওয়া পরিবার। একটি মাত্র প্রতিবেদন বদলে দিল জসীমউদ্দীনের জীবনের গল্প! যে মা-বাবা, ভাই-বোনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় ছিলেন, অবশেষে তাঁরাই ছুটে এসেছেন জসীমউদ্দীনকে বুকে ফিরিয়ে নিতে। দেশের পত্রে প্রচারিত প্রতিবেদনটি দেখেই পরিবারের সদস্যরা চিনতে পারেন তাঁদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটিকে। খবরটি জানার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আর দেরি না করে জসীমউদ্দীনকে ফিরিয়ে নিতে ছুটে আসেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাতবাড়িয়া বাজারে। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিচ্ছেদের পর এ যেন এক হারিয়ে যাওয়া অমূল্য সম্পদ ফিরে পাওয়ার গল্প!
দীর্ঘদিন ধরে সাতবাড়িয়া বাজারে রাস্তায় রাস্তায় কাটছিল জসীমউদ্দীনের জীবন। নিজের বাড়ির ঠিকানা মনে না থাকলেও মনে ছিল মা জরিনা, বাবা আনোয়ার, ভাই জহিরুল এবং তিন বোন নুপুর, সুমাইয়া ও সুরাইয়ার নাম। আপনজনদের নাম মনে রেখেও তাঁদের কাছে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে তাঁর সেই অসহায় জীবনের গল্প তুলে ধরে দেশের পত্র। আর সেই প্রতিবেদনই পৌঁছে দেয় জসীমউদ্দীনকে তাঁর পরিবারের কাছে ফেরানোর বার্তা।
প্রতিবেদনটি দেখে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, দীর্ঘ ১৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তাঁদের সেই প্রিয় মানুষটিই জসীমউদ্দীন। এরপর আর অপেক্ষা করেননি তাঁরা। জসীমউদ্দীনকে ফিরিয়ে নিতে তাঁর বাবা, ভাইসহ পরিবারের চারজন ছুটে আসেন সাতবাড়িয়া বাজারে।
চট্টগ্রামে ছদ্মবেশে পুলিশের অভিযান, ১১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যুবক

দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষটিকে সামনে পেয়েই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। যে মানুষটিকে বছরের পর বছর ধরে খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষা, সেই মানুষটিকে অবশেষে চোখের সামনে ফিরে পেয়ে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেন সবাই। তাঁদের চোখের পানি আর বুকভরা আবেগে তৈরি হয় এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। মনে হচ্ছিল, হারিয়ে যাওয়া পরিবারের অমূল্য সম্পদকে আবারও ফিরে পেয়েছেন তাঁরা।
একদিকে দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ, অন্যদিকে আপনজনদের ফিরে পাওয়ার আনন্দ, সব মিলিয়ে সেখানে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। যে জসীমউদ্দীন এত দিন পরিবারের সদস্যদের নাম মনে করে তাঁদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, অবশেষে সেই মা-বাবা ও ভাইয়েরাই তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আপনজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় তাঁর।
দর্শক, একটি প্রতিবেদন যে মানুষের জীবনে এত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, জসীমউদ্দীনের গল্প তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রায় ১২ বছর ধরে সাতবাড়িয়া বাজারে কাটছিল তাঁর জীবন। অথচ বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন দীর্ঘ ১৮ বছর। নিজের ঠিকানা ভুলে গেলেও হারিয়ে ফেলেননি পরিবারের সদস্যদের নাম। আর সেই নামগুলোই তাঁর পরিচয় খুঁজে পেতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
দেশের পত্রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জসীমউদ্দীনের পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় তাঁর হারিয়ে যাওয়ার গল্প। অবশেষে দীর্ঘ ১৮ বছরের বিচ্ছেদের অবসান ঘটে। জসীমউদ্দীন ফিরে পান তাঁর পরিবার, আর তাঁর পরিবার ফিরে পায় হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটিকে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ছোট্ট একটি উদ্যোগও কখনো কখনো একটি পরিবারের জীবনে ফিরিয়ে দিতে পারে বহু প্রতীক্ষিত আনন্দ। জসীমউদ্দীনের মতো আরও কোনো মানুষ যদি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকেন, তাঁদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় আমরাও পাশে থাকতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এভাবেই মানুষের গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই আমরা।
দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জসীমউদ্দীনের পরিবার ফিরে পাওয়ার এই আনন্দঘন মুহূর্তে সবার প্রত্যাশা, পরিবারের ভালোবাসায় তাঁর জীবনের বাকি দিনগুলো সুন্দর ও শান্তিতে কাটুক।
















