আজকের দিনে সাধারণ মানুষের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কিংবা জীবনযাত্রার হালচাল জানতে চাইলে অধিকাংশের মুখ থেকেই শোনা যাবে এক গভীর সংকটের বিবরণ। কেউ বলবেন অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কথা; কেউ বলবেন হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে লাখ লাখ টাকা গচ্চা যাওয়ার কথা। কারও অভিযোগ সরকারি দপ্তরে ঘুষখোরদের দৌরাত্ম্য নিয়ে, কেউ বলবেন একদিকে ধর্মব্যবসায়ীদের অনৈতিক কার্যকলাপ ও মব সন্ত্রাস, অন্যদিকে ইসলামবিদ্বেষীদের অপপ্রচার। আবার কেউ বলবেন চাঁদাবাজদের উৎপাতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন অজস্র দুঃখ ও বঞ্চনার কথাই আজ মানুষের মুখে মুখে। সমাজে হয়তো খুব অল্পসংখ্যক লোক আছেন যারা বলবেন ভালো আছেন – যাদের বাড়ি-গাড়ি ও বিপুল ব্যাংক ব্যালান্স রয়েছে, বিদেশে সন্তানাদি প্রতিষ্ঠিত এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট যাদের স্পর্শ করে না। কিন্তু এই মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী শ্রেণি ছাড়া দেশের আপামর জনসাধারণ আজ নানাবিধ যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তায় জর্জরিত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে – এই পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো? এটা কি একদিনে হয়েছে? একদিনে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এ ভূখণ্ড থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা বিদায় নিয়েছে প্রায় আট দশক হতে চলল। কিন্তু ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর তাদেরই তৈরি করে যাওয়া ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা ও আইন-কানুন আমরা গ্রহণ করেছি, যা স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েম হওয়ার পরও বজায় রাখা হয়েছিল।
দীর্ঘ ২৩ বছর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেলাম। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়ে গেল। এরই মধ্যে একের পর এক জাতীয় নির্বাচন হলো, ক্ষমতার পালাবদলে বহু সরকার এলো, কয়েকটি গণঅভ্যুত্থান হলো, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই হলো। কিন্তু শাসকের মুখ পাল্টালেও রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতা দখল, লুটপাট আর অর্থ পাচার বন্ধ হয়নি; বরং দিন দিন আরও বেড়েছে। অফিসে অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ না হয়ে আরও জেঁকে বসেছে। ওদিকে মাদকের সর্বগ্রাসী বিস্তার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং গ্রামীণ জনপদে রক্তক্ষয়ী সংঘাত আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিটি অপরাধ ও অনিয়ম উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। এটা কেবল নির্দিষ্ট কোনো সরকারের ব্যর্থতা নয়, এটা আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থারই ব্যর্থতার বাস্তব চিত্র। ব্যাংকিং খাতে লাখ লাখ কোটি টাকা ঋণখেলাপি হয়েছে, সাধারণ মানুষের আমানতের টাকা হরিলুট করা হয়েছে। দেশ আজ বিদেশের কাছে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণের বোঝায় জর্জরিত।
এমতাবস্থায় সমাজে বিরাজমান এই অশান্তি ও অরাজকতার মূল কারণটি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। মূল কারণটি হচ্ছে, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, সেই মহান আল্লাহই মানুষের একমাত্র স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তিনি মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন (সূরা আল-বাকারা: ৩০)। কোন পথে চললে মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনে প্রকৃত শান্তি ও স্বস্তি আসবে, তা স্রষ্টা হিসেবে কেবল তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। সেজন্যই তিনি মানবজাতির জন্য একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান দিয়েছেন। মানুষ যখন আল্লাহর দেওয়া সেই শাশ্বত বিধান বর্জন করে নিজেরাই নিজেদের জীবনের বিধানদাতা ও হুকুমদাতা (ইলাহ) সেজে বসল, তখনই মানবজীবনে নেমে এলো চরম অবিচার ও অশান্তি।
উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ সুদকে সুস্পষ্টভাবে হারাম করেছেন। যারা সুদের কারবার ছাড়বে না, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে (সূরা আল-বাকারা: ২৭৮-২৭৯)। অথচ আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তিই গড়ে তোলা হয়েছে এই শোষণমূলক সুদের ওপর। একইভাবে সমাজে চুরি, ডাকাতি, খুন কিংবা ব্যভিচারের মতো অপরাধ দমনে এবং আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আল্লাহ স্পষ্ট দণ্ডবিধি দিয়েছেন। আল্লাহর দেওয়া সেই ন্যায়সঙ্গত বিধান বাদ দিয়ে যখন মানুষের মনগড়া আইন দিয়ে ফায়সালা করা হয়, তখন সমাজে চরম অন্যায় নেমে আসাটাই স্বাভাবিক। পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে এটিই হচ্ছে সুস্পষ্ট ‘শেরক’ ও ‘কুফর’। আমরা ব্যক্তিগত জীবনে নামাজ-রোজা করছি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে আল্লাহর হুকুম বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি আইন ও হানাহানির রাজনীতি মেনে চলছি। অর্থাৎ কিছু বিধান মানছি আল্লাহর, আর কিছু বিধান মানছি মানুষের। কোরআন অনুযায়ী আল্লাহর বিধানের কিছু মানা আর কিছু ছেড়ে দেওয়াই হলো শেরক (সূরা আল-বাকারা: ৮৫, সূরা আন-নিসা: ৪৮)। আবার যারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান দিয়ে বিচার-ফায়সালা করে না, কোরআন তাদেরকেই স্পষ্ট ভাষায় ‘কাফের, জালেম ও ফাসেক’ ঘোষণা করেছে (সূরা আল-মায়েদা: ৪৪, ৪৫, ৪৭)। এভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জাতীয় জীবনে শেরক ও কুফরির মধ্যে ডুবে থাকার কারণেই আজ আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে এমন অভিশাপ ও অশান্তি নেমে এসেছে।
এখন আমাদের করণীয় কী? করণীয় একটিই। বর্তমানে যে কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র, আইন-কানুন, শিক্ষানীতি ও বিচারব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে, তা মূলত ঔপনিবেশিক যুগের এবং মানুষের মনগড়া। এই ব্যর্থ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে আল্লাহর দেওয়া ত্রুটিহীন ও ন্যায়সঙ্গত জীবনব্যবস্থা কায়েম করতে হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অন্তর্র্বতী সরকার এসে রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সংস্কার কমিশন গঠন করেছে এবং তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়, এসব সংস্কার দিয়ে শাসনব্যবস্থার কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ শাসনব্যবস্থাকে আমূল পাল্টে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ততক্ষণ আমাদের বাস্তবজীবনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তাই সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো – ব্যর্থ ব্যবস্থার সংস্কার নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চৌদ্দশত বছর আগে আল্লাহর রসূল (সা.) আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা কায়েম করার মাধ্যমে মানুষের মনোজগৎ ও বহির্জগতে বিপ্লব ঘটিয়ে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করেছিলেন। এর ফলে আরবের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী গোত্রীয় হানাহানি বন্ধ হয়ে তারা এক অপরাজেয় ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছিল। সমাজে চুরি-ডাকাতি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা এতটাই সুদৃঢ় হয়েছিল যে, একজন নারী একা শত শত মাইল পথ কোনো প্রকার ভয়-শঙ্কা ছাড়াই নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারতেন। নারীরা এমন মর্যাদা ও স্বাধীনতা লাভ করেছিলেন যে, তাঁরা রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় প্রয়োজনে সকল কর্মকাণ্ড এমনকি জেহাদেও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আর আল্লাহর বিধানের ছায়াতলে অন্যান্য সকল ধর্মের অনুসারীরা পেয়েছিলেন পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও অবিসংবাদিত ন্যায়বিচার।
আরবের সেই বিশৃঙ্খল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও অপরাজেয় করার মূল ভিত্তি ছিল ‘তওহীদ’: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। এই তওহীদ নিছক মুখের কোনো বুলি বা গতানুগতিক বিশ্বাস নয়; এটি আল্লাহর সাথে বান্দার একটি চুক্তি। এই চুক্তির মূল কথা হলো – আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো সার্বভৌমত্ব, হুকুম-বিধান ও শাসন মানব না।
কিন্তু আজ আমরা আল্লাহর নাযিলকৃত ও রসূলুল্লাহর প্রতিষ্ঠা করা সেই সত্য ইসলামকে যেমন হারিয়ে ফেলেছি, তেমনি ভঙ্গ করেছি আল্লাহর সাথে কৃত সেই অঙ্গীকার। মুখে তওহীদ পাঠ করলেও বাস্তব জীবনে আমরা মানুষের তৈরি বিধান মেনে চলছি। যার অনিবার্য পরিণামে আজ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা মার খাচ্ছে এবং নিজেদের সমাজেও সীমাহীন অবিচারে ডুবে আছে। হেযবুত তওহীদ আজ রসূলুল্লাহর (সা.) সেই পথ অনুসরণ করে সমাজে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যাবতীয় অন্যায়-অবিচার নির্মূল করতে একটি সঠিক আদর্শ ও বৈপ্লবিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে।
ব্যবস্থা পরিবর্তনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন দেশের মানুষকেই নিতে হবে। আমরা কি আজীবন এই সংকট ও অবিচার সয়ে যাব, নাকি ব্যর্থ ব্যবস্থা ভেঙে নতুন পথ গড়ব? কারণ এই দেশের সমাজ, রাষ্ট্র আর অর্থনীতির আসল চালিকাশক্তি জনগণই; তাই মুক্তির ফায়সালাও তাদেরই ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে।
