প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের অতীত ও বর্তমান

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের অতীত ও বর্তমান

২৪ আগস্ট ২০১৫ ০৬:৪৪ এএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

রিয়াদুল হাসান

প্রকৃত ইসলাম পৃথিবীর কোথাও নেই। আল্লাহর রসুলের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসা দীনুল হক, সত্য জীবনব্যবস্থা তার প্রকৃত আদর্শ, স্বকীয়তা এবং যথার্থতা হারিয়ে তথাকথিত একটি ধর্মবিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। শত মত-পথ-তরীকার আড়ালে সত্যদীন হারিয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়ে গেছে মহামূল্যবান আকিদা যে আকিদা ছাড়া ঈমানের কোনো দাম নেই। প্রকৃত ইসলামের জ্ঞান অর্জনের যে গুরুত্ব সেই সম্পর্কেও আকিদা বিকৃত হয়ে গেছে। গোঁড়ামীর কারণে জ্ঞানকে সীমিত রাখা হয়েছে আরবী ভাষা ও ব্যাকরণের ভেতরে। ধর্মের তথাকথিত আলেম মাওলানারা মাদ্রাসা-মক্তবে যে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন তাই তারা প্রকৃত ও একমাত্র জ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সেটাকে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। শুধু তাই নয়, তাদের একটি বিরাট অংশ রয়েছেন যারা এই সীমিত জ্ঞানের বাইরে অন্য কোনো জ্ঞান যেমন- ভূগোল, গণিত, বিজ্ঞান, সাম্প্রতিক বিশ্ব ইত্যাদিকে শয়তানের জ্ঞান হিসেবে প্রচার করেন। তাদের সেই বিকৃত আকিদার কবলে পড়ে বর্তমান মুসলিম নামধারী জাতিটির একটি বিরাট অংশ আজ অজ্ঞতা, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, কুসংস্কার ইত্যাদিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। পৃথিবী যেখানে নতুন নতুন আবিষ্কার, প্রযুক্তিতে একের পর এক ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে, মানুষ লক্ষ লক্ষ মাইল দূরের চাঁদের দেশ থেকে ঘুরে আসছে, গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ছোটাছুটি করছে, নদীর স্রোতকে বেঁধে চাকরের মতো কাজ করাচ্ছে, সমুদ্রের তলদেশ থেকে খনিজ সম্পদ বের করে আনছে তখন মুসলিম নামধারী এই জাতিটি মসজিদে, হুজরায়, খানকায়, মাদ্রাসার চার দেয়ালের অভ্যন্তরে বসে প্রশ্ন করছে টিভি দেখা, গান শোনা জায়েজ কি নাজায়েজ! এটাই কি প্রকৃত ইসলামের আকিদা? আল্লাহর রসুল মোহাম্মদ (সা.) কি ধর্মীয় জ্ঞান তালাশ করাকেই ফরদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি কি তাঁর জাতিকে এরকম ধর্মান্ধ, গোঁড়া, অজ্ঞ, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন থাকার শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলেন?
জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মুসলিমদের অবদান:

