শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা পেয়েছিলেন পঞ্চগড়ের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজম। হাসিমুখে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফুল গ্রহণের কিছুক্ষণ পর পাশের একটি দোকানে চা খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নুর আজমের বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন নুর আজম। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। পরে তিনি বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করছিলেন।
সাভারে ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সেজে ডাকাতি করা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে পাশের একটি দোকানে চা খেতে বসেন তিনি। এ সময় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক তাকে ইজিবাইকে করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুল দেয়। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে, পাশের দোকানে চা খেতে বসে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, সকালে সুস্থ অবস্থায় নুর আজমকে বিদ্যালয়ে আসতে দেখেছেন তারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এভাবে তার চলে যাওয়া সহকর্মীদের কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে।
আরেক সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, নুর আজম আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান বলেন, নুর আজমকে জরুরি বিভাগে আনার পর তার রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার জন্য বুকে চাপ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে ইসিজি করে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। চিকিৎসকের ধারণা, তিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
নুর আজম মীরগড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। ২০১২ সালে মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি।
সোমবার রাত ৯টার দিকে মীরগড় এলাকায় তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।
শিক্ষক দিবসে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রিয় শিক্ষকের চলে যাওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে এক হৃদয়বিদারক স্মৃতি।

