মানবজীবনে আল্লাহর দীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহপ্রদত্ত একমাত্র তরিকা হলো জেহাদ বা সর্বাত্মক সংগ্রাম। আর এই সংগ্রাম পরিচালনার জন্য আল্লাহ নির্দেশ করেছেন সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা কর্মসূচি। মহানবী (সা.) আজীবন এই কর্মসূচি অনুসরণ করেই আরব উপদ্বীপে দীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেছেন: ‘আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন, আমিও তোমাদেরকে এই পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছি। তা হলো – ১. ঐক্যবদ্ধ হও, ২. নেতার আদেশ শোনো, ৩. নেতার আদেশ পালন করো, ৪. হিজরত কর ও ৫. জান-মাল দিয়ে জেহাদ কর।’ [হারিস আল আশয়ারি (রা.) থেকে তিরমিজি, মেশকাত]
রসূলুল্লাহর হাতে গড়া উম্মতে মোহাম্মদির ইতিহাস ছিল মূলত এই পাঁচ দফা কর্মসূচি মোতাবেক অবিরাম সংগ্রামের ইতিহাস। তাঁরা সর্বদা একজন খলিফা বা নেতার অধীনে তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থেকেছেন। নেতা কখন কী আদেশ দেন, সেজন্য সদা সতর্ক ও মনোযোগী থেকেছেন। নেতার আদেশ হওয়ামাত্রই কালবিলম্ব না করে সে আদেশ পালন করেছেন। যাবতীয় অন্যায়, শিরক ও কুফরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। সর্বোপরি নিজেদের জান-মাল আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে দিয়ে দীন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক জেহাদ চালিয়ে গেছেন। এর মাধ্যমেই তাঁরা পবিত্র কোরআনে আল্লাহপ্রদত্ত মো’মেনের সংজ্ঞায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। যেখানে আল্লাহ বলেছেন: “মো’মেন কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান আনে, অতঃপর কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ করে না এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সর্বাত্মক সংগ্রাম (জেহাদ) করে” (সূরা আল-হুজুরাত: ১৫)। অর্থাৎ ঈমানের পরেই মো’মেন হওয়ার প্রধানতম শর্ত হলো দীন প্রতিষ্ঠার এই জেহাদ। সাহাবিরা এই শর্ত পূরণ করেছিলেন বলেই তাঁরা পেয়েছিলেন আল্লাহর প্রত্যক্ষ সাহায্য ও বিজয়।
এই হচ্ছে এক নজরে মহানবী (সা.) ও তাঁর উম্মাহর সমগ্র জীবনের মূল রূপরেখা। আজ আবারও সেই পাঁচ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে পুরো জাতিকে একজন নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত করতে পারলে চলমান সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এখন প্রশ্ন আসে, এই বিভ্রান্তির যুগে জাতি কার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে? সমাজে আজ অজস্র দল-উপদল, শত শত ফিরকা ও মাজহাব; একেক দলের একেক নেতা। অথচ একটি জাতির লক্ষ্য যেমন এক ও অভিন্ন হতে হয়, তেমনি তার নেতৃত্বও হতে হয় একজনের। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন – “তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রসূলের এবং তোমাদের উলিল আমরের (নেতৃত্বের)” (সূরা আন-নিসা: ৫৯)। তাই আজ আমাদের প্রয়োজন এমন এক নেতৃত্ব, যিনি মানুষকে কোনো মানবসৃষ্ট মতবাদের দিকে নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সার্বভৌমত্ব ও বিধানের দিকে ডাকবেন। যিনি কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা এবং এই জাতিকে রক্ষার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন।
আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্যরা মাননীয় এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। যাবতীয় অপরাজনীতি, ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ ও বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর নেতৃত্বে আমরা আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা, দীনুল হক ইসলাম প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যেমন রয়েছে আল্লাহপ্রদত্ত সঠিক আদর্শ, তেমনি রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব এবং দীন প্রতিষ্ঠার আল্লাহর দেওয়া কর্মসূচি।
বিদ্যমান ব্যর্থ ব্যবস্থা ভেঙে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠাই আজ সময়ের অনিবার্য দাবি। অতএব, দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান – ভেদাভেদ ভুলে আপনারা তওহীদের এই ডাকে শামিল হোন; আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের জান-মাল ও মেধা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত করি এবং সমাজে আল্লাহর দেওয়া ইনসাফপূর্ণ দীন প্রতিষ্ঠা করি।
আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ডাক -রিয়াদুল হাসান

বজ্রশক্তি ডেস্ক

