মুসলিম হিসেবে অবশ্যই হাদিস-কোরআনের জ্ঞান থাকতে হবে, কিন্তু বাইরের জ্ঞানার্জনকে প্রত্যাখ্যান করে নয়। আমাদের আদর্শ হচ্ছেন রসুলাল্লাহ, আর আদর্শ জাতি হলো রসুলাল্লাহর হাতে গড়া জাতিটি যারা রসুলাল্লাহর সাথে থেকে প্রকৃত ইসলাম শিক্ষা করেছিলেন। রসুলাল্লাহর সাথে থেকে যারা ইসলাম শিখেছিলেন তাদের ইতিহাস তো অন্য রকম। আল্লাহর রসুলের ওফাতের পরপরই তাঁর অর্পিত দায়িত্ব যখন তাঁর হাতে গড়া জাতিটির কাঁধে এসে পড়ল তখন তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আরব থেকে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাইরে বেরিয়ে পড়লেন এবং একের পর এক অসম সামরিক যুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে লাগলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তৎকালীন অর্ধপৃথিবীতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ভিত্তিক সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। উম্মতে মোহাম্মদী তখন সমস্ত পৃথিবীর মডেল। সত্যদীন তখন ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে দিগবিদিক আমোদিত করে তুলছে। শিক্ষা-দীক্ষা, চিকিৎসা, দর্শন, বিজ্ঞান সর্বদিক দিয়ে মুসলিমরা সমস্ত পৃথিবীর শিক্ষকের আসনে অধিষ্ঠিত হন। ক্রমেই নতুন নতুন আবিষ্কার, শিক্ষা-দীক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ইত্যাদিতে তারা অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করতে থাকেন। তাদের তৈরি করা ভিত্তির উপর গড়ে ওঠা মুসলিম সভ্যতা বিশ্বের উন্নতির সর্ববিভাগে বহু আবিষ্কারের জনক হয়ে আছে।
বিজ্ঞান বিভাগে দৃষ্টি দিলেই দেখা যায়, রসায়ন বা কেমিষ্ট্রির জন্মদাতা মুসলিম। রসায়নের ইতিহাসে জাবিরের (৭২২-৮০৪) নাম সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। বীজগণিতের জন্মদাতা বলা হয় আল খোয়ারেজমীকে (৭৮০-৮৫০)। বন্দুক, বারুদ, কামান, প্রস্তর নিক্ষেপণ যন্ত্রের আবিষ্কারও মুসলিমদেরই অবদান। যুদ্ধের উন্নত কৌশল ও বারুদ বা আগ্নেয়াস্ত্র সম্বন্ধে বিখ্যাত আরবী গ্রন্থ তাঁরাই লিখেছেন বিশ্ববাসীর জন্য। সেটির নাম ‘আলফুরুসিয়া ওয়াল মানাসিব উল হারাবিয়া’। ভূগোলেও মুসলিমদের অবদান এত বেশি যা জানলে অবাক হতে হয়। ৬০ জন মুসলিম ভূগোলবিদ পৃথিবীর প্রথম যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তা আজও বিশ্বের বিস্ময়। এর আরবী নাম হচ্ছে ‘সুরাতুল আরদ’ অর্থাৎ বিশ্বের আকৃতি। এবনে ইউনুসের অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা মণ্ডল নিয়ে গবেষণার ফল ইউরোপ মাথা পেতে নিয়েছিল। ফরগানী, বাত্তানি (৮৫৮-৯২৯) ও আল খোয়ারেজমী প্রমুখের ভৌগোলিক অবদান স্বর্ণমণ্ডিত বলা যায়। কম্পাস যন্ত্রের আবিষ্কারকও মুসলিমরাই। তাঁর নাম এবনে আহমদ। জলের গভীরতা ও সমুদ্রের স্রোত-মাপক যন্ত্রের আবিষ্কারক এবনে আবদুল মাজিদ। বিজ্ঞানের উপর যে সব মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ পাওয়া যায় আজও তা বিজ্ঞান জগতের পুঁজির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। বিজ্ঞানের উপর গবেষণামূলক ২৭৫ টি পুস্তক যিনি একাই লিখেছেন তিনি হচ্ছেন আলকিন্দি (৮০১-৮৭৩)। প্রাচীন বিজ্ঞানী হাসান, আহমদ ও মুহম্মদ সম্মিলিতভাবে ৮৬০ সনে বিজ্ঞানের একশত রকমের যন্ত্র তৈরির নিয়ম ও ব্যবহার প্রণালী এবং তাঁর প্রয়োজন নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে গেছেন।
রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের এক হাজার বছর আগে মুসলিম কবি, জ্যোতির্বিদ, সঙ্গীত শিল্পী এবং প্রকৌশলী আব্বাস ইবনে ফারনাস নিজস্ব আবিস্কৃত বিমানের সাহায্যে আকাশে ওড়ার চেষ্টা করেন। ৮৫২ সনে তিনি স্পেনের কর্ডোবা মসজিদের মিনারের উপর থেকে তার আবিস্কৃত যন্ত্রসহ লাফিয়ে পড়েন। উড়তে না পারলেও ধীর গতিতে মাটিতে অবতরণ করেন। তার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্যারাস্যুট আবিস্কৃত হয়।  ৮৭৫ সনে ৭০ বছর বয়সে তিনি আরেকবার লাফিয়ে পড়েন পাহাড়ের চূড়া থেকে এবং বেশ খানিকটা দূরত্ব উড়তে সক্ষম হন। তিনি ১০ মিনিট আকাশে ভেসে থাকেন। ইবনে ফারনাসের নামে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের একটি অগ্নিগিরির জ্বালামুখের নাম করা হয়েছে।
চার্লস ডারউইন পশু-পাখি, লতা-পাতা নিয়ে গবেষণা করে পৃথিবীতে প্রচার করেছেন ‘বিবর্তনবাদ’। কিন্তু তারও পূর্বে যিনি এ কাজ করার রাস্তা করে গেলেন এবং ইতিহাসে সাক্ষ্য রেখে গেলেন, তিনি হচ্ছেন আল আসমাঈ। তাঁর বইগুলো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। মুসলিমরাই প্রথম চিনি তৈরি করেন। তাছাড়া তুলা থেকে তুলট কাগজ প্রথম সৃষ্টি করেছেন ইউসুফ এবনে উমর। তার দু’বছর পর বাগদাদে কাগজের কারখানা তৈরি হয়।
জাবীর ইবনে হাইয়ান একাই ইস্পাত তৈরি, ধাতুর শোধন, তরল বাষ্পীকরণ, কাপড় ও চামড়া রং করা, ওয়াটার প্র“ফ আস্তরণ তৈরি করা, লোহার বার্নিশ, চুলের কলপ ও লেখার পাকা অমোচনীয় কালী আবিষ্কার করে অমর হয়ে রয়েছেন। ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড থেকে কাচ তৈরির প্রথম ধারণা দেন মুসলিম বিজ্ঞানী ‘আল রাজী’ (৮৬৫-৯২৫)। ইংরেজদের ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর নাম লেখা হয় Razes. একদিকে দীনের জ্ঞানে তিনি ছিলেন বিরাট আলেম অপরদিকে ছিলেন গণিতজ্ঞ ও চিকিৎসা বিশারদ। সোহাগা, লবণ, পারদ, গন্ধক, আর্সেনিক ও সালমিয়াক নিয়ে তাঁর লেখা ও গবেষণা উল্লেখযোগ্য। আরও মজার কথা, পৃথিবীতে প্রথম পানি জমিয়ে বরফ তৈরি করাও তাঁর অক্ষয় কীর্তি। ইউরোপ পরে নিজের দেশে বরফ প্রস্তুত কারখানা চালু করে।
পৃথিবী বিখ্যাত গণিত বিশারদের ভিতর ওমর খৈয়ামের (১০৪৮-১১৩১) স্থান উজ্জ্বল রতেœর মতো। ঠিক তেমনি নারিরুদ্দিন তুসী এবং আবু সিনার নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আকাশ জগত পর্যবেক্ষণ করার জন্য বর্তমান বিশ্বেরর মানমন্দির আছে ব্রিটেনে এবং আমেরিকায় কিন্তু কে বা কারা এগুলোর প্রথম আবিষ্কারক প্রশ্ন উঠলে উত্তর আসবে হাজ্জাজ ইবনে মাসার এবং হুনাইন ইবনে এসহাক। এঁরাই পৃথিবীর প্রথম মানমন্দির আবিষ্কারক। সেটা ছিল ৭২৮ খ্রিস্টাব্দ। ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জন্দেশপুরে দ্বিতীয় মানমন্দির তৈরি হয়। বাগদাদে হয় তৃতীয় মানমন্দির। দামেস্ক শহরে চতুর্থ মানমন্দির তৈরি করেন আল-মামুন।
আর ইতিহাসের ঐতিহাসিকদের কথা বলতে গেলে মুসলিম অবদান বাদ দিয়ে তা কল্পনা করাই মুশকিল। এমনকি, মুসলিম ঐতিহাসিকরা কলম না ধোরলে ভারতের ইতিহাস হয়তো নিখোঁজ হয়ে যেত। অবশ্য ইংরেজ ঐতিহাসিকদের সংখ্যাও কম নয়। তবে একান্তভাবে মনে রাখা দরকার: ইতিহাসের স্রষ্টা বিশেষতঃ মুসলিমরা। তার অনুবাদক দল ইংরেজ ঐতিহাসিকরা। মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে আল বিরুনি, ইবনে বতুতা, আলী বিন হামিদ, বায়হাকীম, উতবি, কাজী মিনহাজ উদ্দিন সিরাজ, মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ ঘুরী, জিয়াউদ্দিন বারনী আমীর খসরু, শামসী সিরাজ, বাবর, ইয়াহিয়া-বিন-আহমদ, জওহর, আব্বাস শেরওয়ানী, আবুল ফজল, বাদাউনি, ফিরিস্তা, কাফি খাঁ, মীর গোলাম হোসাইন, হুসাইল সালেমী, সাঈদ আলী প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এঁদের লিখিত মূল ইতিহাস গ্রন্থগুলির নামের তালিকা এত দীর্ঘ যে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতির আশঙ্কায় উল্লেখ করলাম না।
জ্ঞানসাধনায় মুসলিম নারীদের অবস্থান:
