সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনের কয়েকটি পাম্পিং স্টেশনে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে এ হামলার দাবি জানায় গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে, রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার দাবি এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কয়েকটি পাম্পিং স্টেশন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, হারলেন বলসোনারোর ছেলে!

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির
হুথিদের হামলার দাবির আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর রাজধানী রিয়াদে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপৎসংকেত জারির কথা জানায়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
অন্যদিকে, হুথিদের দাবি করা ড্রোন হামলা এবং তেল পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনগুলোর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সৌদির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন?
সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো পরিচালিত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দেশটির পূর্বাঞ্চলের আবকাইক এলাকা থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের তেল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে অপরিশোধিত তেল পশ্চিমাঞ্চলের শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনালে পরিবহন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ সচল রাখার ক্ষেত্রে পাইপলাইনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজে তেল পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের মাধ্যমে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনগুলোতে হামলার দাবি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে হুথিদের দাবি করা হামলায় পাইপলাইনের তেল পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
















