মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী এলাকায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত পাঁচটি বসতঘরে আগুন দেওয়া এবং প্রায় ৩০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে আপত্তি জানান স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল। নিজেকে সভাপতি দাবি করাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের শতাধিক কর্মী-সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, হামলায় অন্তত পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৩০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাসুদকে তালাক দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা!

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সময়ে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বলেন, পুলিশ তাঁদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর বাচ্চু মোড়লের লোকজন হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালান। একই ধরনের অভিযোগ করেন সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বর। তাঁর দাবি, এলাকায় ব্যাপক হামলা চালানো হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাচ্চু মোড়ল। তাঁর দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন এমদাদ মাতুব্বর ও তাঁর সমর্থকেরা। তাঁরা নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে তাঁর ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত সোমবারও তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সে সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ উভয় পক্ষকে বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
