রসুলাল্লাহর সময়ের নারীরা যে কবিতা, কাব্য সাহিত্য এবং কোরআন-হাদিসের যে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন সেকথা অনেকেরই জানা আছে। যেমন রসুলাল্লাহর স্ত্রী আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন উচ্চস্তরের হাদিসবিদ ও বিদূষী। স্পেন দেশে ইসলামী সভ্যতা যখন পৌঁছালো তখন শুধু পুরুষরাই জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে ছিলেন তাই নয় বরং মেয়েরাও অনগ্রসর ছিলেন না। যেমন বিখ্যাত মহিলা লাবানা, ফাতেমা, রাজেয়া, আয়েশা, খাদেজা প্রভৃতি। কেউ যেন মনে না করেন যে তাঁরা রসুলাল্লাহর স্ত্রী-কন্যা। তাঁরা ছিলেন তাঁর সত্যনিষ্ঠ অনুসারী, মুসলিম। রসুলাল্লাহর ভক্ত হিসেবেই তাঁদের পিতা-মাতারা তাদের ঐ নামগুলো রেখেছিলেন। অর্থাৎ তাঁরা তাদের নেতার আদেশকে বাস্তবায়নের জন্যই জ্ঞানচর্চা করতেন। এমনিভাবে রাদেয়া নামের এক সুপণ্ডিত মহিলা ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। যেহেতু তখনও বই ছাপার প্রেস আবিষ্কৃত হয়নি তাই হাতে লেখার উপরই নির্ভর করতে হোত জ্ঞান অনুসন্ধানকারীদের। জ্ঞানী পুরুষদের বাড়ির মেয়েরা সে কাজে সহযোগিতা করতেন। এতে করে পুরুষদের চেয়েও মেয়েদের লেখার দক্ষতা তৈরি হোত অনেক বেশি। তাছাড়া একই জিনিস বারবার লেখার কারণে তা খুব ভালোভাবে স্মরণে থাকতো যা তারা পরবর্তীতে কাজে লাগাতেন। সে যুগে মেয়েরা বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া কোরত যার প্রমাণও ইতিহাসে রয়েছে। এখানে মনে রাখতে হবে তখন বর্তমানের মতো বিদ্যালয় ছিল না। পুরো জনপদ মিলে হয়তবা একটিমাত্র বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা ছিল আর সেখানেই ছেলে-মেয়ে সকলেই লেখাপড়া কোরত। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারীশিক্ষার ভিত্তি রচনা হয় সেই যুগের মুসলিমদের হাত ধরেই। পুরাতন আরবী সাহিত্য ও পুঁথিতে তার প্রমাণ আছে। যেমন- সালমা নামে এক বালিকার বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং দোয়াতে কলম ডুবিয়ে কালি নিয়ে খেলার উল্লেখ আছে। সুতরাং বোঝা যায় বিদ্যালয়ে, কলম ও দোয়াতের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল। (ডক্টর হামিদুল্লাহর লেখা ‘আহদে নববী কা নেযামে তালিম’ পৃষ্ঠা ৯)
এই ইতিহাস আর বর্তমানে সঠিক জায়গায় নেই। কুচক্রীদের চক্রান্তের শিকারে এবং মুসলিমদের হীনমন্যতার সুযোগে এই ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। মুসলিমরা তার স্বর্ণযুগে যে জ্ঞানবিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণ করে গেছেন তার উপরেই যে আজকের পশ্চিমা সভ্যতার যান্ত্রিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে তা আজকের মুসলিম নামধারী জাতির ক’জনই বা বিশ্বাস করবে। খ্রিস্টানদের তৈরি শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশুনা করে তাদের ভিতরে সৃষ্টি হয়েছে স্বীয় জাতির প্রতি নিদারুণ হীনম্মন্যতা আর পাশ্চাত্য প্রভুদের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা। তারা বিশ্বাস করেন, মুসলিম জাতির ইতিহাস বর্বরতার ইতিহাস, পাশবিক ভোগবিলাস আর শিয়াল কুকুরের মতো রাজ্য নিয়ে কামড়া-কামড়ির ইতিহাস। পশ্চিমারা তাদেরকে এর বেশী কিছু জানতে দেয় নি। তবে যারা সত্যানুসন্ধী হৃদয় নিয়ে বিজ্ঞানের ইতিহাস পড়বেন তারা আজও জ্ঞানের প্রতিটি অঙ্গনে মুসলিম শিক্ষকদের পদচিহ্ন খুঁজে পাবেন। এ জাতিকে মাথা এখন উঁচু করে দাঁড়াতে হলে নিজেদের প্রকৃত অতীত জানা অত্যন্ত জরুরি।
[তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট এবং আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজার ‘চেপে রাখা ইতিহাস’]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

