কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের কাউনিয়ায় এনজিও কর্মী ফখরুল আলম রতন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে কাউনিয়া থানা কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহত রতনের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত রতনের স্ত্রী শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, “আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমাদের সন্তানদের এতিম করা হয়েছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। যারা আমার সংসার ধ্বংস করেছে, তাদের দ্রুত ফাঁসি দেওয়া হোক।”
মহেশপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

এ সময় নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বুকের মানিককে যারা কেড়ে নিয়েছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন নিহত রতনের বড় ভাই ফিরোজ কবির মিলন, চরজিগারপাড় জামে মসজিদের সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক হাসেম মণ্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গ্রেফতার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর বাড়ির কাছে আবদার আলীর চায়ের দোকানের সামনে ফখরুল আলম রতন পৌঁছালে আসামিরা তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর গত ৫ নভেম্বর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ফখরুল আলম রতন হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের কাউনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে তারা থানার সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল বলেন, প্রধান আসামিসহ চার আসামিকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
