বাবা নেই, মায়ের স্বপ্ন পূরণে ১৩ মাসে হাফেজ হলেন নাঈম!

বাবা নেই, মায়ের স্বপ্ন পূরণে ১৩ মাসে হাফেজ হলেন নাঈম!
মাত্র ১৩ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১০ বছর বয়সী শিশু মুহাম্মদ নাঈম আহমদ। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায়…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে এমপির বউ সবার আগে নেবে!

সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে এমপির বউ সবার আগে নেবে!
সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যের স্ত্রীই সবার আগে সেই কার্ড নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

নভেম্বরেই চালু হতে পারে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর!

নভেম্বরেই চালু হতে পারে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর!
আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণের পর…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষক দুখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন!

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষক দুখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন!
জন্ম থেকেই দুই হাত নেই, তবু থেমে নেই শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম। পা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিশুদের পাঠদান করে চলেছেন তিনি। এবার তাঁর…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হা’মলার অভিযোগ!

জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হা’মলার অভিযোগ!
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বার্তা সম্পাদক শৌর্য দীপ্ত সূর্য। সোমবার (১২ অক্টোবর) তিনি এ তথ্য…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

স্ত্রীর মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর প্রাণ গেল স্বামীর!

স্ত্রীর মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর প্রাণ গেল স্বামীর!
ঘরে পড়ে ছিল স্ত্রীর নিথর দেহ। শোক বুকে নিয়েই ফজরের আজান দিতে ও নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান স্বামী রোমান মোল্যা (৬০)। তবে নামাজ শেষে…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    খুলনা

তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ কক্ষে মিলল বৃদ্ধার মরদেহ!

তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ কক্ষে মিলল বৃদ্ধার মরদেহ!
রাজশাহী নগরের কেদুর মোড় এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বেলী রাণী (৭০) নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    রাজশাহী

ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের স্বর্ণ-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা গণনা শুরু!

ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের স্বর্ণ-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা গণনা শুরু!
দীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল ইসলামী আন্দোলন নেতার পদ স্থগিত!

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল ইসলামী আন্দোলন নেতার পদ স্থগিত!
ভোলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দলটির ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    বরিশাল

পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়!

পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়!
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

স্বর্ণের খনিতে বিমান হামলা, সুদানে প্রাণ গেল ৭২ জনের!

স্বর্ণের খনিতে বিমান হামলা, সুদানে প্রাণ গেল ৭২ জনের!
সুদানের নীল নদ রাজ্যে স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীদের একটি শিবিরে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত শনিবার ভোরে চালানো এ হামলায় আহত হয়েছেন…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

চট্টগ্রামে বসতঘর থেকে মদসহ স্বামী-স্ত্রী আটক!

চট্টগ্রামে বসতঘর থেকে মদসহ স্বামী-স্ত্রী আটক!
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৫০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ জলদী এলাকার শ্রীরাম মহাজন পাড়ার ৮…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    চট্টগ্রাম

নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য দিল্লিতে চালু হচ্ছে গোলাপি ই-অটো

নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য দিল্লিতে চালু হচ্ছে গোলাপি ই-অটো
নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ করতে ১ হাজার ৩০০টি গোলাপি রঙের বৈদ্যুতিক অটোরিকশা (ই-অটো) বরাদ্দের…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

সি’জারে পেটে গজ থাকায় মৃ’ত্যু ৫৫ হাজারে আপসের নথি প্রকাশ!

সি’জারে পেটে গজ থাকায় মৃ’ত্যু ৫৫ হাজারে আপসের নথি প্রকাশ!
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগের পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

সৌদির বিমানবন্দর ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ!

সৌদির বিমানবন্দর ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ!
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার মধ্যে এবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনা ঘটেছে।…
 ১২ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক